গ্রান্টা’র প্রথম দিকের অন্যতম প্রধান লেখকদের একজন ছিলেন সালমান রুশদি, যখন পত্রিকাটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটামাত্র ঘর থেকে প্রকাশিত হতো। পত্রিকাটির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তিনি এর পাতায় ফিকশন, প্রতিবেদন, কবিতা, স্মৃতিকথা ও সাহিত্যিক প্রবন্ধ লিখেছেন। এই বসন্তে, ‘গ্রান্টা’-এর সম্পাদক ম্যানহাটনে রুশদির বাসভবনে তার সঙ্গে দেখা করতে যান। তারা পত্রিকাটির সঙ্গে তার সম্পর্ক, ভারতীয় কথাসাহিত্যের গতিপথ এবং ভারতীয় রাজনীতির সাথে তার সম্বন্ধ নিয়ে এক ঘণ্টা কথা বলেন। তাদের কথোপকথনের কিছু অংশ সম্পাদকের ফোনে রেকর্ড করা হয়েছিল। সবার জন্য বোধগম্য করার জন্য তা সামান্য সম্পাদনা করা হয়েছে।
সম্পাদক: ‘গ্রান্টা’-এর প্রথম সম্পাদক বিল বুফোর্ড একটা মজার গল্প বলেন: তিনি ট্রেনে ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’-এর প্রুফের একটা কপি পড়ছিলেন এবং আপনার সাথে পরিচিত হওয়ার বা দেখা হওয়ার আগেই বইটার প্রেমে পড়ে যান। তারপর আপনার অনুমতি ছাড়াই এর একটা অংশ এই পত্রিকায় প্রকাশ করেন।
সালমান রুশদি: ‘গ্রান্টা ৩’-এ।
সম্পাদক: ‘গ্রান্টা ৩’-এ।
রুশদি: আমি একটা পার্টিতে এ ব্যাপারে জানতে পারি। জোনাথন কেইপ প্রতি বছর ক্রিসমাসের কাছাকাছি সময়ে লেখকদের জন্য এক বিশাল পার্টির আয়োজন করত। সেই সময়ে পার্টিটা আরও বেশি জমকালো হতো, কারণ তারা কোনও সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানাত না, শুধু লেখকদেরই ডাকত। ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’ তখনও প্রকাশিত হয়নি। সময়টা ছিল ১৯৮০ সালের ডিসেম্বর মাস, তবে সম্ভবত বইটির একটা প্রুফ কপি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আমি তখন নতুন, কেইপের পার্টিতে গিয়েছিলাম, আমার চারপাশে ছিলেন ডরিস লেসিং, জন ফাউলজের মতো এমন লেখক, যাদের কথা চিন্তাই করতে পারতাম না। মার্টিন (অ্যামিস) সেখানে ছিল। সেখানেই তাঁর সাথে আমার দেখা হয়।
সম্পাদক: সেখানেই অ্যামিসের সাথে আপনার প্রথম দেখা হয়েছিল?
রুশদি: হ্যাঁ। কিন্তু তারপর বিল বুফোর্ড এলেন, যার সাথে আমার আগে কখনো দেখা হয়নি। তিনি বললেন, ‘আপনাকে দেখানোর মতো একটা জিনিস আছে আমার কাছে।’ এরপর তিনি আমাকে বিল্ডিংয়ের সামনের দিকে নিয়ে গেলেন, যেখানে তিনি তাঁর ব্রিফকেসটি রেখেছিলেন এবং ‘গ্রান্টা ৩’-এর একটা কপি বের করলেন। তিনি বললেন, ‘দেখুন, এই যে মিডনাইট’স চিলড্রেন-এর প্রথম অধ্যায়।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘এটা ঠিক কীভাবে এখানে এলো?’ তখন তিনি বললেন যে তিনি কেইপ-এর প্রকাশক টম ম্যাশলারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এবং টম ম্যাশলার ‘ঠিক আছে’ বলেছিলেন। কিন্তু আমাকে কেউ এটার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেনি।
সম্পাদক: আপনি কি কোনো কিছুতে সই করেননি?
রুশদি: না। আমি বলেছিলাম, ‘দেখুন, পারিশ্রমিকের প্রশ্নটা তো উঠছে।’
সম্পাদক: আমরা এই দেনাটা এখানেই, এখনই মিটিয়ে ফেলতে পারি।
রুশদি: আমার মনে হয়, ঘটনাটা ঘটে যাওয়ার পর তারা আমাকে প্রায় ৪০ পাউন্ডের মতো দিয়েছিল।
সম্পাদক: মনে হচ্ছে আপনি বিষয়টা বেশ স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন।
রুশদি: আসলে, ওটা তো ছিলই, ওটার অস্তিত্ব আগে থেকেই ছিল। মানে, ‘গ্রান্টা ৩’ খুব আকর্ষণীয়। ওখান থেকেই পত্রিকাটা তার নিজস্ব ছন্দ খুঁজে পেতে শুরু করে। অ্যাঞ্জেলা কার্টার, রাসেল হোবান এবং আরও অনেক ভালো ভালো মানুষ ওই সংখ্যাটাতে ছিলেন। তাদের সঙ্গটা ছিল চমৎকার।
আমার মনে আছে, যখন ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’ বের হলো, ‘গ্রা’ন্টা’’ তখনও কেমব্রিজের একটা আর্ট গ্যালারির ওপরের একটা ঘর থেকে প্রকাশিত হতো। বিল আমাকে বই পাঠের একটা অনুষ্ঠানে জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সেটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম বই পাঠ।
বিল আর আমার মধ্যে সঙ্গে সঙ্গেই খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল। সেই বুলশিটের কারণে আমি কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলাম (কারণ ম্যাশলার আমাকে কখনো নিশ্চিত করেননি যে তিনি বিলকে অনুমতি দিয়েছিলেন কি না এবং লিখিত কিছু ছিলও না, যা আসলে থাকা উচিত ছিল), কিন্তু আমি ভাবলাম, এটাতে তো ভালোই হলো।
সম্পাদক: বুফোর্ড সেই সময় নিজেকে খুব কৌশলী একজন হিসেবে বলতেন। কিন্তু একটা ছোট পত্রিকা নিয়ে তো এমনই হতে হয়, তাই না?
