X
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
১৩ আশ্বিন ১৪২৯

অবিশ্বাস্য মনে হলেও ।। মূল : হাবিয়ের বিয়াররুতিয়া

অনুবাদ : সৌম্য সরকার
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:৪৩আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:১৮

হাবিয়ের বিয়াররুতিয়ার জন্ম মেহিকো সিটিতে, ১৯০৩ সালে। মেহিকোর সাহিত্য-জগতের নজরে আসেন যখন ‘ওচো পোয়েতাস’ নামে এক সংকলনে তার বেশ কয়েকটি কবিতা স্থান পায় ১৯২৩-এ। এর ১৩ বছর পর তার প্রথম নাটক ‘পারেসে মেনতিরা’ মঞ্চস্থ হয়। নাটকে তার আগ্রহ বাড়তে থাকলেও কবিতার নেশা তাকে ছাড়েনি—১৯৫০ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি কবিতা লিখেছেন। ১৯৩৫-৩৬ সালে তিনি ইয়েইল ইউনিভার্সিতে নাট্যকলা ও নাট্যকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এই সময়ের অভিজ্ঞতা তার নাট্যচেতনাকে শানিত করে; তার সমসাময়িক নাট্যকার, নাট্যনির্দেশকদের জাতীয়বাদী নাট্যচর্চা থেকে বের হয়ে বৈশ্বিক দর্শন অর্জনেও সাহায্য করে তাকে। মেহিকোর প্রথম নিরীক্ষাধর্মী নাটকের দল ‘তিয়েতরো উলিসেস’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তার একাঙ্কের মধ্যে অন্যতম : পারেসে মেনতিরা, এল আউসেন্তে, সি উসতেদ ব্রেবে, য়া এগাদো এল মোমেনতো ইত্যাদি। তিন অঙ্কের নাটকের মধ্যে প্রধান : ইনবিতেসিয়োন আ লা মুয়েরতো, লা ইয়েরদা, লা মুখের লেখিতিমা, এল সলতেরন, এল পোবরে বারবারা আসুল, খুয়েগো পেলিগরোসো। 
‘অবিশ্বাস্য মনে হলেও’ নাটকে চরিত্রের আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন, জীবনের উদ্দেশ্য ও উদ্দেশ্যহীনতা প্রকাশ পেয়েছে—এ সবই অস্তিত্ববাদী নাটকের লক্ষণ। নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন, ফ্রানসেসকা কোলেসিয়া এবং হুলিয়ো মাতাস।

চরিত্র:

কর্মচারী
একজন স্বামী
একজন ব্যস্ত-ব্যক্তি
একজন অ্যাটর্নি
প্রথম নারী
দ্বিতীয় নারী
তৃতীয় নারী

সময় : বর্তমান
স্থান  : অ্যাটর্নির অফিসের অপেক্ষাকক্ষ

[শূন্য ঘর। কিছুক্ষণ নীরবতা। পেছনের বাঁ দিকের দরজায় বেল বেজে ওঠে। ডান দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ‘কর্মচারী’। দরজা খোলে। প্রবেশ করে ‘স্বামী’- দ্বিধান্বিত, মুখচোরা স্বভাব]
স্বামী        :    আপনি কি... মিস্টার ফের্নান্দেস? ... অ্যাটর্নি ফের্নান্দেস?
কর্মচারী    :    [যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে, কিছু একটা চিন্তা করে] তিনি এখনও আসেননি। ভিতরে এসে বসুন।
স্বামী        :    আমার একটা, ইয়ে...মানে..., অ্যাপয়েনমেন্ট ছিল...
কর্মচারী    :    [থামিয়ে] ভিতরে এসে অপেক্ষা করুন
স্বামী        :    ...৭টায়
কর্মচারী    :    বসুন
স্বামী        :    মানে ঠিক মিস্টার ফের্নান্দেসের সাথে অ্যাপয়েনমেন্ট না... আমাকে বলা হয়েছে এখানে থাকতে এবং ঠিক জানি না...
কর্মচারী    :    মি. অ্যাটর্নি চলে আসবেন, বেশি দেরি হবে না
স্বামী        :    ... না, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না মিস্টার ফের্নান্দেসকে না জানিয়ে তার অফিসে আমার অপেক্ষা করাটা ঠিক হচ্ছে কিনা
কর্মচারী    :    [কিছুটা রূঢ়ভাবে] মিস্টার অ্যাটর্নি আপনাকে পেয়ে, মানে, আপনার সাথে কথা বলে খুব আহ্লাদিত হবেন
[কর্মচারী মাথা নামিয়ে সম্ভাষণ করে বাঁ দিকের দরজা দিয়ে চলে যায়। ‘স্বামী’ চারদিকে তাকিয়ে যে চেয়ারটা সবচেয়ে কম দৃশ্যমান সেটায় গিয়ে বসে। নীরবতা। দরজায় বেল শোনা যায়। কর্মচারী ঢোকে আবার। দরজা খোলে। ‘ব্যস্তব্যক্তি’ ঢোকে]
ব্যস্ত         :    আমি একটু অ্যাটর্নি ফের্নান্দেসের সাথে কথা বলতে চাচ্ছিলাম
কর্মচারী    :    ভিতরে এসে অপেক্ষা করুন [ব্যস্তের হ্যাটটা সে কাপড় রাখার হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখে]
স্বামী        :    [উঠে এসে কর্মচারীর কাছে তার উপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে চায়] আপনার কি মনে হয় মিস্টার ফের্নান্দেসের কোনো আপত্তি থাকবে না...?
কর্মচারী    :    [থামিয়ে] একদমই না [ব্যস্তব্যক্তিকে] চাইলে আপনি বসতে পারেন।
ব্যস্ত         :    [এখনও ‘স্বামী’কে দেখেনি] অ্যাটর্নির সাথে দেখা করতে কি আমিই প্রথম আজ?
কর্মচারী    :    এই ব্যক্তির পর প্রথম, হ্যাঁ [‘স্বামী’কে দেখিয়ে। ‘ব্যস্তব্যক্তি’ এবং ‘স্বামী’ হিংস্র দৃষ্টি বিনিময় করে—অনেকটা সেই ব্যক্তিদের মতো যাদের অন্তত কিছু সময়ের জন্য একই খাঁচায় বন্দিজীবন ভাগাভাগি করতে হবে। ‘ব্যস্ত’ বসে। টেলিফোন বেজে ওঠে। কর্মচারী গিয়ে রিসিভার ওঠায়] হ্যাঁ...না, তিনি এখনও এসে পৌঁছাননি... হ্যাঁ, প্রতি বিকালে... ৭টার দিকে... জি হ্যাঁ ৭টা আমাদের কাছে বিকালই বলতে গেলে... সঠিক বলতে পারছি না। হ্যাঁ, হ্যাঁ... তার বাসার ঠিকানা? দেখুন সেটা বলার আসলে অনুমতি নেই... জি হ্যাঁ।
        [রিসিভার নামিয়ে রেখে ভিতরে যাবে এমন সময়...]
