জাপানের জনপ্রিয় শিশুতোষ লেখক এইকো কাদোনোর বয়স এখন ৯১ বছর। বয়সের কারণে সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হলেও তিনি প্রতিদিনই লেখালেখি করেন। গোলাপি রঙ, সাজগোজ ও বইয়ের প্রতি তার ভালোবাসা অটুট রয়েছে।
১৯৮৫ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত বই ‘কিকির ডেলিভারি সার্ভিস’ পরে ১৯৮৯ সালে হায়াও মিয়াজাকির স্টুডিও জিবলির অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে রূপ পায়। কাদোনো এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০টি বই লিখেছেন।
তিনি কখনোই লেখালেখিতে ক্লান্ত হন না। তার বাড়ির গোলাপি ফটক, গোলাপি চেয়ার, অসংখ্য বই ও পশুপাখির মূর্তি তার ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন। তিনি নিজেকে এখনো মনের দিক থেকে শিশুসুলভ বলে মনে করেন।
তার মেয়ে বিশেষভাবে তার জন্য রঙিন পোশাক তৈরি করেন। লেখার সুবিধার জন্য পোশাকের হাতায় বিশেষ নকশাও রাখা হয়। বর্তমানে তিনি কম্পিউটারে ধীরে ধীরে টাইপ করলেও গল্পের শুরু করেন হাতে লিখেই। পাশাপাশি তিনি ছবিও আঁকেন।
কাদোনোর মতে, তিনি এমনভাবে লিখতে চান যাতে পাঠক তার লেখার দৃশ্য কল্পনা করতে পারেন। লেখালেখিকে তিনি আনন্দের কাজ হিসেবেই দেখেন, পেশা হিসেবে নয়।
‘কিকি’ সিরিজের মূল জাপানি সংস্করণে ছয়টি বই ও তিনটি স্পিন-অফ রয়েছে। প্রথম বইটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে। বর্তমানে এটি ২৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। সিরিজের দ্বিতীয় বই ‘কিকি অ্যান্ড দ্য নিউ ম্যাজিক’ এবছরের আগস্টে ইংরেজিতে প্রকাশিত হবে।
তার মেয়ে ১২ বছর বয়সে একটি ঝাড়ুতে চড়ে চাঁদের দিকে উড়ে যাওয়া ডাইনির ছবি এঁকেছিল। সেই ছবিই ‘কিকি’ চরিত্র সৃষ্টির অনুপ্রেরণা জোগায়। পরে কালো বিড়াল জিজিকে সঙ্গে নিয়ে কিকির অভিযাত্রার গল্প বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
২০২৩ সালে টোকিওতে ‘কিকির মিউজিয়াম অব লিটারেচার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে কাদোনোর পোশাক, গোলাপি মগ, টি-শার্ট এবং তার সৃষ্ট চরিত্রভিত্তিক নানা সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের মতে, কাদোনোর কল্পনার জগৎ ভাষার সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বব্যাপী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের হৃদয় জয় করেছে।
কাদোনো মনে করেন, মানুষকে সৃজনশীল হতে হলে নিজে চিন্তা করতে হবে এবং সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তি জাগিয়ে তুলতে বর্তমানে বই-ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।