রুশদি: হ্যাঁ। আমি তার সম্পর্কে যত জানলাম... 'গ্রান্টা ১’-এর জন্য তিনি জীবিত প্রত্যেক বিখ্যাত আমেরিকান লেখককে চিঠি দিয়ে আনিয়েছিলেন, ‘আমি আপনাদের কাছ থেকে ভালো কিছু চাই।’ আশ্চর্যজনকভাবে, তাদের অনেকেই তাকে লেখা পাঠিয়েছিলেন।
সম্পাদক: মনে হচ্ছে ১৯৮০-এর দশকে আপনার কাজকে দেখার একাধিক উপায় আছে। একটা উপায় এমন হতে পারে, ‘তিনি বোম্বে থেকে এসেছেন’ এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে আছেন সাদাত হাসান মান্টো। আরেকটি উপায় হতে পারে, ভালো কোনো শব্দ না থাকায়, ‘বিশ্বসাহিত্য’; অনেকটা এইরকম যে, ‘ওহ্, ইনিই মার্কেস, কিন্তু ভারতের’। কিন্তু বিষয়টাকে দেখার আরেকটা উপায়ও আছে, আর তা হলো, আপনি লন্ডনে এমন একটা জেনারেশনের অংশ ছিলেন, যাদের সাথে ইয়ান ম্যাকইউয়ান এবং মার্টিন অ্যামিসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এখন আপনি সেই জেনারেশনকে কীভাবে দেখেন?
রুশদি: ওই সব কথাই সত্যি। জেনারেশনের ব্যাপারটা বলতে গেলে, সেই সময়ে সবাই আমাদের একটা জেনারেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।
সম্পাদক: বিশেষ করে ‘গ্রান্টা’-ও এর মধ্যে ছিল।
রুশদি: মার্টিন, ইয়ান, জুলিয়ান (বার্নেস), ইশ (কাজুও ইশিগুরো) এবং অ্যাঞ্জেলা। আমাদের মধ্যে কয়েকজনের খুব ভালো বনিবনা ছিল। কয়েকজন তো একে অপরকে ঠিকমতো চিনতামই না। কয়েকজন তো আবার একে অপরের কাজ পছন্দও করতাম না। আমার মনে হয়, আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের একটা জেনারেশন বলার ধারণাটাকে প্রতিহত করেছিলাম। আর আমাদের কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পও ছিল না, তাই না? আমরা সবাই একে অপরের থেকে অনেকটাই আলাদা ছিলাম।

সম্পাদক: কিন্তু কিছু মিলও তো আছে। যেমন, সেই সময়ের বা আপনার আগের বা পরের জেনারেশনের সব ঔপন্যাসিক আপনার মতো করে ঐতিহাসিক সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবছিলেন না। অথচ আপনার ‘জেনারেশনে’ আপনি দেশভাগ নিয়ে লিখছেন। ম্যাকইউয়ানের প্রথম দিকের একটা উপন্যাস জার্মানি ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে লেখা। অ্যামিস শুরুতে অতটা সেভাবে ছিলেন না, কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে তিনি নাৎসি ও স্তালিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এই পথেই এগিয়েছিলেন। ইশিগুরো তাঁর উপন্যাসের পটভূমিতে এই কাজটা করেন।
রুশদি: আমি এমন এক দেশ থেকে এসেছিলাম যার মাত্রই জন্ম হয়েছিল। আর সেই সময়ে সাম্রাজ্যের বিষয়টা বেশ প্রকট ছিল। আমার ইংল্যান্ডের পাবলিক স্কুলের অভিজ্ঞতা ছিল খুব খারাপ এবং তারপর আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে খুব ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তাই ইংল্যান্ডকে আমি ভালোভাবেই চিনেছিলাম।
সম্পাদক: আপনারা দুজনেই যে আমাদের জন্য একটা অলক্ষ্য জায়গা তৈরি করেছেন, এই বিষয়টি নিয়ে আপনি কি কখনো ইশিগুরোর সাথে কথা বলেছেন? তিনি খুব অল্প বয়সেই দেশ ছেড়েছিলেন, কিন্তু এখনও নানাভাবে প্রায়ই সেদিকে ফিরে যান।
রুশদি: আমি তার হয়ে কথা বলতে চাই না। আমার মনে হয়, জাপানের বিষয়টা তার কাছে আগের মতো আর ততটা প্রকট না। তার পরবর্তী লেখাগুলোর বড় সাফল্য, যেমন ‘নেভার লেট মি গো’ (২০০৫), সত্যিই উৎসের প্রসঙ্গ থেকে সরে এসেছে। আমি ঠিক সেভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারিনি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত না এমন একজনকে কেন্দ্রীয় চরিত্র রাখা আমার জন্য প্রায় অসম্ভব।
সম্পাদক: তবে, ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকের সেই মুহূর্তে এমনটা মনে হয় যে, আপনি আসলে আপনার শৈশবের হারিয়ে যাওয়া ভারতের প্রতি এক ধরনের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন, অথবা নিজের মনে সেটাকে সামনে আনার চেষ্টা করছেন।
রুশদি: ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি আমি যখন ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’ লেখা শুরু করি, তখন আমি বেশ কিছুদিন ধরে ভারতের বাইরে থাকছিলাম, এবং আমার বাবা-মা একটু হতাশা নিয়েই পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। সেই দেশটা নিয়ে আমার কোনো আকর্ষণ ছিল না। তাই আমার মধ্যে একটা উদ্বেগ ছিল যে আমি যেখান থেকে এসেছি, তার সাথে সংযোগ হারিয়ে ফেলব। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমার এমন একটা বই লেখা উচিত যা সেই সংযোগকে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করবে। আমি সবসময় মিডনাইট’স চিলড্রেন-কে সেই বই হিসেবেই ভেবেছি যা আমার জন্য সেই ভূখণ্ডকে পুনরুদ্ধার করেছিল।
সম্পাদক: আপনি ‘গ্রান্টা ১১’ (১৯৮৪)-এর জন্য ব্রিটিশ রাজ এবং তার চিত্রায়ণ নিয়ে একটা মজার লেখা লিখেছিলেন। আমার মনে হয়, ওটা সেই বছরই ছিল যখন পল স্কটের ‘রাজ কোয়ার্টেট’ (১৯৬৬-৭৫) টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছিল। সেখানে যে বিষয়গুলো উঠে আসে তার মধ্যে একটা হলো, আপনাকে ই. এম. ফস্টার থেকে শুরু করে স্কট, টিভি, পপ সংস্কৃতি পর্যন্ত বিস্তৃত এক বিশাল ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। আপনাকে এমন কিছুর সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয়েছিল যা খুব বড় পরিসরে কাজ করছে।