ব্যস্ত         :    [দাঁড়িয়ে] আমার একটা কথা ছিল...
কর্মচারী    :    বলুন
ব্যস্ত         :    মিস্টার ফের্নান্দেসের বয়স কেমন বলুন তো? কম, না?
কর্মচারী    :    কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনিই তার বয়স সম্পর্কে আপনার মূল্যবান অভিমত যাচাই করে আমাকে বলতে পারবেন
ব্যস্ত         :    আমি আপনার অভিমত জানতে চাচ্ছিলাম আরকি
কর্মচারী    :    আমি নিশ্চিত আমার দৃষ্টিভঙ্গি আপনার দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে আলাদা হবে। ধরুন গিয়ে যে আমার চোখে তরুণ আপনার কাছে সে হবে বাইবেলের সবচেয়ে বুড়ো লোক
ব্যস্ত         :    তাহলে—আমাকে ভুল বুঝবেন না—আপনার এই বাইবেলের বুড়ো লোকের তুলনায় আমাদের অ্যাটর্নি সাহেব কতটা তরুণ?
কর্মচারী    :    এই গিয়ে ধরুন তার বাবার তুলনায় মিস্টার ফের্নান্দেসকে তরুণই বলা যায়, আর তার ছেলের তুলনায় অতটা ইয়াং বলা যাবে না।
ব্যস্ত         :    আপনি দেখি একে এক নিপুণ শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন
কর্মচারী    :    ঠিক বুঝলাম না
ব্যস্ত         :    নিঃসন্দেহে আপনি একজন নিখুঁত প্রাইভেট সেক্রেটারির প্রকৃষ্ট উদাহরণ
কর্মচারী    :    আমি মি. ফের্নান্দেসের প্রাইভেট সেক্রেটারি না
ব্যস্ত         :    আপনার ব্যবহারে কিন্তু তাই মনে হয়
কর্মচারী    :    মি. ফের্নান্দেসের কোনো সিক্রেট নেই—তার সেক্রেটারি লাগবে কোন কাজে বলুন? আমি টেলিফোনগুলো ধরি-টরি, ক্লায়েন্টদের বসাই-টসাই-যেমন আপনাদের বসালাম। আর কোনো কাজ নেই। একজন সাধারণ কর্মচারী আমি
ব্যস্ত         :    আমার মনে হয় আপনার প্রাপ্য সবটা আপনি...
কর্মচারী    :    [আস্ত করে থামিয়ে] কেউ-ই তার পুরোটা প্রাপ্য পায় না। যেমন ধরুন, এই মুহূর্তে আমি আপনার যত আগ্রহ পূরণ করে ফেলি সেটাই হয়তো আপনার প্রাপ্য [‘ব্যস্ত’র চোখ উজ্জ্বল হয়]। কিন্তু তা যদি আমি করেই ফেলি অবিচারই করা হবে : প্রথমত মি. ফের্নান্দেসের প্রতি—আমি এমন বেফাঁস কিছু বলতে চাই না যা তাকে কোনো সংকটজনক অবস্থায় ফেলে দিতে পারে, তাই না? দ্বিতীয়ত, অবিচার হবে আমার প্রতিও
ব্যস্ত         :    আপনার প্রতি?
কর্মচারী    :    হ্যাঁ, কারণ—ক্ষমা করবেন যদি আপনার ওপর দোষ আরোপ করে ফেলি—আপনি কি ভেবে দেখেছেন আপনার প্রশ্নগুলো আমার সেই সময়টুকু কেড়ে নিচ্ছে যা হারানোটা আমার প্রাপ্য না?
ব্যস্ত         :    আপনার অনেক কাজ-টাজ না?
[কর্মচারী হাসে। এইবার তাকে আলাপটা চালানোয় একটু আগ্রহী মনে হয়। সে একটা চেয়ার টেনে বসে]
কর্মচারী    :    আমি আসলে, দেখুন, সেই সময়ের কথা বলছি না, মানে, যেগুলো এইসব ছোটোখাটো হাতের কাজ যেমন ফাইল-টাইলগুলো গুছিয়ে রাখা, ফটোকপি মেশিনটা একটু ব্যবহার-ট্যবহার করা ইত্যাদিতে ব্যয় হয়। ধরুন গিয়ে কাজের একটু এদিক-ওদিক হের-ফের করলেই আমরা তেমন ক্ষতি ছাড়াই ওই সময়টা পুষিয়ে নিতে পারি। অথচ এমন কিছু সময়ের কথা ভাবুন তো যেটা আপনি কেড়ে নিলেন সেই সময় থেকে যখন হয়তো আপনি একটা আইডিয়া নিয়ে মগ্ন হয়ে ভাবছেন বা আপনি ভবিষ্যতে লিখবেন এমন কোনো বিয়োগান্তক নাটকের একটি স্বগোতক্তির গঠন-চিন্তা থেকে বা মদের নেশা ধরানো কোনো স্মৃতির মধ্যে ডুবে আছেন সে সময় থেকে—একবার বাধা পেল তো পালিয়ে লুকিয়ে গেল মনের কোনো চোরা কুঠুরিতে, আর কখনো ফিরে আসবে কিনা জানেন না...
ব্যস্ত         :    আপনি কি কবি-টবি নাকি?
কর্মচারী    :    লোকজন সম্পর্কে আপনার ধারণা দেখছি সহজেই এ মাথা থেকে ও মাথায় চলে যায়। একটু আগে আমাকে আপনার প্রাইভেট সেক্রেটারি মনে হলো, এখন একদম কবি!
ব্যস্ত         :    আমার কী দোষ বলুন? একবার দেখছি আপনি প্রাইভেট সেক্রেটারিদের মতো-আসল কথা বেরই হচ্ছে না মুখ দিয়ে, আরেকবার কাব্য করে কথা বলছেন
কর্মচারী    :    সেটা অবশ্য মিথ্যা না। আমার কিছু কথা বলা আর না বলা থেকে কেউ আমার চরিত্রের দ্বৈধতা ধরে ফেলতে পারছে—এমন কারোর সাথে দেখা হওয়ায় বেশ ভালোই লাগছে কিন্তু
ব্যস্ত         :    ‘দ্বৈধতা’?
কর্মচারী    :    ভয় পাবেন না... এটা আসলে ঐ আপনি যেটা বললেন—মানে আমার ব্যবহার নিয়ে আপনি যে দ্বিমুখী বিশ্লেষণ করলেন—তারই আধুনিক নাম আরকি
ব্যস্ত         :    তাহলে আপনি বিশ্বাস করেন...
