এ বছর আর্নেস্ট হেমিংওয়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য সান অলসো রাইজেস’ প্রকাশের ১০০ বছর পূর্তি হচ্ছে। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসই হেমিংওয়েকে বিশ্বজুড়ে সাহিত্যিক খ্যাতি এনে দেয় এবং স্পেনের পামপ্লোনা শহরকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করে তোলে। স্প্যানিশ ভাষায় বইটির নাম ‘ফিয়েস্তা’।
সোমবার আতশবাজির মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবারের সান ফেরমিন উৎসব। উৎসবের প্রথম ষাঁড় দৌড় অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার। টানা আট দিন ধরে চলবে এই আয়োজন।
হেমিংওয়ের ‘দ্য সান অলসো রাইজেস’ উপন্যাসটি বহু প্রজন্মের পাঠককে আকৃষ্ট করেছে। উপন্যাসটিতে ১৯২০-এর দশকের ‘জ্যাজ যুগ’-এর আমেরিকান ও ব্রিটিশ তরুণদের জীবন তুলে ধরা হয়েছে। তারা ভ্রমণ, মদ্যপান ও অসম্ভব ভালোবাসার পেছনে ছুটে নিজেদের শূন্যতা ভুলে থাকার চেষ্টা করে। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই ‘লস্ট জেনারেশন’ বা ‘হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্যারিসে বসবাসকারী একদল তরুণ লেখক ও শিল্পীকে বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করা হয়।
ষাঁড় দৌড়ের মাঠের বাইরেও রয়েছে হেমিংওয়ের একটি মূর্তি। সেখানে ‘দ্য সান অলসো রাইজেস’ উপন্যাসের শতবর্ষ উপলক্ষে একটি বড় ব্যানার টাঙানো হয়েছে। ব্যানারে উপন্যাসের একটি বিখ্যাত উদ্ধৃতি রয়েছে, যেখানে ষাঁড় দৌড় উৎসবের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে হেমিংওয়ে লিখেছিলেন—
“রোববার ৬ জুলাই দুপুরে উৎসব বিস্ফোরিত হলো। এটি বর্ণনা করার আর কোনো উপায় নেই।”
পামপ্লোনায় শেষবারের দিকের সফরগুলোতে হেমিংওয়ে থাকতেন 'গ্রান হোটেল লা পারলা'-তে। তার ব্যবহৃত কক্ষটি এখনো সংরক্ষিত আছে। সেখানে ১৯৫০-এর দশকের আসবাবপত্র রয়েছে। ষাঁড় দৌড়ের পথ দেখা যায় এমন ওই কক্ষে দুটি কাচের আলমারিতে রাখা আছে ‘দ্য সান অলসো রাইজেস’-এর বহু কপি।
তবে পামপ্লোনায় হেমিংওয়ের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও রয়েছে। নারীবাদী সমালোচকেরা তার অতিরিক্ত পুরুষতান্ত্রিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি প্রাণী অধিকারকর্মীরাও ষাঁড়ের লড়াই ও ষাঁড়যোদ্ধাদের প্রতি তার সমর্থনের সমালোচনা করেন।
‘দ্য সান অলসো রাইজেস’ উপন্যাসে হেমিংওয়ে ষাঁড়যোদ্ধাদের সাহস ও দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। তবে প্রাণী অধিকারকর্মীদের মতে, আজকের দৃষ্টিভঙ্গিতে এসব বিষয় বিতর্কিত।
সান ফেরমিন উৎসবের সময় প্রতিবাদে অংশ নেওয়া প্রাণী অধিকারকর্মী ব্রুক স্পার্লিং বলেন, “হেমিংওয়ে এমন অনেক বিষয় নিয়ে লিখেছেন, যা আজকের সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শিকার, যুদ্ধ ও সহিংসতা নিয়ে লিখেছেন। আমরা এখন এসব বিষয়কে উদযাপন করতে চাই না।”