রুশদি: যখন আমি ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’ লেখা শেষ করি, আমি আসলে নিশ্চিত ছিলাম না যে কেউ এটা প্রকাশ করতে চাইবে কিনা। কারণ এটা ছিল অনেক দীর্ঘ, এক অদ্ভুত ইংরেজিতে লেখা এবং এতে প্রায় কোনো শ্বেতাঙ্গ চরিত্র ছিল না, আর এটা ভারতে ব্রিটিশদের অভিজ্ঞতা নিয়েও ছিল না, যা নিয়ে বাকি সবকিছু লেখা হয়েছিল। অবশ্যই ‘এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’ (১৯২৪) আছে, ‘হিট অ্যান্ড ডাস্ট’ (১৯৭৫), এই ধরনের বই ছিল। ওই বইটি লেখাটা ছিল একটা বড় জুয়া এবং, যাইহোক, আমার মনে হয় সেটা সফল হয়েছিল।
সম্পাদক: আমার জেনারেশনের লোকেরা প্রায়শই একটা বিষয় ভুলে যায় যে, আয়াতুল্লাহ খোমেনি ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ (১৯৮৮)-এর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করার অনেক আগেই ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’ ভারতীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।
রুশদি: ইন্দিরা গান্ধী আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। একটা মাত্র বাক্য নিয়ে মামলা হয়েছিল, যেখানে আমি সঞ্জয় গান্ধীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছিলাম। তিনি এটা পছন্দ করেননি। কারণ আমি বলেছিলাম যে, তাদের বিচ্ছেদের কারণে সঞ্জয় গান্ধীর বাবার অকালমৃত্যু হয়। সেজন্য তিনি তাকে তাকে দায়ী করেছিলেন, যা ভারতে একটা সুপরিচিত ঘটনা। এটা বহুবার প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু তিনি এই বিষয়টাকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। আর সমস্যাটা ছিল যে, এটা ছিল তিনজনের একটা মামলা, যাদের মধ্যে দুজন ছিলেন মৃত এবং তৃতীয়জন আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।
সম্পাদক: এটার সুরাহা হয়েছিল কীভাবে?
রুশদি: তাকে তো পরে হত্যা করা হয়েছিল। মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানি করা যায় না। শেষ পর্যন্ত এটা একটা খুবই শান্ত ধরনের মামলা ছিল। তিনি শুধু চেয়েছিলেন আমরা যেন বইটা থেকে বাক্যটা ফেলে দেই । এমনকি ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে যাওয়া বইগুলোও তিনি প্রত্যাহার করতে চাননি। আমি বলেছিলাম, ‘দেখুন, এটা যে খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো বাক্য এমনও না। সত্যিই আমাদের এটা মুছে ফেলার দরকার হলে আমরা সেটা করব, কিন্তু বইটার পুনর্মুদ্রণ করা প্রয়োজন।’ কিন্তু তারপর তো তাকে হত্যা করা হলো।
সম্পাদক: একটা চূড়ান্ত ফলাফল। কিন্তু মামলাটা নিশ্চয়ই আপনাকে কিছুটা চাপে ফেলেছিল।
রুশদি: মানে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর করা মামলা ছিল ভয়াবহ। আইনজীবীদের সাথে আমার কিছু খুব অদ্ভুত কথাবার্তা হয়েছিল। টম ম্যাশলার, আমি, এবং আইনজীবীরা। আমার মনে আছে, কেইপ যে খুব প্রভাবশালী একজন আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছিল। তাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘তাহলে, আত্মপক্ষ সমর্থনের উপায় কী?’ তিনি বলেছিলেন, ‘আচ্ছা, কাউকে মানহানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হতে হলে, আপনি যার মানহানি করছেন তাকে অবশ্যই একজন সৎ চরিত্রের মানুষ হতে হবে। সুতরাং, আপনি যদি আমাকে বোঝাতে পারেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী একজন সৎ চরিত্রের মানুষ না, তাহলে আপনার আত্মপক্ষ সমর্থনের একটা সুযোগ থাকবে।’ এবং আমি বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে, তাহলে আমরা ইংল্যান্ডের আদালতে জরুরি আবেদন করার চেষ্টা করতে পারি।’ টম ম্যাশলারের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
সম্পাদক: জরুরি আবেদন করার চেষ্টা: সেটা অন্যরকম একটা ব্যাপার হতো।
রুশদি: হ্যাঁ। যদিও স্পষ্টভাবেই সেটা দারুণ ঝুঁকিপূর্ণ একটা পথ। আর নিশ্চিতভাবেই কেইপ সেই পথে যেতে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম, এমন বিচারক থাকাটা চমৎকার হবে যাদেরকে তিনি প্রভাবিত করতে পারবেন না, যারা জরুরি আবেদনের খারাপ দিকগুলো খতিয়ে দেখবেন।
সম্পাদক: কিন্তু এতে এমন একটা বিষয় চলে আসে যা নিয়ে আমি কৌতূহলী, আর তা হলো, ভারতের ব্যাপারে আপনি একরকম স্থায়ী বিরোধী পক্ষেই থেকেছেন।
রুশদি: আমি সবসময়ই ভুল পক্ষে ছিলাম। রাজীব গান্ধীই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ নিষিদ্ধ করেছিলেন।
সম্পাদক: ফতোয়ার আগে।
রুশদি: ফতোয়ার আগে। কারণ তিনি দু-একজন মুসলিম এমপির কাছ থেকে কিছু প্রতিবাদ পেয়েছিলেন। ব্লক ভোটের রাজনীতি। আর যখন ‘শেইম’ (১৯৮৩) বের হবার পর জিয়া-উল-হকের কারণে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। আমার মনে হয়, আপনি যদি এমন একটা উপন্যাস লেখেন যা একজন পাকিস্তানি স্বৈরশাসককে ব্যঙ্গ করে লেখা, আর ঘটনাচক্রে সেই সময়ে পাকিস্তানে একজন স্বৈরশাসকই ক্ষমতায় থাকেন...
সম্পাদক: ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’-এর আগের এবং পরের ভারতীয় সাহিত্যকর্মের দিকে তাকালে মনে হয় যে, ঐ উপন্যাসটা নিজস্ব একটা ধারা তৈরি করেছিল এবং বহু ভারতীয় লেখক, সম্ভবত প্রয়োজনের চেয়েও বেশি, এর স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। আর এই সবকিছুই ছিল শুধু ইংরেজিতে। ১৯৯৭ সালে আপনি ভারতীয় সাহিত্যের একটা সংকলন ‘মিররওয়ার্ক’-এর ভূমিকা লেখেন। এবং সেখানে আপনি বলেছিলেন যা এখন আগের চেয়ে আরও বেশি বিতর্কিত শোনায়, যে ভারতের আঞ্চলিক ভাষাগুলো আকর্ষণীয় হতে পারে, সেখানে অবশ্যই গল্প আছে, কিন্তু সেগুলো মূলত প্রাদেশিক হবে। আসল আকর্ষণটা থাকবে শুধু ইংরেজিতে লেখা ভারতীয় সাহিত্যে। সত্যি বলতে, আমার যতদূর মনে পড়ে, আপনি ঐ সংকলনে একমাত্র আঞ্চলিক ভাষার লেখক হিসেবে মান্টোকেই অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
রুশদি: আমি যে কী একটা ঝামেলায় পড়েছিলাম!
সম্পাদক: কিন্তু ধরুন আপনি ঠিকই বলেছিলেন। আপনার কী মনে হয়, সেই মুহূর্তের পর কী ঘটেছে? কারণ এখন তো ঠিক তার উল্টোটাই মনে হচ্ছে। আপনি দিল্লি বা মুম্বাইয়ের প্রকাশকদের সাথে কথা বলুন, দেখবেন সবকিছুই অনুবাদকে ঘিরে। এখন খাঁটি লেখা পাবার জন্য একটা তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। পুরস্কার কমিটিগুলো এর প্রতি পুরোপুরি মোহিত।
রুশদি: আমার মনে হয়, তিনটা বিষয় ঘটেছে। প্রথমত, ভারতে প্রকৃত প্রকাশনা শিল্প এখন অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত। এটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বড় পরিসরে বিস্তৃত। দ্বিতীয়ত, হ্যাঁ, তারা অনুবাদ করা শুরু করেছে। ভারতে একটা বড় সমস্যা ছিল ভারতীয় ভাষাগুলোর মধ্যে অনুবাদ করা। আপনি যদি বাংলায় লিখতেন, তবে হিন্দিতে কেউ তা পড়তে পারত না, যার মধ্যে রবীন্দ্রনাথও ছিলেন। যে অনুবাদগুলো ছিল, সেগুলো খুব একটা ভালো হতো না। এই সবকিছুর অনেক উন্নতি হয়েছে, তাই মানুষ এখন আর আগের মতো ভাষাগত সীমানায় সীমাবদ্ধ না। ইংরেজি যেভাবে সীমানা অতিক্রম করে, তারাও সেভাবে সীমানা অতিক্রম করতে পারে। এবং তৃতীয়ত, ইংরেজিতে লেখালেখি বহু রূপে প্রসারিত হয়েছে; এটা শুধু সাহিত্যিক উপন্যাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখন পাল্প ফিকশন, রোমান্টিক ফিকশন, এরোটিক ফিকশনও রয়েছে, তাই প্রকাশনার পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে, যা একটা ভালো দিক। আমার মনে হয়, ভারতে এখনকার তরুণ লেখকরা হয়তো আমার মতো অনুভব করবেন না যে, আমি আসলে সেখানে শুরুটাই করতে পারিনি, কারণ তখন কোনো সাহিত্য জগৎ ছিল না। এখন একটা সাহিত্য জগৎ আছে।
সম্পাদক: তাহলে আপনি মনে করেন, কলকাতার একজন লেখক যিনি বাংলায় লেখেন, তার লেখা গুজরাটি ভাষায় অনূদিত হওয়ার সম্ভাবনা আজ বেশি?
রুশদি: সমস্যাটা এখনও এটাই—বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অনুবাদ। এছাড়াও, ইংরেজি থেকে ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ। কিন্তু সেটা হচ্ছে। জানেন, আমার লেখা হিন্দিতে প্রকাশিত হতে অনেক সময় লেগেছিল। কিন্তু এখন আমার লেখা বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় প্রকাশিত হয়: মালয়ালম, হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, ইত্যাদি। সুতরাং এই সবকিছুই একটা অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি। আমার মনে হয়, ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’ এমন একটা কাজ করেছিল যেটাকে আপনি লাথি মেরে দরজা খুলে ফেলার সাথে তুলনা করতে পারেন। এটা ইংরেজি ভাষায় লেখা ভারতীয় লেখকদের এই অনুভূতি দিয়েছিল যে তাদের কথা শোনা হবে, তাদের পাশ্চাত্য লেখার অনুকরণ করতে হবে না। তাঁরা নিজেদের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর খুঁজে নিতে পারবেন।
সম্পাদক: এর মানে হচ্ছে আপনি বলতে চাইছেন যে ইংরেজিতে লেখা হওয়া সত্ত্বেও এটা এমন এক ধারাবাহিক দরজা খুলে দিয়েছিল যা আমাদের মূলত আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে, যেখানে একজন ভারতীয় লেখক আঞ্চলিক ভাষায় লিখেও আন্তর্জাতিক পাঠক খুঁজে পেতে পারেন? আপনি আপনার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে চলচ্চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা বিষয়। মাধ্যমটির কারণে। সত্যজিৎ রায়ের মতো একজন পরিচালক নিজের শর্তে, নিজের ভাষায় একজন দিকপাল হয়ে উঠতে পারতেন।
রুশদি: কিন্তু ভারতে তার সাথে তখনও খারাপ আচরণ করা হয়েছিল। বলিউডের লোকেরা এটা পছন্দ করেনি। পশ্চিমাদের জন্য ভারতের নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরার জন্য রায় অনেক বড় তারকার সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন। ভারতের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র তারকা, নার্গিস, যিনি 'মাদার ইন্ডিয়া' (১৯৫৭) ছবিতে অভিনয় করেছিলেন, তিনি এর জন্য তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি ভারতের ইতিবাচক অর্জন, যেমন বাঁধ নির্মাণ নিয়ে ছবি বানান না কেন?’
সম্পাদক: বাঁধ নিয়ে রায়ের ছবি। আমি সেটা দেখব।
রুশদি: রায় তার জীবনে একবার ‘দ্য চেস প্লেয়ার্স’ (১৯৭৭) ছবিটা নিয়ে হিন্দি বাজারে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিলেন। এটা হিন্দি চলচ্চিত্র তারকাদের নিয়ে হিন্দিতে নির্মিত হয়েছিল। তখন বোম্বে চলচ্চিত্র শিল্প-এর পরিবেশনা আটকাতে খুব চেষ্টা করেছিল। এবং কিছুটা সফলও হয়েছিল। যদিও চলচ্চিত্রটা তার দর্শকসংখ্যা বাড়ানোর জন্য নির্মিত হয়েছিল, কিন্তু তা হতে প্রায় বাধাই পড়ে গিয়েছিল।
সম্পাদক: মনে হচ্ছে, মোদী যুগে অনেক আঞ্চলিক ভাষাই এক অদ্ভুত উপায়ে লাভবান হয়েছে। কারণ, দিল্লি যেমন হিন্দির প্রসারে সমর্থন জোগাচ্ছে, তেমনই এটা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের স্থানীয় ভাষাগুলোকে আরও সুসংহতভাবে এর মোকাবিলা করতে উৎসাহিত করছে।
রুশদি: আর এই সবকিছুই তাদের আরও বেশি আন্তর্জাতিক মনোযোগ এনে দেয়, জানেন তো। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার এমন দুটি ভারতীয় বইকে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো মূলত ইংরেজিতে লেখা নয় [গীতাঞ্জলি শ্রী-এর ‘টুম্ব অফ স্যান্ড’ (হিন্দি থেকে ইংরেজি অনুবাদ: ডেইজি রকওয়েল, ২০২১) এবং বানু মুশতাকের ‘হার্ট ল্যাম্প’ (কন্নড় থেকে ইংরেজি অনুবাদ: দীপা ভাস্তি, ২০২৫)]। ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে এই ধরনের ঘটনা কখনোই সম্ভব হতো না।
সম্পাদক: আপনি এবং নাইপল দুজনেই ফিকশন ও বাস্তবধর্মী রচনায় ভারতীয় অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যাকারী। কিন্তু, বিশেষ করে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, আপনাদের মধ্যে অনেক বড় ব্যবধান রয়েছে।
সম্পাদক: এটার সুরাহা হয়েছিল কীভাবে?
রুশদি: তাকে তো পরে হত্যা করা হয়েছিল। মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানি করা যায় না। শেষ পর্যন্ত এটা একটা খুবই শান্ত ধরনের মামলা ছিল। তিনি শুধু চেয়েছিলেন আমরা যেন বইটা থেকে বাক্যটা ফেলে দেই। এমনকি ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে যাওয়া বইগুলোও তিনি প্রত্যাহার করতে চাননি। আমি বলেছিলাম, ‘দেখুন, এটা যে খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো বাক্য এমনও না। সত্যিই আমাদের এটা মুছে ফেলার দরকার হলে আমরা সেটা করব, কিন্তু বইটার পুনর্মুদ্রণ করা প্রয়োজন।’ কিন্তু তারপর তো তাকে হত্যা করা হলো।
সম্পাদক: একটা চূড়ান্ত ফলাফল। কিন্তু মামলাটা নিশ্চয়ই আপনাকে কিছুটা চাপে ফেলেছিল।
রুশদি: মানে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর করা মামলা ছিল ভয়াবহ। আইনজীবীদের সাথে আমার কিছু খুব অদ্ভুত কথাবার্তা হয়েছিল। টম ম্যাশলার, আমি, এবং আইনজীবীরা। আমার মনে আছে, কেইপ যে খুব প্রভাবশালী একজন আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছিল। তাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘তাহলে, আত্মপক্ষ সমর্থনের উপায় কী?’ তিনি বলেছিলেন, ‘আচ্ছা, কাউকে মানহানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হতে হলে, আপনি যার মানহানি করছেন তাকে অবশ্যই একজন সৎ চরিত্রের মানুষ হতে হবে। সুতরাং, আপনি যদি আমাকে বোঝাতে পারেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী একজন সৎ চরিত্রের মানুষ না, তাহলে আপনার আত্মপক্ষ সমর্থনের একটা সুযোগ থাকবে।’ এবং আমি বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে, তাহলে আমরা ইংল্যান্ডের আদালতে জরুরি আবেদন করার চেষ্টা করতে পারি।’ টম ম্যাশলারের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
সম্পাদক: জরুরি আবেদন করার চেষ্টা: সেটা অন্যরকম একটা ব্যাপার হতো।
রুশদি: হ্যাঁ। যদিও স্পষ্টভাবেই সেটা দারুণ ঝুঁকিপূর্ণ একটা পথ। আর নিশ্চিতভাবেই কেইপ সেই পথে যেতে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম, এমন বিচারক থাকাটা চমৎকার হবে যাদেরকে তিনি প্রভাবিত করতে পারবেন না, যারা জরুরি আবেদনের খারাপ দিকগুলো খতিয়ে দেখবেন।
সম্পাদক: কিন্তু ধরুন আপনি ঠিকই বলেছিলেন। আপনার কী মনে হয়, সেই মুহূর্তের পর কী ঘটেছে? কারণ এখন তো ঠিক তার উল্টোটাই মনে হচ্ছে। আপনি দিল্লি বা মুম্বাইয়ের প্রকাশকদের সাথে কথা বলুন, দেখবেন সবকিছুই অনুবাদকে ঘিরে। এখন খাঁটি লেখা পাবার জন্য একটা তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। পুরস্কার কমিটিগুলো এর প্রতি পুরোপুরি মোহিত।
রুশদি: আমার মনে হয়, তিনটা বিষয় ঘটেছে। প্রথমত, ভারতে প্রকৃত প্রকাশনা শিল্প এখন অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত। এটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বড় পরিসরে বিস্তৃত। দ্বিতীয়ত, হ্যাঁ, তারা অনুবাদ করা শুরু করেছে। ভারতে একটা বড় সমস্যা ছিল ভারতীয় ভাষাগুলোর মধ্যে অনুবাদ করা। আপনি যদি বাংলায় লিখতেন, তবে হিন্দিতে কেউ তা পড়তে পারত না, যার মধ্যে রবীন্দ্রনাথও ছিলেন। যে অনুবাদগুলো ছিল, সেগুলো খুব একটা ভালো হতো না। এই সবকিছুর অনেক উন্নতি হয়েছে, তাই মানুষ এখন আর আগের মতো ভাষাগত সীমানায় সীমাবদ্ধ না। ইংরেজি যেভাবে সীমানা অতিক্রম করে, তারাও সেভাবে সীমানা অতিক্রম করতে পারে। এবং তৃতীয়ত, ইংরেজিতে লেখালেখি বহু রূপে প্রসারিত হয়েছে; এটা শুধু সাহিত্যিক উপন্যাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখন পাল্প ফিকশন, রোমান্টিক ফিকশন, এরোটিক ফিকশনও রয়েছে, তাই প্রকাশনার পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে, যা একটা ভালো দিক। আমার মনে হয়, ভারতে এখনকার তরুণ লেখকরা হয়তো আমার মতো অনুভব করবেন না যে, আমি আসলে সেখানে শুরুটাই করতে পারিনি, কারণ তখন কোনো সাহিত্য জগৎ ছিল না। এখন একটা সাহিত্য জগৎ আছে।
সম্পাদক: তাহলে আপনি মনে করেন, কলকাতার একজন লেখক যিনি বাংলায় লেখেন, তার লেখা গুজরাটি ভাষায় অনূদিত হওয়ার সম্ভাবনা আজ বেশি?