কর্মচারী    :    আমি বিশ্বাস করি আমাদের প্রতিজনের মধ্যে একই সময়ে পরস্পরবিরোধী অনুভূতি কাজ করে—অধিকাংশ সময়েই একই বস্তু বা মানুষের প্রতি
ব্যস্ত         :    হ্যাঁ হ্যাঁ সেই পুরোনো গল্প—ভালোবাসা ও ঘৃণার...
কর্মচারী    :    আপনি যদি সেভাবে দেখেন। তবে আমার ক্ষেত্রে, মানে আমার চরিত্রের এই দ্বিমুখীতা শুধু দৃশ্যত বৈরিভাবাপন্ন
ব্যস্ত         :    কেবল দৃশ্যত?
কর্মচারী    :    আমার ভিতরে এই কর্মচারী ও কবি ঝগড়া-টগড়া না করে বেশ হাত ধরাধরি করে পথ চলে। যাই হোক, বেশিরভাগ মানুষই তাদের এই দুমুখো ব্যাপারটা সম্পর্কে অজ্ঞই থেকে যায় সারা জীবন।
ব্যস্ত         :    কিন্তু, আপনার ভাষায়, এই ‘দ্বৈধতা’টা জানা বেশ সহজ হওয়ার কথা না কি?
কর্মচারী    :    উহু, উল্টো : নিজেকে না জেনেই মানুষ বেঁচে থাকে এবং এরপর মরেও যায়। সত্যিকার অর্থে, তার মধ্যে যে দুই বা তারচেয়ে বেশি সত্তা আছে সেই সত্য আবিষ্কার ও স্বীকার না করার মতলবেই আমরা একেকজন সারাটা জীবন বা প্রায় সারাটা জীবন কাটিয়ে দেই এবং যথাসম্ভব সব চেষ্টা করি স্বীকার না করার। নিজের সাথে কানামাছি খেলি বলতে পারেন নিজের আরেক সত্তার সাথে কিন্তু সাহস করে বলি না, ‘এই, এই যে আমি’ আর ‘এই যে আমার আরেকজন’। আপনি অবশ্য না জেনেবুঝেই আমার ভিতরের অমন দুটো মানুষকে দেখিয়ে দিলেন : কবি ও কর্মচারী—আপনি নিজে কি নিজের কাছে স্বীকার করেছেন কয়টা সত্তা নিয়ে বেঁচে আছেন আর তারা কে কে?
ব্যস্ত         :    সত্যি বলতে ভাবিইনি এটা নিয়ে কখনো
কর্মচারী    :    আমার পরামর্শ—ভাবুন ও খুঁজে বের করুন। এমনও হতে পারে আপনার সেই, কী বলে, বহুত্বের জ্ঞান আপনাকে, আমাদের ভাষায় যাকে বলে সুখ ও আরাম এনে দিতে পারে—অন্তত আপনার যন্ত্রণার ব্যাখ্যা মিলিয়ে দিতে পারে তো!
ব্যস্ত         :    আর আমি যদি বলি সুখ যাকে বলছেন সেই অর্থে আমি সুখী আর যে যন্ত্রণা আমার নেই-ই তার ব্যাখ্যারও আমার তেমন প্রয়োজন নেই, তবে?
কর্মচারী    :    সেটা সত্যি হলে, জোরগলায় ঘোষণা করে বরং আপনি আপনার অস্তিত্বহীনতাই প্রমাণ করতেন। কিন্তু দেখুন সোজাসুজি স্পষ্টভাবে ‘আমি সুখী আমার এমন জীবন নিয়ে’ এটা না বলে আপনি ‘যদি, তবে’ করছেন।
[কর্মচারী এবং ব্যস্তব্যক্তির মধ্যে এইসব কথা চলার সময়টাতে আমরা ‘স্বামী’র অস্বস্তি টের পাব। সংলাপরত দুজনের কেউ-ই তার উপস্থিতিই যেন টের পায় না এতক্ষণ]
স্বামী       :    [মুখচোরা ভীতু-স্বভাব থেকে জোর করে টেনে তুলে নিজেকে] দেখুন...
[‘কর্মচারী’ ও ‘ব্যস্ত’ হঠাৎ যেন তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি বুঝতে পেরে চমকে যায়। প্রাথমিক চমকের পর পরস্পরের দিকে তাকায়—যেন এইমাত্র একটা দ্বিপক্ষীয় সরকারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। ‘স্বামী’ চেয়ার থেকে পাছা পুরো না উঠিয়েই চেয়ার টেনে এগিয়ে আসে] দেখুন, ...বলছিলাম কী, বুঝতে পারছি না আমার কথা বলা উচিত কিনা... মানে আমি বোকার মতো আপনাদের এই দার্শনিক বাৎচিতের মধ্যে ঢুকে কথার দই কেটে দিচ্ছি কিনা... কী জানেন, অন্য সময় হলে আমি হয়তো ভাব করতাম কিছু শুনিইনি মানে না শোনাটাই যেন আমার প্রধান কর্তব্য এমন একটা জায়গা থেকে... যাই হোক [ব্যস্তকে] আপনি একজন আত্মসুখী এবং জ্বালা যন্ত্রণাহীন মানুষের কথা বলছিলেন একটু আগে... আর আপনি [কর্মচারীকে] বলছিলেন এমন মানুষের অস্তিত্বই থাকার কথা না, তাই তো?
ব্যস্ত        :    হ্যাঁ, তাই
কর্মচারী   :    হ্যাঁ, একদম তাই [দাঁড়িয়ে যায়]
স্বামী       :    বেশ; যদি কিছুদিন আগে আপনাদের সাথে পরিচয় হওয়ার সৌভাগ্য হতো তাহলে হয়তো বলতে পারতাম, আমিই সেই লোক [ব্যস্ত তার কাছে ঘেঁষে]। ভালো থাকা—আরামে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে, ভিতরে ও বাইরে সুখ ও ভারসাম্যে—এই সবই ছিল আমার জীবনে, বলতে পারতাম। যাকে বলে দুঃখে জর্জরিত হওয়া সেসব তো দূরের কথা, ছোটোখাটো কোনো দুশ্চিন্তাও আমার চিন্তা ও অভ্যাসকে স্পর্শ করেনি—
ব্যস্ত        :    এককথায় আপনার কোনো অস্তিত্ব ছিল না, বলুন! [বসে পড়ে]
স্বামী       :    বরং বলা যায় আমার অস্তিত্ব সম্পর্কে অচেতন ছিলাম আমি
ব্যস্ত        :    আর এখন?
স্বামী       :    এখন... [দমে গিয়ে] এখন আর কিছু বলতে পারছি না। [কথা বলতে বলতে দাঁড়িয়েছিল, এখন বসে]
কর্মচারী   :    [‘ব্যস্ত’র সাথে কয়েকবার চোখাচোখি করে একটু কায়দা-কৌশল করে] কেন নয়? আমরা তো আপনার সামনেই সব কথা খোলাখুলি বলে গেলাম!
