সাম্প্রতিক সময়ে বই পড়া, বই বাছাই ও বই কেনার ক্ষেত্রে টিকটকের ‘বুকটক’ বড়ো ধরনের প্রভাব ফেলছে। অনলাইনে বইয়ের রিভিউ দেওয়ার সংস্কৃতি নতুন নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বই নিয়ে আলোচনা ও বই সুপারিশের ধরন বদলে গেছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম বড়ো উদাহরণ ‘বুকটক’।
বুকটক মূলত টিকটকের একটি পাঠক-কমিউনিটি। এখানে পাঠক, লেখক ও কনটেন্ট নির্মাতারা নিজেদের পড়া বই, বইয়ের রিভিউ, লেখালেখি এবং পাঠ-অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
এই কমিউনিটির জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদের ‘বুকটকার’ বলা হয়। তারা বই আনবক্সিং, বুকশেলফ ট্যুর, বইয়ের সুপারিশসহ নানা ধরনের ভিডিয়ো তৈরি করেন।
যদিও সব ধরনের বই নিয়েই আলোচনা হয়, তবু ইয়াং অ্যাডাল্ট ও রোমান্টাসি (রোমান্স ও ফ্যান্টাসির মিশ্র ধারা) সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। নতুন বইয়ের পাশাপাশি পুরোনো বইও নতুন করে আলোচনায় আসে।
বুকটকের সূচনা ঠিক কে করেছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। তবে ২০১৯ সালের দিকে টিকটকে #BookTok হ্যাশট্যাগ ব্যবহার শুরু হয়। ২০২০ ও ২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে লকডাউন চলাকালে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। বর্তমানে টিকটকে #BookTok হ্যাশট্যাগে ৭ কোটি ৪০ লাখের বেশি পোস্ট রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে #Bookstagram হ্যাশট্যাগে পোস্টের সংখ্যা ১২ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি। একই প্ল্যাটফর্মে #BookTok হ্যাশট্যাগেও রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ পোস্ট। অন্যদিকে, রেডিটের r/BookTokReddit কমিউনিটিতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪৭ হাজার ব্যবহারকারী সক্রিয় থাকেন।
বিপণন বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ সেকেন্ডের ছোট ভিডিয়ো তরুণদের কাছে বেশি আকর্ষণীয়। ফলে কোনো বই বুকটকে ট্রেন্ড করলে অনেকেই কৌতূহলবশত সেটি কিনে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাল হওয়ার পরই বইটি বেস্টসেলারের তালিকায় উঠে আসে।
বুকটকের জনপ্রিয়তা ও প্রভাবকে স্বীকৃতি দিতে ২০২৩ সালে টিকটক প্রথমবারের মতো ‘বুকটক বুক অ্যাওয়ার্ডস’ চালু করে। এই পুরস্কারের মাধ্যমে বছরের আলোচিত বই, লেখক ও কনটেন্ট নির্মাতাদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি









