৬৬ বছর বয়সি কারাবন্দি মারওয়ান বারঘৌতিকে অনেকেই ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাব্য নেতা মনে করেন। তার বিভিন্ন রচনার সংকলন 'Unbroken: In Pursuit of Freedom for Palestine' ৫ নভেম্বর পেঙ্গুইন প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশিত হবে। এতে তার রাজনৈতিক জীবন ও কারাবাসের গত তিন দশকের চিঠিপত্র, সাক্ষাৎকার, ব্যক্তিগত লেখালেখি এবং নানা দলিল থাকবে।
২০০২ সাল থেকে বারঘৌতিকে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি হামাসের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি ফাতাহ দলের সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। অনেকের মতে, তাকে মুক্তি না দেওয়ার পেছনে ইসরায়েলের মূল উদ্বেগ হলো, তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে শক্তিশালী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেন।
১৯৫৯ সালে পশ্চিম তীরের কোবার গ্রামে জন্ম নেওয়া বারঘৌতি ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলি সামরিক দখলদারত্বের মধ্যে বেড়ে ওঠেন। কিশোর বয়সেই রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে তিনি ফিলিস্তিনি রাজনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন এবং ফিলিস্তিনি ঐক্যের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
সংকলনটিতে কারাগার থেকে পরিবারের কাছে পাঠানো ব্যক্তিগত চিঠি, বিভিন্ন বিশিষ্টজনের সঙ্গে চিঠিপত্র, গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার, জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য, ঐতিহাসিক দলিল ও তার নানান আলোকচিত্র থাকবে। তাছাড়া আরবি ভাষায় লেখা তার '1,000 Days in Solitary Confinement' বইয়ের অনূদিত অংশবিশেষও থাকবে।
ভূমিকা লিখেছেন বারঘৌতির স্ত্রী ফাদওয়া বারঘৌতি। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি চেয়েছি, তাকে ঘিরে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে এর বাইরে গিয়ে বিশ্ব যেন মারওয়ানের কণ্ঠ নিজে শুনতে পারে। এই বইটি অবশেষে তা সম্ভব করেছে। আশা করি, এর মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারবে মারওয়ান বারঘুতি আসলে কে এবং কীভাবে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা ও মর্যাদার সংগ্রামকে ধারণ করেন।”
গত বছর আগস্টে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভি, বারঘৌতিকে বিদ্রূপ করে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দিতে দেখা যায়। দুই দশকেরও বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পরও, ধারাবাহিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, গাজা ও পশ্চিম তীরে বারঘৌতিই সবচেয়ে জনপ্রিয় ফিলিস্তিনি নেতা। সমর্থকেরা মনে করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে একমাত্র সক্ষম নেতা হলেন বারঘৌতি। তাকে “ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেলা” বলা হয়।
বারঘৌতির এই ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও প্রভাব বিশ্বজুড়ে তার মুক্তির দাবিকে আরও জোরদার করেছে। তার মুক্তির দাবিতে, গতবছর ফিলিস্তিন, লন্ডনসহ ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহরে একযোগে বিক্ষোভ ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ডিসেম্বরে মার্গারেট অ্যাটউড, আনি এরনো, বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, এলিফ শাফাক, পিটার গ্যাব্রিয়েল, স্টিং, টিল্ডা সুইনটন, ওলগা তোকারচুক, কলম তোইবিন, স্যার ইয়ান ম্যাককেলেন ও গ্যারি লিনেকারসহ অনেক বিশিষ্ট লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তার মুক্তির দাবিতে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।