ব্যস্ত        :    হ্যাঁ, একদম তাই
কর্মচারী   :    আপনার নীরবতা কেবল আমাদের প্রতি আপনার অবিশ্বাস ও সন্দেহ...
স্বামী       :    আপনি কিন্তু ভুলে যাচ্ছেন আমরা খুবই অল্প চিনি পরস্পরকে... সত্যি বলতে একদমই চিনি না
কর্মচারী   :    আরে কী বলেন, আমি তো ভুলে যাচ্ছিই না, সেটাই আমার কাছে জরুরি বরং। আমার তো মনে হয় আমাদের এই অন্তরঙ্গতার কারণই হচ্ছে আমরা খুব কম জানি আমাদের—কিছু আমাদের বেঁধে রাখছে না, তাই আমাদের লুকানোরও কিছু নেই। যে আগ্রহ আপনাকে আমাদের কথার মধ্যে ঢুকে যেতে প্ররোচিত করেছিল সেই আগ্রহই আপনাকে প্রতারণা করছে অন্যদিক থেকে এখন
স্বামী       :    [ভীতভাবে] দুর্ঘটনাক্রমে নাক গলিয়েছিলাম
কর্মচারী   :    ঘটনা হলো আপনি দুর্ঘটনাক্রমে নাক গলিয়েছেন আপনার মনের বোঝা কমাতে—কিছু একটা থেকে মুক্ত হতে—যা বয়ে বেড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে আপনার জন্য
স্বামী       :    সে যাই হোক, গোপন কথা শোনানোর মতো বন্ধু আমার কিন্তু... 
কর্মচারী   :    আচ্ছা দাঁড়ান, পুরোটা বলার দরকার নেই, বিশ্বাস করছি আছে। সম্ভবত একের বেশিই আছে যাদের কাছে আপনি গোপন কথা আরামসে বলতে পারেন কিন্তু আমার বিশ্বাস আপনি সেটা করবেনই না—নিজে যেটা নিয়ে চিন্তাই করতে চাচ্ছেন না সেটা আরেক জনকে বলবেন কীভাবে?
স্বামী       :    বন্ধুরা তবে কোন কাজে লাগে, বলুন?
কর্মচারী   :    বন্ধু হচ্ছে সে যার কাছে আমরা সফলতার গল্প বলি আর পরাজয়ের বা ব্যর্থতার গল্প লুকিয়ে যাই। আপনার মতো এমন অবস্থায় আমি লোকজনকে পড়তে দেখেছি। যদিও নিজের এই অভিজ্ঞতা হয়নি, ভাগ্যদোষে, কিন্তু আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এমন অবস্থায় পড়লে কী হয়... মানে অন্যের কী হয়। [দরজায় বেল বাজে। ‘স্বামী’ এবং ‘ব্যস্ত’ নিজের নিজের চেয়ারে গিয়ে বসে এবং নির্লিপ্ততার ভান করে। কর্মচারী ‘কর্মচারী’ হয়ে ওঠে। দরজা খোলে] আসুন ম্যাডাম। [‘প্রথম নারী’ ঢোকে। কালো লম্বা পোশাক, মুখ ঢাকা। পার্স থেকে একটা কার্ড বের করে কর্মচারীকে দেয়। কর্মচারী যান্ত্রিক ভদ্রতায় মাথা নোয়ায় এবং ডান দিকের ব্যক্তিগত অফিসের দিকে নিয়ে যায়] এই দিকে প্লিজ। [‘প্রথম নারী’ রুমে ঢুকে গেলে কর্মচারী ফিরে এসে একটা চেয়ার নিয়ে বসে। ‘ব্যস্ত’ তার চেয়ার টেনে কাছে এগিয়ে আসে—আবার ঠিক আগের মতো] ...যদিও নিজের এই অভিজ্ঞতা হয়নি, ভাগ্যদোষে, কিন্তু আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এমন অবস্থায় পড়লে কী হয়... মানে অন্যের কী হয়। [বেল বাজে। তিনজনের নড়াচড়া চলাফেরার পুনরাবৃত্তি। দরজা খুলে কথা বলে কর্মচারী] আসুন ম্যাডাম। [‘দ্বিতীয় নারী’ ঢোকে—চেহারায় পোশাকে আগের জনের মতোই। আগের মতোই কার্ড বের করে কর্মচারীকে দেওয়া। আগের মতো তাকে নিয়ে কর্মচারীর ব্যক্তিগত অফিসের দিকে যাওয়া] এই দিকে প্লিজ। [‘দ্বিতীয় নারী’ রুমে ঢুকলে কর্মচারী আগের মতোই চেয়ারের দিকে এগিয়ে আসে। এই নারীর আসার আগে আমরা ‘স্বামী’কে দেখেছি দৃশ্যত ম্রিয়মাণ। এবার সে-ই এগিয়ে আসে কর্মচারীর দিকে, কিছু একটা বলতে চায় খুব করে কিন্তু শেষ মুহূর্তে যেন গলায় আটকে যায় কথা। ‘কর্মচারী’ এবং ‘ব্যস্ত’ এসবের কিছুই লক্ষ করে না। কর্মচারী আগের মতো চেয়ারে বসে এবং ‘ব্যস্ত’ তার চেয়ার টেনে এগিয়ে আসে এবং অপেক্ষা করে আর প্রায় দৈববাণীর সুরে বলে যায় কর্মচারী] ...যদিও নিজের এই অভিজ্ঞতা হয়নি, ভাগ্যদোষে, কিন্তু আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এমন অবস্থায় পড়লে কী হয়... মানে অন্যের কী হয়। [তৃতীয়বারের মতো বেল বাজে। ‘কর্মচারী’ এবং ‘ব্যস্ত’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগের মতো তাকানো—চলাফেরা এইসব করে। সবকিছু আগের অবস্থানে চলে যায় শুধু এবারে ‘স্বামী’ পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। ‘তৃতীয় নারী’ ঢোকে। একদম আগের দুজনের মতোই দেখতে—কেউ হয়তো বলবে তিনজন একই ব্যক্তি আসলে। কাজও আগের মতোই। কার্ড এগিয়ে দেওয়া এবং কর্মচারীর একই কথা ও আচরণ।] এই দিকে প্লিইজ
তৃতীয় নারী    :    আপনার কষ্ট করতে হবে না, আমি জানি কোন দিকে ও কোথায়
[তৃতীয় নারী ব্যক্তিগত অফিসে ঢোকে। কর্মচারী দরজা বন্ধ করে আগের মতো চেয়ারের দিকে আগায়। এবার তার চোখ পড়ে ‘স্বামী’র দিকে—সে প্রাণান্ত চেষ্টায় কিচ্ছু একটা বলতে চায় কিন্তু মুখ দিয়ে একটা গোঙানির মতো আওয়াজ বেরিয়ে আসে শুধু]
কর্মচারী   :    কী হচ্ছে আপনার? কী হচ্ছে বলুন!