রুশদি: সমস্যাটা এখনও এটাই—বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অনুবাদ। এছাড়াও, ইংরেজি থেকে ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ। কিন্তু সেটা হচ্ছে। জানেন, আমার লেখা হিন্দিতে প্রকাশিত হতে অনেক সময় লেগেছিল। কিন্তু এখন আমার লেখা বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় প্রকাশিত হয়: মালয়ালম, হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, ইত্যাদি। সুতরাং এই সবকিছুই একটা অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি। আমার মনে হয়, ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’ এমন একটা কাজ করেছিল যেটাকে আপনি লাথি মেরে দরজা খুলে ফেলার সাথে তুলনা করতে পারেন। এটা ইংরেজি ভাষায় লেখা ভারতীয় লেখকদের এই অনুভূতি দিয়েছিল যে তাঁদের কথা শোনা হবে, তাঁদের পাশ্চাত্য লেখার অনুকরণ করতে হবে না। তাঁরা নিজেদের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর খুঁজে নিতে পারবেন।
সম্পাদক: এর মানে হচ্ছে আপনি বলতে চাইছেন যে ইংরেজিতে লেখা হওয়া সত্ত্বেও এটা এমন এক ধারাবাহিক দরজা খুলে দিয়েছিল যা আমাদের মূলত আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে, যেখানে একজন ভারতীয় লেখক আঞ্চলিক ভাষায় লিখেও আন্তর্জাতিক পাঠক খুঁজে পেতে পারেন? আপনি আপনার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে চলচ্চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা বিষয়। মাধ্যমটির কারণে। সত্যজিৎ রায়ের মতো একজন পরিচালক নিজের শর্তে, নিজের ভাষায় একজন দিকপাল হয়ে উঠতে পারতেন।
রুশদি: কিন্তু ভারতে তার সাথে তখনও খারাপ আচরণ করা হয়েছিল। বলিউডের লোকেরা এটা পছন্দ করেনি। পশ্চিমাদের জন্য ভারতের নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরার জন্য রায় অনেক বড় তারকার সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন। ভারতের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র তারকা, নার্গিস, যিনি 'মাদার ইন্ডিয়া' (১৯৫৭) ছবিতে অভিনয় করেছিলেন, তিনি এর জন্য তাকে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি ভারতের ইতিবাচক অর্জন, যেমন বাঁধ নির্মাণ নিয়ে ছবি বানান না কেন?’
সম্পাদক: বাঁধ নিয়ে রায়ের ছবি। আমি সেটা দেখব।
রুশদি: রায় তার জীবনে একবার ‘দ্য চেস প্লেয়ার্স’ (১৯৭৭) ছবিটা নিয়ে হিন্দি বাজারে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিলেন। এটা হিন্দি চলচ্চিত্র তারকাদের নিয়ে হিন্দিতে নির্মিত হয়েছিল। তখন বোম্বে চলচ্চিত্র শিল্প-এর পরিবেশনা আটকাতে খুব চেষ্টা করেছিল। এবং কিছুটা সফলও হয়েছিল। যদিও চলচ্চিত্রটা তার দর্শকসংখ্যা বাড়ানোর জন্য নির্মিত হয়েছিল, কিন্তু তা হতে প্রায় বাধাই পড়ে গিয়েছিল।
সম্পাদক: মনে হচ্ছে, মোদি যুগে অনেক আঞ্চলিক ভাষাই এক অদ্ভুত উপায়ে লাভবান হয়েছে। কারণ, দিল্লি যেমন হিন্দির প্রসারে সমর্থন জোগাচ্ছে, তেমনই এটা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের স্থানীয় ভাষাগুলোকে আরও সুসংহতভাবে এর মোকাবিলা করতে উৎসাহিত করছে।
রুশদি: আর এই সবকিছুই তাদের আরও বেশি আন্তর্জাতিক মনোযোগ এনে দেয়, জানেন তো। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার এমন দুটি ভারতীয় বইকে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো মূলত ইংরেজিতে লেখা নয় [গীতাঞ্জলি শ্রী-এর ‘টুম্ব অফ স্যান্ড’ (হিন্দি থেকে ইংরেজি অনুবাদ: ডেইজি রকওয়েল, ২০২১) এবং বানু মুশতাকের ‘হার্ট ল্যাম্প’ (কন্নড় থেকে ইংরেজি অনুবাদ: দীপা ভাস্তি, ২০২৫)]। ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে এই ধরনের ঘটনা কখনোই সম্ভব হতো না।
সম্পাদক: আপনি এবং নাইপল দুজনেই ফিকশন ও বাস্তবধর্মী রচনায় ভারতীয় অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যাকারী। কিন্তু, বিশেষ করে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, আপনাদের মধ্যে অনেক বড় ব্যবধান রয়েছে।
