ওলগা তোকারচুকের নোবেল ভাষণ (শেষ পর্ব)

Send
অনুবাদ: দুলাল আল মনসুর
প্রকাশিত : ০৭:০০, জানুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০০, জানুয়ারি ১৮, ২০২০

সাহিত্যে ২০১৮ সালের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক ওলগা তোকারচুক গত ৭ ডিসেম্বর শনিবার সুইডিশ একাডেমিতে পোলিশ ভাষায় তার নোবেল ভাষণ প্রদান করেন।

তৃতীয় পর্বের পর থেকে

     আমার জানতে ইচ্ছে করে, আজকের দিনে এমন কোনো নতুন গল্পের ভিত্তি পাওয়া যাবে কি না, যেটা বিশ্বজনীন, সমন্বিত, সবকিছুকে ধারণ করতে পারে, প্রকৃতিবর্তী, প্রেক্ষিৎপূর্ণ এবং একই সময়ে বোধগম্য।

     ব্যক্তির নিজ সত্তার যোগাযোগ অক্ষম বন্দিশালার বাইরে গিয়ে বাস্তবতার বৃহত্তর পরিসর উন্মোচন করার মতো এবং পারস্পারিক সম্পর্ক দেখানোর মতো এমন কোনো গল্প কি হতে পারে? কেন্দ্র থেকে দূরে সর্বসাধারণের অভিজ্ঞতায় ধরা মতামতের বহুদলিত এবং অমৌলিক কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে সক্ষম এবং সবকিছুর প্রতি প্রাক-কেন্দ্রী দৃষ্টিতে তাকাতে সক্ষম গল্প কি পাওয়া সম্ভব?

     আমি আনন্দিত যে, সাহিত্য সব রকমের অস্বাভাবিকতা, মোহাবিষ্টতা, প্ররোচণা, অনুকরণ এবং পাগলামিতে বিচরণের অধিকার অলৌকিকভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছে। উচ্চ দৃষ্টিতে দেখার বিন্দু এবং ব্যাপক পরিসরের দৃষ্টিভঙ্গির স্বপ্ন দেখি আমি; সে পরিসরের ভেতর প্রেক্ষিত আমাদের আগে থেকে প্রত্যাশা করে রাখা সীমা ছাড়িয়ে যাবে। সবচেয়ে অস্পষ্ট সজ্ঞা প্রকাশে সক্ষম ভাষার স্বপ্ন দেখি আমি। সংস্কৃতির পার্থক্যের সীমানা পেরিয়ে যেতে সক্ষম রূপকের স্বপ্ন দেখি আমি। সর্বশেষে এমন সাহিত্য শাখার স্বপ্ন দেখি যা বিশাল ক্ষমতাসম্পন্ন এবং সীমা লঙ্ঘন করতে পারে এবং একই সময়ে পাঠকের ভালোবাসাও পেতে পারে।

     আমি এক নতুন ধরনের বয়ানকারীর স্বপ্নও দেখি: ‘চতুর্থ পুরুষ’ বয়ানকারী। তিনি শুধু ঘটনা প্রবাহের ব্যাকরণের নির্মাণকারী নন, সব চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গির পরিধি জুড়ে থাকেন তিনি। প্রত্যেক চরিত্রের দিগন্তের বাইরে পদচারণার ক্ষমতা থাকার কারণে তিনি সবার চেয়ে বেশি দেখতে পান। তার দৃষ্টিভঙ্গির সীমাও ব্যাপক। তিনি সময়কে গুরুত্ব না দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি মনে করি, এ রকম বয়ানকারির অস্তিত্ব সম্ভব।

     আপনারা কি কৌতুহল বোধ করেছেন, বাইবেলের চমৎকার গল্পবলিয়ে কে যিনি উচ্চ কণ্ঠে, আহ্বান করেন, ‘শুরুতে ছিল শব্দ,’? বিশ্ব সৃষ্টির কথা, প্রথম দিনের কথা যিনি বর্ণনা করেন যখন বিশৃঙ্খলা বিন্যাস থেকে আলাদা হয়ে যায়, যিনি বিশ্বের আদি উৎসের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করেন, যিনি ঈশ্বরের চিন্তা সম্পর্কেও জানেন, তাঁর সংশয় সম্পর্কেও জানেন এবং অবিচল হাতে কাগজে সেই অবিশ্বাস্য বাক্যটি সাজান, ‘অতপর ঈশ্বর দেখলেন এটা মঙ্গলজনক,’? ঈশ্বরের চিন্তা সম্পর্কে অবগত থাকা এই বয়ানকারী কে?

     সবরকম ধর্মতত্ত্বীয় সংশয় বাদ রেখে আমরা এই কোমল এবং রহস্যময় বর্ণনাকারীকে অলৌকিক এবং তাৎপর্যপূর্ণ মনে করতে পারি। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সবকিছুই দেখা যায়। সবকিছু দেখা মানে অস্তিত্বে থাকা সব কিছুই একটা একক সমষ্টির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত—এই চরম সত্যকে স্বীকৃতি দেওয়া, এমনকি তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক আমরা এখন পর্যন্ত না জেনে থাকলেও। সবকিছু দেখা মানে বিশ্বের জন্য একটা ভিন্ন ধরনের দায়িত্ব; কারণ এটাও অবশ্যম্ভাবী যে, ‘এখানকার’ প্রত্যেকটা অঙ্গভঙ্গি বা ইঙ্গিত ‘সেখানকার’ ইঙ্গিতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, বিশ্বের এক জায়গায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত অন্য প্রান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। ‘আমার’ এবং ‘তোমার’ মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করার বিষয়ও তর্কের বিষয় হয়ে ওঠে।

     সুতরাং পাঠকের মনে সামগ্রিকতার একটা বোধ সক্রিয় করতে পারে, ছোট ছোট বিষয়কে একক কোনো পরিকল্পনায় নিয়ে আসতে পাঠকের সক্ষমতাকে চালু করে দিতে পারে এবং ঘটনার সমস্ত ক্ষুদ্র অংশের মধ্যে গোটা নক্ষত্রপূঞ্জকে আবিষ্কার করতে পারে এমন উপায়ে সততার সঙ্গে গল্প বলাই সবচেয়ে ভালো। সবাই এবং সবকিছু একটা সাধারণ ধরণার মধ্যে ডুবন্ত—এ সত্যকে পরিষ্কার করে দিতে পারে এমন উপায়েই গল্প বলা ভালো। আর আমাদের গ্রহের প্রতিটা ঘূর্ণনের সঙ্গে আমরা আমাদের মনে এ সত্য যত্নসহ তৈরি করে থাকি। 

     সাহিত্যের এ কাজটা করার ক্ষমতা আছে। উচ্চ রুচিসম্পন্ন এবং নিম্ন রুচিসম্পন্ন, জনপ্রিয় এবং মর্যাদাসম্পন্ন বলে সাহিত্যকে অতি সরলীকৃত শ্রেণিতে ফেলার কাজটা বাদ দেওয়া উচিত। সাহিত্যের শাখা বিভাজনকে হালকাভাবে গ্রহণ করা উচিত। জাতীয় সাহিত্য বলে সাহিত্যের সংজ্ঞা দেওয়া বাদ দিতে হবে। কারণ আমরা তো জানি, সাহিত্যের জগৎ একটা একক জগৎ ‘উনাস মান্ডাস’ (এক পৃথিবী)-এর মতো একটা সাধারণ মনোস্তাত্ত্বিক বাস্তবতার মধ্যে আমাদের মানব অভিজ্ঞতা মিলিত হয়ে থাকে। লেখক এবং পাঠক সমান ভূমিকা পালন করে থাকেন। লেখক পালন করেন তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে, আর পাঠক পালন করেন ধ্রুব ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে।

     হয়তো আমাদের খণ্ডিত অংশের ওপরও নির্ভর করা উচিত; খণ্ডিত অংশই সমষ্টিকে বেশি বর্ণনা করার সক্ষমতা দিয়ে থাকে এবং আরো জটিল উপায়ে বহুমাত্রিকভাবে বর্ণনা করার সুযোগ দেয়। আমাদের গল্পের একটার প্রাসঙ্গিকতা আরেকটাকে সীমাহীনভাবে নির্দেশ করতে পারে। গল্পগুলোর প্রধান চরিত্ররা একের অন্যের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে পারে।

     আমি মনে করি, এখন বাস্তবতা বলতে আমরা যা বুঝি তার পুনঃসংজ্ঞা আমাদের সামনে আছে। নতুন সংজ্ঞা সন্ধান করার মাধ্যমে আমরা নিজেদের অহংবোধের বাইরে যেতে পারব এবং জগৎকে আমরা যে কাচের পর্দার ভেতর দিয়ে দেখি তার ভেতর প্রবেশ করতে পারব। কারণ ইদানীং বাস্তবতার প্রয়োজনীয়তাটা পূরণ করে থাকে প্রচার মাধ্যম, সামাজিক নেটওয়ার্কি সাইটস এবং ইন্টারনেটের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক। সম্ভবত আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে এক ধরনের নব্য-পরাবাস্তবতা বা পুনর্বিন্যস্ত দৃষ্টিভঙ্গি। সেটা আপাতস্ববিরোধিতার সামনে উঠে দাঁড়াতে ভয় পাবে না এবং সহজ কার্যকারণ নীতির প্রসঙ্গে নিজের প্রবণতার বিরুদ্ধেও যেতে পারে। আসলে আমাদের বস্তবতা ইতোমধ্যেই পরাবাস্তব হয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত, অনেক কাহিনিই আমাদের নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রেক্ষিতে, নতুন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব থেকে প্রণোদনা নিয়ে আবার লেখা দরকার। তবে পুরাণ এবং সামগ্রিক মানব কল্পনার দিকে অবিরাম ইঙ্গিত করাটাও সমান গুরুত্বের বলে মনে করি আমি। পুরাণের ঘনবিন্যস্ত কাঠামোর দিকে ফিরে আসার মাধ্যমে আমরা এখন যে পরিসরের ঘাটতির মধ্যে বাস করছি তার চৌহদ্দির মধ্যেও সুস্থিতি-বোধ আনতে পারি। আমি বিশ্বাস করি, পুরাণ আমাদের মনোস্তত্ত্ব গঠনের নির্মাণ সামগ্রী এবং সম্ভবত পুরাণকে আমরা অবজ্ঞা করতে পারি না। বড়জোর আমরা পুরাণের প্রভাব সম্পর্কে অন-অবগত হয়ে থাকতে পারি।

     সন্দেহ নেই, প্রতিভা খুব শিঘ্রই আসবে, পুরোপুরি ভিন্ন তবে অকল্পনীয় আখ্যান নিয়ে আসবে যার মধ্যে অবশ্যক সবকিছুরই জায়গা হয়ে যাবে। এ রকম গল্প বলার পদ্ধতি নিশ্চয় আমাদের বদলে দিতে পারবে। আমরা অমাদের পুরনো সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ঝেড়ে ফেলতে পারব এবং নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি খুলে দিতে পারব যেগুলোর অস্তিত্ব সব সময় এখানেই কোথাও না কোথাও ছিল, আমরা শুধু চোখ মেলে দেখতে পাইনি। ‘ডক্টর ফস্টাস’-এ টমাস মান একজন সুরকারের কথা বলেন যিনি পরিপূর্ণ সংগীত উদ্ভাবন করেন, সে সংগীত মানুষের চিন্তা বদলে দিতে পারে। তবে এই সংগীত কিসের ওপর নির্ভর করবে মান তা বর্ণনা করেন না। তিনি শুধু কাল্পনিক ধারণা সৃষ্টি করেন এই সংগীতের শব্দ কেমন শোনাবে। সম্ভবত কোনো শিল্পীর ভূমিকা সেটার ওপরই নির্ভর করে, কোনো জিনিস অস্তিত্বে থাকলে কেমন লাগত তার একটা আগাম স্বাদ। এভাবেই সেটাকে কল্পনীয় বানানো যেতে পারে। কল্পনায় আসতে পারাই অস্তিত্বের প্রথম পর্যায়।