ব্যস্ত        :  ওর দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গলা আটকে যাচ্ছে!
কর্মচারী   :    শান্ত হোন, প্লিইজ শান্ত হোন
ব্যস্ত        :    একটু পানি হলে ভালো হতো
স্বামী       :    [শেষ পর্যন্ত কথা বলতে পারে, কঁকিয়ে] কে... কে ও? [কর্মচারীকে] কে ওই মহিলা?
ব্যস্ত        :    কোনজন?
স্বামী       :    [জ্যাকেট-কলারের নিচের অংশ খামচে ধরে, অস্থির উত্তেজনায়] বলছি কে ও?
কর্মচারী   :    [হাত ছাড়িয়ে নিয়ে-কর্মচারী-সুলভ কণ্ঠে] বলার অনুমতি নেই
ব্যস্ত        :    [অনুনয় করে] প্লিইজ, মিনতি করে বলছি, বলুন
ব্যস্ত        :    হ্যাঁ, বলুন
স্বামী       :    একটু আগে মনে হলো সবকিছু বোঝার মতো মন আছে আপনার... প্লিইজ বলুন কে ওই মহিলা?
কর্মচারী   :    আপনারাই ঠিক। মিথ্যা কথা বলা বা লুকিয়ে-চুরিয়ে রাখা আর ঠিক হবে না। একজন ‘কপট কর্মচারী’র ভাষায় কথা না বলে একদম সত্যিটাই বলা উচিত এখন—সেটাই করি
স্বামী       :    ধন্যবাদ... তাহলে বলুন কে ওই মহিলা?
কর্মচারী   :    [ম্রিয়মাণ] আমি জানি না, সত্যি বলছি জানি না
ব্যস্ত        :    তিনজনের মধ্যে কোনজন আসলে? যদি নামের কথা বলেন তো প্রত্যেকেই তো একটা করে কার্ড দিলো আপনার হাতে।
স্বামী       :    ঠিক তাই, কার্ড দিলো তো!
কর্মচারী   :    আচ্ছা দাঁড়ান [পকেটে হাত ঢোকায় এবং খুঁজে-টুজে মাত্র একটা কার্ড পায়]
ব্যস্ত        :    অন্য দুটো কই? ভালো করে খুঁজুন।
কর্মচারী   :    [কার্ড পড়ে] লাভ নাই! অ্যাটর্নির কার্ড
ব্যস্ত        :    [কার্ডটা নেয় কর্মচারীর হাত থেকে] দুইটা কার্ড কিন্তু পাইনি এখনো আমরা...
কর্মচারী   :    [আবার পকেট ঘেঁটে ভালো করে] নাহ আর নেই
ব্যস্ত        :    [বিস্মিত] কিন্তু...
স্বামী       :    [অস্থিরভাবে] এভাবে হবে না... এভাবে হবে না... প্লিইজ... যে মহিলা একটু আগে আসলো সে তো এর আগে এসেছে, না?
কর্মচারী   :    আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব মনে করার, কথা দিচ্ছি এবং আমি, যাকে বলে, যাহা বলিব সত্য বলিব সত্য বই... যাই হোক, আসুন আমার সাথে [ব্যক্তিগত অফিসরুমের দিকে আগায়; কাছে ঘেঁষে ‘ব্যস্ত’—এই ব্যাপারে তার আগ্রহ যে ষোলো আনা সেটা প্রমাণ করতে হয়তো] ভালো করে দেখুন আপনি কি কালো পোশাক আর মুখ ঢাকা মহিলার কথা বলছেন?
ব্যস্ত        :    কিন্তু ওদের কোনজন?
স্বামী       : ...হ্যাঁ ওই মহিলা!
কর্মচারী   :    এক মিনিট... হ্যাঁ এই জনই! আমার মনে হয় এই জনকেই খুঁজছি আমরা। অ্যাটর্নির কাছে তিনি এসেছেন... দাঁড়ান মনে করি... এক দুই, এর আগে দুই বার। তার মানে এই নিয়ে তিনবার দেখলাম তাকে আমি। আমি অবশ্য মুখ, চেহারা দেখে মানুষ মনে রাখায় বিশেষজ্ঞ নই... তবু... তার এই একই পোশাক ছিল এবং মুখহীন মানে মুখ ঢাকা... মনে পড়ছে তার উপস্থিতি এবং নীরবতা প্রতিবারই আমাকে কৌতূহলী করেছে, মানে ইয়েভাবে... অথবা হতে পারে আমার এবারই প্রথম আমার ঔৎসক্যু প্রকাশ পাচ্ছে...
স্বামী       :    সে যাই হোক, সে তো আপনার সাথে কথা বলেছে, ঠিক?
কর্মচারী   :    দাঁড়ান... এবারই বলেছেন... এর আগের দুইবার... ভালো করে মনে করি... আজ কী বার?
ব্যস্ত        :    সোমবার
স্বামী       :    [ব্যাগ্রভাবে] চেষ্টা করুন, মনে করার চেষ্টা করুন।
কর্মচারী   :    পেয়েছি, পেয়েছি! প্রথমবার এসেছিলেন এক সোমবার, এর পরের সোমবারও। হম... কত বাজে এখন?
ব্যস্ত        :    ৭টা
কর্মচারী   :    অথবা তিন দিন একটানা, একই সময়ে... এই সময়টাতে... এমনও হতে পারে একই দিনে তিনবার
স্বামী       :    [অস্থিরভাবে] কী বলল সে, মানে একটু আগে কী বলল আপনাকে?
কর্মচারী   :    সে শুধু বলল, ‘আপনার কষ্ট করতে হবে না, আমি জানি কোন দিকে ও কোথায়।’
[‘স্বামী’ হতাশা-বিণ্নতায় চেয়ারে বসে পড়ে, বাকি দুজন তাকে ঘিরে রাখে]
স্বামী       :    ‘আমি জানি কোনদিকে’, ‘আমি জানি কোথায়’! সন্দেহ নেই সে এর আগে এসেছে, তিনবার—এই জনই
কর্মচারী   :    কে?
ব্যস্ত        :    কে?