রুশদি: আমি যখন ‘ভিক্টরি সিটি’ (২০২৩) লিখছিলাম, তখন আমি যে বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে লিখছিলাম, তার মধ্যে একটা ছিল নাইপলের বিজয়নগর সাম্রাজ্যের চিত্রায়ণ, যেখানে তিনি মূলত ‘মুসলিম খারাপ, হিন্দু ভালো’ ধারণাটি ব্যবহার করেছেন। মুসলিম সেনাবাহিনীর দ্বারা ধ্বংস হওয়া বিজয়নগর হলো একটা ক্ষতবিক্ষত সভ্যতার রূপক। অথচ, আপনি যদি সেই সময়ের ইতিহাসের দিকে তাকান, দেখবেন যে তেমনটা ঘটছে না। আসলে, মুসলিম সালতানাত এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্য এর চেয়ে অনেক বেশি আন্তঃসম্পর্কিত ছিল। তাদের মধ্যে আন্তঃবিবাহ হতো। বিজয়নগর সেনাবাহিনীতে মুসলিম সেনাপতি ছিলেন। গোলকোন্ডার সেনাবাহিনীতে ছিলেন হিন্দু সেনাপতি। এটা ধর্ম নিয়ে ছিল না। এটা ছিল ক্ষমতা এবং আঞ্চলিক কর্তৃত্ব, আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।
হিন্দুত্ববাদীরাও বিজয়নগরকে রূপক হিসেবে ব্যবহারের এই ধারণাটি গ্রহণ করেছে। এবং আমি ভেবেছিলাম যে এর অবসান ঘটানো প্রয়োজন।
সবাই ভারতের ইতিহাস নতুন করে লেখার চেষ্টা করছে। এবং প্রায়শই তারা এতে মুসলিমদের অবদানকে খাটো করে দেখানোর জন্য এবং অমুসলিমদের অবদানকে বড় করে দেখানোর জন্য এটাকে নতুন করে লিখতে চায়। নাইপলের ব্যাপারে একটা অদ্ভুত ব্যাপার ছিল যে, যখন তিনি প্রথম ভারতে যেতে শুরু করেন, যখন দেশটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে আসলে অনেক ভালো অবস্থায় ছিল, তখন তিনি এটাকে একেবারেই পছন্দ করেননি। আর দেশটা যত বেশি হিন্দু-প্রধান হতে লাগল, তিনি ততই এর প্রতি আকৃষ্ট হতে লাগলেন।
সম্পাদক: ‘ইন্ডিয়া: এ মিলিয়ন মিউটিনিজ নাউ’ (১৯৯০) বইটিতে মনে হয় তিনি ত্রিনিদাদে তাঁর শৈশবের হিন্দুধর্মের সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করছেন, যেখানে ধর্মটির এক ধরনের প্রটেস্ট্যান্ট-প্রভাবিত, মৌলবাদী সংস্করণ তখনও প্রচলিত ছিল।
রুশদি: ভিদিয়া আর আমার মধ্যে খুব একটা মতের মিল ছিল না, জানেন তো। আমরা একে অপরকে খুব ভালোভাবে চিনতাম না। আমাদের হয়তো মাত্র ছয়বারের মতো দেখা হয়েছিল। কিন্তু এটা সেই অদ্ভুত ব্যাপারগুলোর মধ্যে একটা, আমি রাজনৈতিকভাবে প্রায় সব বিষয়েই তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করতাম। কিন্তু তাঁর লেখা পড়তে আমার ভালো লাগত।
এটা বললে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে আমার ‘এ হাউস ফর মিস্টার বিশ্বাস’ (১৯৬১) সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। কারণ, আমার মনে হয়, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাঁর লেখায় মানবিক উষ্ণতা হারিয়ে গিয়েছিল।
‘এ বেন্ড ইন দ্য রিভার’ (১৯৭৯) একটা চমৎকার উপন্যাস, কিন্তু এর দৃষ্টিভঙ্গি খুবই শীতল। ভারত নিয়ে লেখা নন-ফিকশন বইগুলো আমার পছন্দ নয়। আসলে, অন্য দুটোর চেয়ে ‘অ্যান এরিয়া অফ ডার্কনেস’ (১৯৬৪) আমার বেশি ভালো লাগে, কারণ এটাকে আরও বেশি সত্য বলে মনে হয়। স্বদেশে ফিরে এসে আবিষ্কার করা যে গৌরবময় জন্মভূমি ততটাও গৌরবময় নয়। আমার মনে হয়েছিল, এটা আসলে বেশ সৎ একটা বই।
যাইহোক, আমার মনে হয় না ভিদিয়া কখনো ‘গ্রান্টা’-এর জন্য লিখেছেন, তাই না?
সম্পাদক: ইয়ান জ্যাক তার ‘বোম্বে নোটবুকস’-এর কিছু অংশ ‘গ্রান্টা ৫৭’-তে প্রকাশ করেছিলেন। নাইপল ‘প্যারিস রিভিউ’-তে একটা ছোটোগল্প প্রকাশ করেছিলেন এবং তিনি ‘নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুকস’-এর জন্য প্রচুর লিখেছেন। তৎকালীন সহ-সম্পাদক রবার্ট সিলভার্সের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যিনি ১৯৮৪ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশন নিয়ে ‘অ্যামং দ্য রিপাবলিকানস’ শিরোনামের একটা লেখার জন্য তাকে রিগানবাদের তীব্র সমালোচনার মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। আমার মনে হয়, নাইপল নিউ ইয়র্কের বুদ্ধিজীবীদের প্রতি খুব আকৃষ্ট ছিলেন, যেমন আমার পুরোনো প্রতিবেশী এলিজাবেথ হার্ডউইক।
রুশদি: আর বিরাট এলিটিজম।
সম্পাদক: আর তিনি নরম্যান মেইলারকে নিয়েও মজা পেতেন।
রুশদি: অনুমান করুন তো, ‘নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুকস’-এ আমার লেখা কতবার প্রকাশিত হয়েছে?
সম্পাদক: শূন্য? সত্যি?