     আমি কথাসাহিত্য লিখি। কিন্তু এটা কখনও অবিমিশ্র নির্মাণ নয়। আমি যখন লিখি তখন সবকিছুই নিজের অনুভবের মধ্যে ধারণ করতে হয়। আমাকে সবকিছুই বলতে হয়, জীবন্ত এবং প্রাণহীন বস্তু যা যা আমার বইয়ে আসে সবই আমার ভেতর দিয়ে পার হয়, মানবীয় এবং মানুষের পরিচয়ের বাইরের সবকিছুই, প্রাণহীন এবং প্রাণসম্পন্ন সবই। প্রত্যেক মানুষ এবং বস্তুকে নিবিড় দৃষ্টিতে সর্বোচ্চ ঐকান্তিকতা নিয়ে দেখতে হয় আমাকে এবং আমার ভেতরে সবকিছুকে জীবন্ত ব্যক্তির মতো দেখতে হয়, ব্যক্তিতে পরিণত করতে হয়।

     কোমলতা আমার জন্য সেটাই দিয়ে থাকে। কারণ কোমলতা হলো প্রাণহীনকে প্রাণ দানের, অনুভূতি ভাগাভাগি করার এবং এভাবে অবিরাম অশেষ সাদৃশ্য খুঁজে বের করার শিল্প। গল্প সৃষ্টি করা মানে প্রাণহীনকে প্রাণ দেওয়া, জগতের সব ক্ষুদ্র বস্তুকে অস্তিত্ব দান করা যার প্রতিনিধিত্ব থাকে মানুষের স্মৃতির মধ্যে এবং অভিজ্ঞতার মধ্যে, মানে যে সব পরিস্থিতি মানুষ পার করে এসেছে সেগুলোর মধ্যে। কোমলতা সবকিছুকে ব্যক্তির গুণ আরোপ করে থাকে, মানুষের মতো বলার ক্ষমতা দিয়ে থাকে, অস্তিত্বে আসার মতো সময় এবং পরিসর দান করে থাকে এবং প্রকাশিত হওয়ার যোগ্যতা দান করে থাকে। কোমলতাকে ধন্যবাদ দিতে হয়, কেননা চায়ের পাত্র কথা বলা শুরু করতে পারে।

     কোমলতা হলো ভালোবাসার সবচেয়ে নম্র চেহারা। এই ভালোবাসাটা বাইবেল কিংবা আচরিত নীতিমালায় আসে না। কোমলতার নাম নিয়ে কেউ শপথ গ্রহণ করে না। কোমলতার কোনো প্রতীক নেই, কোমলতা কোনো অপরাধের দিকে নিয়ে যায় না। কোমলতা দ্রুত ঈর্ষা জাগায় না।

     আমরা যেখানেই অন্য কোনো সত্তার দিকে নিবিড় দৃষ্টিতে তাকাই, মানে যেটা আমাদের নিজস্ব সত্তা নয়, তখনই কোমলতা চলে আসে।