[‘স্বামী’ জবাব দেয় না। নীরবতা]
কর্মচারী   :    আপনি কিন্তু আমাদের বলতে পারেন—এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি আপনার এই মনস্তাপ আমরা বুঝব, সম্মানও করব। যদি গোপন রাখতে হয়... সেটাই হওয়ার কথা অবশ্য... আমরা জানি কীভাবে রাখতে হয়
ব্যস্ত        :    হ্যাঁ, একশভাগ
কর্মচারী   :    [আরেকটু নীরবতার পর] আর যদি নিজে না বলতে চান এবং মনে করেন আপনার কথার..., আমি কিন্তু আপনার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারি—যে যে শব্দ দিয়েই আপনি হয়তো বলতেন... বলছি কি, ছোটোবেলা থেকেই দেখছি আমার একটা গোপন ক্ষমতা আছে—সে ক্ষমতা অবশ্য মাঝে মাঝে বয়ে বেড়ানো কঠিন মনে হয়—মানুষজনের দুঃখ, কষ্ট পরিতাপ পাপ ইত্যাদি প্রকাশ করার। তাদের শব্দ দিয়ে আমার কবিতা, তাদের স্বীকারোক্তিতে আমার উপন্যাস... [‘স্বামী’ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তাকায়], না-না ভয় পাবেন না, আপনারটা আমি লিখব না—সে উপন্যাস আগেই লেখা হয়ে গেছে। কিন্তু সেটাই সমস্যা জানেন... জাহাজডুবি হওয়া একজন নাবিকের মতো আপনি হাবুডুবু খাচ্ছেন—তীব্র ঝড় আর বৃষ্টির মধ্যে—কীভাবে আপনাকে স্বীকারোক্তির নিরাপদ তীরে না ভিড়িয়ে আমি ছেড়ে যাই?... কিছু বলতে হবে না, আমি কল্পনা করে নিতে পারছি আপনার অবস্থা... আমার এই কল্পনাশক্তিই আবার আমাকে অনুতাপের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে...
স্বামী       :    আপনি কল্পনা করে নিতে পারছেন আমার অনুভূতি...
ব্যস্ত        :    [আর ধরে রাখতে না পেরে] আরে ভাই কে ওই মহিলা? বলেন না?
স্বামী       :    [কর্মচারীকে] আপনি তো আন্দাজ করেছেন। আপনার চোখ দেখেই বুঝতে পারছি। ওকে বলুন, আমি পারছি না
কর্মচারী   :    [‘ব্যস্ত’কে] আপনিও আমার চোখ থেকে পড়ে নিতে পারেন 
[‘ব্যস্ত’ আর কর্মচারী পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকে; ‘ব্যস্ত’ চেষ্টা করে কর্মচারীর চোখের ভাষা পড়ার]
ব্যস্ত        :    হ্যাঁ, হ্যাঁ, সে তো বুঝলাম; [এইবার যেন নিজেকেই বলে] ...কিন্তু তিনজনের কোনজন?
স্বামী       :    এখন তো আমরা সবাই জানি-ই। কাল রাতে—এই বেনামি চিঠি...
[পকেট থেকে একটা ভাঁজ করা পৃষ্ঠা বের করে এগিয়ে দেয়। ‘ব্যস্ত’ সেটা ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে লুফে নেয় এবং খেয়ে ফেলবে এভাবে পড়ে, তারপর কর্মচারীর দিকে বাড়ায়। কর্মচারী ধীরে-সুস্থে নেয়, তাকায়-কি-তাকায় না এভাবে পড়ে স্বামীকে ফেরত দেয়]
কর্মচারী   :    [বসে, তারপর খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ কণ্ঠে] অকাজের জিনিস! জানি স্টাইলগত দিক থেকে নৈর্ব্যক্তিক ও অকপট। অনন্তকাল থেকে যেন লোকজন এই ফর্মে সাহিত্যকর্ম করে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই—একটা ধ্রুপদী ব্যাপার স্যাপার চলে এসেছে। অবশ্য কথক যা বলতে চাচ্ছে তা সে নিজেকে কাপুরুষের মতো আড়ালে রেখেই বলতে পারছে! “সোমবার সন্ধ্যায় চলে আসুন অ্যাটর্নি ফের্নান্দেসের অফিসে। সচক্ষে দেখুন আপনার স্ত্রী আপনাকে কীভাবে ধোঁকা দিচ্ছে”
ব্যস্ত        :    [বিস্মিত] অল্পবিস্তর এমনই!
কর্মচারী   :    অল্পবিস্তর?
ব্যস্ত        :    অল্প
কর্মচারী   :    দাঁড়ান... ‘এই নিয়ে তিনবার হলো আপনার স্ত্রী অ্যাটর্নির এখানে এসেছেন এবং তিনি জানেন কোনদিকে ও কোথায়।’
[‘ব্যস্ত’ এবং ‘স্বামী’ হতবুদ্ধি হয়ে তাকিয়ে থাকে। বেনামি চিঠিতে এ-ই লেখা আছে, কমও না বেশিও না]
স্বামী       :    আপনি কীভাবে...?
ব্যস্ত        :    [দাঁড়িয়ে] আপনি আন্দাজ করেছেন, বলুন!!
স্বামী       :    [সন্দেহের সুরে কর্মচারীকে] এক মিনিট, এক মিনিট। আন্দাজ আপনি করেননি!
ব্যস্ত        :    একদম তাই, একদম তাই—সেটা সম্ভব না।
স্বামী       :    [রেগে, চিঠিটা নাড়িয়ে নাড়িয়ে] আপনি লিখেছেন এটা।
কর্মচারী   :    মাথা ঠান্ডা করুন, যা ভাবছেন তা না!
স্বামী       :    [এখনও রেগে] আপনি এটা লিখেছেন... [বলতে বলতে অবশ্য তার অবস্থানের বাস্তবতায় ফিরে যায়]... আপনি সব জানতেন!
কর্মচারী   :    [আগের চেয়েও আত্মনিয়ন্ত্রিত] আপনি আসার আগে আমি কিছুই জানতাম না এবং যেভাবে-যেভাবে সব ঘটল তার আগেও না। আমি এই বেনামি চিঠির লেখক নই। এতেও তেমন আশ্চর্য হওয়ার কিছু দেখছি না যে আমি ওর ভাষা জানি। এ চিঠি অন্য যেকোনো অজ্ঞাতনামা চিঠির মতোই ভাষাভঙ্গি ইত্যাদি। আমিও দু-চারটা যে লিখিনি এমন তা নয়—আমি মানে আমার চরিত্রেরা। ঘটনা এবং অবস্থার বাস্তবতায় পড়ে এবার আমিই হুবহু বলে দিলাম ওতে কী আছে।
ব্যস্ত       :    অভাবনীয়!