রুশদি: বব সিলভার্সের একজন ‘ইন্ডিয়ান’ ছিল।
তরুণ বয়সে একটা সময়ে আমি আমার লেখা কিছু ‘নিউ ইয়র্ক রিভিউ’-তে পাঠাতাম এবং তা এত দ্রুত ফেরত আসত যে স্পষ্ট বোঝা যেত খামটা খোলাই হয়নি। এরপর থেকে আমি সেখানে লেখা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছি।
সম্পাদক: যে ধারাটি পরবর্তীতে গ্রান্টা-শৈলীর প্রতিবেদন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, সেই ধারায় আপনার অন্যতম গভীর প্রচেষ্টা ছিল আপনার নিকারাগুয়া বিষয়ক বই, ‘দ্য জাগুয়ার স্মাইল’ (১৯৮৭)।
রুশদি: হ্যাঁ, সেটা ১৯৮৬ সালের কথা। আমি তখন ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ লেখার মাঝপথে ছিলাম, এবং একরকম আটকে গিয়েছিলাম। বইটিতে এমন কিছু সমস্যা ছিল যা নিয়ে আমি ঠিক কী করব তা বুঝতে পারছিলাম না। তারপর আমি মানাগুয়া যাওয়ার জন্য একটা আমন্ত্রণ পেলাম (স্যান্ডিনিস্তা অ্যাসোসিয়েশন অফ কালচারাল ওয়ার্কার্স-এর পক্ষ থেকে), এবং আমি ভাবলাম, নিজের চিন্তার জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকারের সমস্যায় থাকা কিছু মানুষের সাথে দেখা করা যাক। আর এভাবেই বইটি লেখা শুরু হলো। আমাকে এটা লিখতে হয়েছিল, এবং তারপর আবার ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ লেখায় ফিরে যেতে হয়েছিল। এটাই আমার করা একমাত্র সত্যিকারের বিস্তৃত ও কঠোর সাংবাদিকতার কাজ।
সম্পাদক: আপনি নিশ্চয়ই এটা দ্রুত তৈরি করেছিলেন।
রুশদি: খুব দ্রুত, খুব দ্রুত। কারণ আমি ভেবেছিলাম, জানেন তো, একটা যুদ্ধ চলছে। আর যদি এটা হতেই হয়, তবে তা এখনই হওয়া দরকার। আর সত্যি বলতে, নফ-এ আমার সম্পাদক সনি মেহতা অসাধারণ ছিলেন, তিনি বলেছিলেন, ‘ঠিক আছে, আমরা এটা এক্ষুনি প্রকাশ করব।’ আমি নিকারাগুয়ায় থাকার কয়েক মাস পর এটা প্রকাশিত হয়। আর এর কিছুটা অংশ ‘গ্রান্টা’-তে ছাপা হয়েছিল। ভালোবাসার ডিম খাওয়ার সেই অধ্যায়টা।
সম্পাদক: ভারতের ওপর ‘গ্রান্টা’-এর এই সংখ্যাটির জন্য আমি ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের ভারতীয় সাহিত্য পড়ছি। বিক্রম শেঠের মতো লেখক আছেন, যাকে এখন পড়লে মনে হয় তিনি যেন আপনার প্রতিক্রিয়ায়, বা অন্তত আপনার কথার জবাবেই লেখেন। ‘আ সুইটেবল বয়’ (১৯৯৩) পড়লে মনে হয়: ‘চলো উল্টো দিকে যাই, পুরো গতিতে বাস্তবতার দিকে।’ এটা পড়লে মনে হয় যেন উত্তর ভারতের প্রাদেশিক, জরাজীর্ণ বুর্জোয়া শ্রেণির এক ধৈর্যশীল, স্নেহময়, এবং অত্যন্ত ডিটেইলসে নিয়ে আসা এক প্রতিকৃতি।
রুশদি: হ্যাঁ, এটা একটা উল্টো দিকের মতো, কিন্তু সম্ভবত সেটা ভালোই হয়েছিল।
সম্পাদক: শেঠের ‘দ্য গোল্ডেন গেট’ (১৯৮৬) সময়ের সাথে সাথে আরও ভালো হয়ে ওঠে। এটা এমনই এক মোহময় ও ব্যতিক্রমী সৃষ্টি।
রুশদি: ইউজিন ওনেজিনের সেই ছন্দে বলতে গেলে।
সম্পাদক: এটা উদ্দাম আর অসাধারণ।
রুশদি: আমি অনেকদিন ধরে এটা আর ধরে দেখিনি, কিন্তু আমার মনে আছে যে এটা আমার সত্যিই খুব ভালো লেগেছিল। আর লাদাখের বইটিও আমার ভালো লাগে, ‘ফ্রম হেভেন লেক’ (১৯৮৩)। আর এখন তো জানেন, আজই একটা যুদ্ধ হতে পারে।
সম্পাদক: আবার ট্রিগারে আঙুল।
রুশদি: এইমাত্র কাশ্মীরের একটা সুন্দর পাহাড়ি গ্রাম পাহালগামে একটা সন্ত্রাসী হামলা হলো। ছোটবেলায় আমরা ছুটির দিনে কাশ্মীর যেতাম, আর তাই আমি আমার জীবনের অনেকটা সময় সেখানেই কাটিয়েছি। পাহালগামের ঠিক বাইরেই একটা পাহাড়ি তৃণভূমি আছে। উঁচুতে অবস্থিত এই অবিশ্বাস্য সুন্দর তৃণভূমিটির নাম বাইসারান, আর সেখানেই এই পর্যটকরা ছিলেন, সেখানেই জিহাদিরা এসে তাদের হত্যা করেছে। আমি ছোটবেলায় ওই তৃণভূমিতে খেলা করতাম, আর এখন এটা শুধু এমন একটা জায়গা যেখানে মানুষ খুন হয়।
সম্পাদক: আপনি শেষ কবে কাশ্মীরে গিয়েছিলেন?
রুশদি: অনেক দিন আগে। ১৯৮০-এর দশকের দিকে। এখন দুর্ভাগ্যবশত ইসলামপন্থী মৌলবাদ এবং এই সবকিছুর কারণে আমার সেখানে যাওয়াটা সম্ভবত ঠিক হবে না।
সম্পাদক: সেখানে গেলে আপনার একজন দেহরক্ষীর প্রয়োজন হবে, তাই না?
রুশদি: ভারতীয় সেনাবাহিনী এমনিতেই কাশ্মীরে এত খারাপ আচরণ করে যে, আমি আসলে তা চাই না। কিন্তু আমি যদি তা না চাই, তাহলে অন্যরাও খারাপ আচরণ করে। আমার পরিবার কাশ্মীরি। এটা একটা বিরাট ক্ষতি।