     কোমলতা স্বতঃস্ফূর্ত এবং অনাগ্রহী; অন্যের আবেগের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন বন্ধুভাব থেকে কোমলতার পরিধি বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। কোমলতা বরং সচেতন তবে হয়তো নিয়তির খানিকটা বিষণ্ন ও সাধারণ ভাগাভাগি। অন্য সত্তা সম্পর্কে, তার নাজুকতা সম্পর্কে, তার অনন্য স্বভাব সম্পর্কে, তার দুর্ভোগ এবং তার ওপরে সময়ের প্রভাব থেকে আত্মরক্ষার ঘাটতি সম্পর্কে গভীর আবেগে জড়ানোর নামও কোমলতা। যে বন্ধন আমাদেরকে সংযোগে বাঁধে সেটা উপলব্ধি করে থাকে কোমলতা, মানে আমাদের মাঝে বিরাজিত সাদৃশ্য এবং মিল। কোমলতা একটা দৃষ্টির ধরন যার মাধ্যমে দেখলে জগৎটা আমাদের সামনে প্রাণবন্ত, জীবন্ত, আন্তসম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত হয়ে দেখা দেয়; সে জগৎ নিজের সঙ্গে সহযোগিতায় মেলে এবং নিজের ওপরই নির্ভর করে।

     নিজেরা ছাড়া আমরা অন্য সত্তার প্রতি যে কোমলতা দেখাই তার ওপরেই তৈরি হয় সাহিত্য। এটাই উপন্যাসের মৌলিক মনোস্তাত্ত্বিক নির্মাণকৌশল। মানুষের যোগাযোগের সবচেয়ে জটিল উপায় এই অলৌকিক যন্ত্রকে ধন্যবাদ, আমাদের অভিজ্ঞতা সময়ের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করতে পারে, যারা জন্মেনি তাদের কাছেও পৌঁছে যায়, তারা অবশ্য একদিন আমরা যা লিখেছি, মানে আমাদের নিজেদের সম্পর্কে এবং জগৎ সম্পর্কে আমরা যে সব গল্প বলেছি, সেগুলোর ওপর দৃষ্টি ফেলবে।

     তাদের জীবন কেমন হবে, কিংবা তাদের পরিচয় কী হবে সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। মাঝে মধ্যে লজ্জা এবং অপরাধবোধ নিয়ে তাদের কথা ভাবি।

     জলবায়ুর জরুরী অবস্থা এবং রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে আমরা সমাধানের পথ খুঁজছি, পৃথিবীকে বাঁচানোর মাধ্যমে এ দুটি সমস্যার সম্মুখীন হতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যাচ্ছি। এ সমস্যাগুলো বাইরের কোথাও থেকে আসেনি। আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, এ সমস্যাগুলো নিয়তি কিংবা ভবিতব্যের বাঁক বদলের ফলাফল নয়, বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়সহ পৃথিবীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিসহ কতিপয় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এবং সিদ্ধান্তের ফলাফল। লোভ, প্রকৃতিকে সম্মানের চোখে দেখার ব্যর্থতা, স্বার্থপরতা, কল্পনার ঘাটতি, অশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং দায়িত্ববোধের অভাব পৃথিবীকে এমন একটা বস্তুর অবস্থায় নামিয়ে ফেলেছে যাকে টুকরো টুকরো করে কাটা যায়, ব্যবহার করে শেষ করা যায় এবং ধ্বংস করে ফেলা যায়।

     সে কারণেই আমি বিশ্বাস করি, আমাকে গল্প বলতে হবে যেন মনে হয়, পৃথিবী একটা জীবন্ত একক সত্তা, আমাদের চোখের সামনে প্রতিনিয়ত চেহারা ধারণ করছে এবং আমরা যেন পৃথিবীর ক্ষুদ্র তবে শক্তিশালী অংশ।   

     [জেনিফার ক্রফট এবং অ্যান্টোনিয়া লয়েড-জোনসের ইংরেজি অনুবাদ থেকে]

আরও পড়ুন : ওলগা তোকারচুকের নোবেল ভাষণ (পর্ব : তিন)

//জেডএস//

লাইভ

টপ