কর্মচারী  :    দেখুন ‘অভাবনীয়’, ‘বিস্ময়কর’ এসবের কোনো অস্তিত্ব নেই। বিস্ময়কর এটাই যে বিস্ময়কর বলে নেই-ই কিছু। বাস্তবের এ ধরনের স্পষ্ট কিন্তু স্পষ্ট নয় অথচ তীব্র ও প্রকট সংমিশ্রণকেই যাকে আমরা বলি বিস্ময়কর বা অভাবনীয়।
ব্যস্ত       :    কিন্তু এ সব কিছুই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে আমার কাছে
কর্মচারী  :    মনে হচ্ছে! আপনিই বলছেন! [‘স্বামী’র দিকে এগিয়ে গিয়ে কাঁধে হাত রাখে] দেখুন, আপনার সম্পর্কে আমার একটা-দুটো পর্যবেক্ষণ। ভাবুন আপনার সেই জীবনটার কথা—হ্যাঁ আরাম ছিল কিন্তু ছিল অজ্ঞতায় পূর্ণ, একটা ফাঁপা বাস্তবতায় বসতিহীন পৃথিবীর মতো, ল্যান্ডস্কেপবিহীন একটা রাস্তার মতো, স্বপ্নহীন ঘুমের মতো শূন্য জীবন—এককথায় একটা অনন্ত মৃত্যুর মতো যেন। এবার এই বেনামি চিঠির বদৌলতে মানে এই ‘উন্মোচিত সত্যে’র বদৌলতে আপনি এমন একটা ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছেন যেখান থেকে জীবন নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনমতো ভুল শুধরে জীবনের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নিতে পারবেন চাইলে : অনেকটা একজন শিল্পী যেভাবে পরিকল্পনা, পরিবর্তন, পরিমার্জন এবং পরিবর্ধন করে। [ছোটো দম নিয়ে] আর কিছু বলার নেই, এখন আপনার ওপর—এ সব ভেবে আগাতে পারেন, ছুড়ে ফেলেও দিতে পারেন। ধন্যবাদও চাই না আমি। কিছুই দরকার নেই আমার—এবার কেবল হারিয়ে যাওয়া, হাওয়া হয়ে যাওয়া...
ব্যস্ত       :    বলেছেন ঠিকই [কর্মচারীকে একদিকে ডেকে নিয়ে]। আমারও চলে যাওয়া উচিত কিন্তু, কী বলেন? কী অজুহাতে যাব? এমন একটা কিছু করা দরকার যাতে মনে হয় ওকে কোনো করুণা করছি না। নতুন করে কষ্ট দিতে...
কর্মচারী  :    ভেবে বের করুন একটা কিছু!
[হঠাৎ কিছু একটাতে অনুপ্রাণিত হয়ে যেন ‘ব্যস্ত’ ‘স্বামী’র কাছে যায়; বেশ একটা খুশি ভাব ও হালকা মেজাজে বিদায় নেয়]
ব্যস্ত       :    আচ্ছা বেশ, তাহলে, ভালো লাগল, শুভ রাত্রি!
স্বামী      :    [ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে] আপনি কি যাচ্ছেন?
ব্যস্ত       :    আসলে কি, বিশ্বাস করুন, কেন যে এই অফিসে এসেছিলাম আমি সেটাই ভুলে গেছি। তাছাড়া, মনে পড়ল আমার একজনের সাথে দেখাও করার কথা ছিল ঠিক এই সময়টাতেই। আমি নিশ্চিত আমি যদি আর বেশিক্ষণ এখানে থাকি, সেটাও ভুলে যাব—আমার এই ভুলে যাওয়ার রোগটা... কী যেন বলে ডাক্তাররা একে?
কর্মচারী  :    অ্যামনেশিয়া; স্মৃতিভ্রংশ।
ব্যস্ত       :    হ্যাঁ, হ্যাঁ, অ্যামনেশিয়া; অ্যামনেশিয়া, তাই না? যাই তাহলে...
[একবার মাথা নুইয়ে বের হয়ে যায়। কর্মচারী সাবধানে দরজা বন্ধ করে। ওদিকে ‘স্বামী’ নিজেকে আবিষ্কার করে কক্ষের মাঝখানে, একা দাঁড়িয়ে, অনিশ্চিত—যেন দুই রাস্তার মিলনস্থলে, কোন দিকে হাঁটবে জানে না। কর্মচারী আস্তেধীরে আগায়। দুজন দাঁড়ায় মুখোমুখি-নিঃশব্দ, নিশ্চল। দীর্ঘ নীরবতা; যেন সময় থমকে গেছে—এই দুজনকে একটা স্থিরচিত্রের ফ্রেইমে বন্দি করে। আমাদের মনে হতে পারে এই স্তব্ধ, গতিহীন দৃশ্য চলতেই থাকবে যদি না কোনো নিরপেক্ষ কিছু একটা এসে ধাক্কা দিয়ে নাড়িয়ে দেয় একে এবং গতির কাঠামোতে ফেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত অফিসের বেল বেজে ওঠে]
স্বামী      :    [ধাক্কা খেয়ে, হঠাৎ করে যেন জীবন ফিরে পেয়ে] শুনলেন?
কর্মচারী  :    [সেও জেগে উঠে] হ্যাঁ। [না নড়ে, আড়ষ্টভাবে, ‘কর্মচারী-সুলভ’ কণ্ঠে] জি, এক্ষুনি আসছি। [আবার ‘মানুষ’ হয়ে, ‘স্বামী’র দিকে আরও এগিয়ে] আপনি কি বিশ্বাস করবেন বললে যে আপনাকে আমি কতখানি ঈর্ষা করি? আপনার জীবন পেতে আমি সব করতে পারি! আপনি এমন একটা নাটকের নির্দেশক যার নাট্যকার, অভিনেতা ও দর্শকও আপনি নিজে। ভাবুন তো, অন্যদিকে, আমার কী বিশ্রী জীবন—অনেকটা চোরের মতো—অন্যের অন্যমনস্কতার সুযোগ বা, এমনি এবারকার মতো, অন্যের জীবনে অনধিকার প্রবেশ করে সেখান থেকে টুকরো-টুকরা কেড়ে নিয়ে বা সেখানে ভাগ বসিয়ে বেঁচে আছি। সেই একই ঘণ্টা যেটা আমাকে প্রাত্যহিক মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়, আপনাকে নতুন জীবনের আহ্বান করে। [আবার বেল বাজে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘কর্মচারী’র মতো জবাব দেয়] জি আসছি, আসছি, এক্ষুনি আসছি।
স্বামী       :    একটু দাঁড়ান। আমার জন্য একটা কাজ করবেন?
কর্মচারী   :    [‘মানুষ’ হয়ে] বলুন।
স্বামী       :    আমি নিশ্চিত আপনি যদি এখনই না যান সে নিজেই এখানে আসবে। অধৈর্য হয়ে যে আছে সেটা বেল শুনেই বুঝতে পারছি। এলে আমি এখানেই একটু কথা বলতে চাই তার সাথে, আর, যদি আপনার সায় থাকে, একটু কম আলোতে।
[কর্মচারী উজ্জ্বল আলোর সুইচটা বন্ধ করে দেয়। অ্যাকুয়েরিয়ামের অস্বচ্ছ আলোটা থাকে কেবল]
কর্মচারী   :    ঠিক আছে?
স্বামী       :    হ্যাঁ
কর্মচারী   :    আর কিছু?
স্বামী       :    ধন্যবাদ, আর কিছু না [টেলিফোন বেজে ওঠে। ধরবে কি ধরবে না সেই দোলাচলে] ধরুন।
[কর্মচারী গিয়ে রিসিভারটা তুলে আস্তে করে টেবিলের ওপর রেখে দেয়]
কর্মচারী   :    কী দরকার বাইরের পৃথিবীটায়? এখন আর কেউ আপনাদের বিরক্ত করবে না
স্বামী       :    অসংখ্য ধন্যবাদ
কর্মচারী   :    আচ্ছা তাহলে...
স্বামী       :    আচ্ছা... [দক্ষিণের দরজা দিয়ে যখন বের হয়ে যাচ্ছে কর্মচারী, একই সময়ে] ধন্যবাদ। [নীরবতা। ব্যক্তিগত অফিসের দরজা খোলে, ‘প্রথম নারী’ বেরিয়ে আসে। ‘স্বামী’ একদম এগিয়ে যায় তার দিকে। প্রায়-আলোহীন কক্ষ ‘প্রথম নারী’কে চমকে দেয়—বুঝতে পারে না কী করবে : অফিস রুমে ফিরে যাবে নাকি বের হয়ে যাবে এখান থেকে। শেষ পর্যন্ত চলে যাওয়ারই প্রস্তুতি নেয়। সেই সময় ‘স্বামী’ আরেকটু এগিয়ে এসে কণ্ঠটা চেষ্টা করে কিছুটা দৃঢ় বানিয়ে বলে] মারিয়ানা! [থামে] কেন এলে? সব জানি আমি, এই চিঠির কল্যাণে। তোমাকে খুন করে ফেলতে পারি চাইলে, কিন্তু তোমার মৃতদেহ আমার প্রতিহিংসার পরিমাণ আর জানবে না... [বিস্মিত, ‘প্রথম নারী’ কিছু একটা বলতে যায়] কোনো কথা না। চলে যাও এখান থেকে, এক্ষুনি! এখানে একটা কথাও না, এক্ষুনি যাও! [নিজের মুখ ঢাকে দুহাত দিয়ে] এখানে আর না! [‘প্রথম নারী’ কান্না চেপে রেখে বেরিয়ে যায় এই সুযোগে। নীরবতা। যখন মুখ থেকে হাত সরায় ‘স্বামী’ তখনই আবার দরজা খুলে যায় ব্যক্তিগত অফিসের। এবার ‘দ্বিতীয় নারী’ বের হয়ে আসে] কেন ফিরে এলে? মুখের কাপড় দিয়ে কী ঢাকছ : লজ্জা না লজ্জাহীনতা? ...দেখো আমিও মুখ ঢেকেছি, আলো নিভিয়ে অন্ধকার করে রেখেছি... আমিও ভীরু দুর্বল... যদি কেবল না ফিরতে! চলো এখান থেকে চলে যাই... চলো যাই... যদি কেবল না ফিরতে, আহ! [‘প্রথম নারী’র মতো কান্না চেপে রেখে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যায় ‘দ্বিতীয় নারী’] দাঁড়াও! দাঁড়াও আমার জন্য! [টুপি খোঁজে, প্রথমে পায় না, খুঁজে-টুজে যখন পায় এবং বের হয়ে যেতে চায় দ্বিতীয় নারীর পিছন-পিছন, কিছু একটা তাকে আটকে রাখে যেন—আর বেরাতে পারে না। ‘তৃতীয় নারী’ বের হয়, দরজার গোড়ায় দাঁড়ায়। তাকে দেখে ‘স্বামী’ তার কাছে এগিয়ে যায়। বিহ্বল, ভীত, শরীর কাঁপতে থাকে ‘স্বামী’র] দেখো, নিজেকে থামাতে পারলাম না। চলেই এলাম। গোয়েন্দাগিরি করছি তোমার ওপর। তোমার জন্য অপেক্ষা করি গুপ্তচরের মতো, তোমার পায়ে-পায়ে চলি। কিন্তু কই আমার প্রতিশোধ? একটা গোপন ঘৃণা আমি প্রতিদিন পুষে রাখি তোমার জন্য... আবার সেটাই নতুন ধরনের অর্থহীন প্রেম আমার—আরো তীক্ষ্ম আর... তেতো!
[‘তৃতীয় নারী’ও একইভাবে কান্না চেপে রেখে দ্রুত বের হয়ে যায়। ‘স্বামী’ দাঁড়িয়ে থাকে রুমের মাঝে—নিশ্চল, চলার শক্তি নেই। নীরবতা। পিছনের দরজা দিয়ে ঢোকে অ্যাটর্নি। অন্ধকার দেখে অবাক। সুইচের কাছে গিয়ে আলো জ্বালে। টেলিফোনের রিসিভার ওঠানো দেখে ওটার কাছে গিয়ে কানে লাগায়]
অ্যাটর্নি    :    হ্যালো! হ্যালো! [রিসিভার রেখে দেয়। ‘স্বামী’র দিকে তাকিয়েও বিস্মিত হয়। ‘স্বামী’ সামলে নেয় দ্রুত। মনে হয় অ্যাটর্নি কিছু একটা জিজ্ঞেস করবে। করে না অবশ্য। ব্যক্তিগত অফিসের দিকে যায়; দরজায় গিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়] আসুন, প্লিইজ!
স্বামী       :    হ্যাঁ-হ্যাঁ, এক্ষুনি আসছি [কিন্তু প্রাইভেট অফিসের দিকে না গিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে একরকম দৌড়ে বের হয়ে যায়—অ্যাটর্নি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে]

                                                                               পর্দা

/জেডএস/
সম্পর্কিত
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
৫ যুগ ধরে দুর্গা প্রতিমা গড়ছেন মন্টু পাল
৫ যুগ ধরে দুর্গা প্রতিমা গড়ছেন মন্টু পাল
ওপেনিংয়ে খেলার আত্মবিশ্বাস কোথায় পেলেন মিরাজ?
ওপেনিংয়ে খেলার আত্মবিশ্বাস কোথায় পেলেন মিরাজ?
কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠবে আবাসন, বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্প
কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠবে আবাসন, বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্প
‘জার্মানিকে আগেই সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র’
‘জার্মানিকে আগেই সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র’
এ বিভাগের সর্বশেষ
আমার সৈয়দ হক
আমার সৈয়দ হক
হিলারি মেন্টেলের মৃত্যু
হিলারি মেন্টেলের মৃত্যু
চন্দ্র সূর্যের আকর্ষণে সমুদ্রের সাহসআশ্রিত মানুষ 
চন্দ্র সূর্যের আকর্ষণে সমুদ্রের সাহসআশ্রিত মানুষ 
‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ ও আহমদ ছফা : এক ক্ষ্যাপা বাউলের প্রাণ ।। পর্ব—সাত
পথে নেমে পথ খোঁজাআহমদ ছফা : এক ক্ষ্যাপা বাউলের প্রাণ
সাড়ে তিন আনা
সাদত হাসান মান্টোর ‘শিকারি আওরত’ থেকেসাড়ে তিন আনা