বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯‘যাদের নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কাজ করছি, এই পুরস্কার তাদের’

Send
সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:২০, জানুয়ারি ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২২, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

সাইমন জাকারিয়া ফোকলোরে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ লাভ করেছেন। আজ এই সংবাদ ঘোষিত হলে টেলিফোনে তার অনুভূতি গ্রহণ করা হয়।

পুরস্কার পেয়ে আমি আনন্দিত। আমি মনে করি এই পুরস্কার তাদের, যাদের নিয়ে আমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কাজ করছি। এই পুরস্কারের মধ্য দিয়ে বরং তাদেরই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করা হলো। এমনিতেই লোকসাহিত্য আমাদের সমাজে অবেহেলিত, এমনকি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও ততটা মূল্যায়িত নয়, গ্রামের সেইসব শিল্পী বাউল, সাধক, যাদের নিয়ে আমি দেশ-বিদেশের কাগজে লিখেছি, গবেষণা করেছি, যাদের কাজের প্রতি আমার ভক্তি ও ভালোবাসা রয়েছে, তারাই এই পুরস্কারটি পেয়েছেন। এজন্য আমি বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ জানাই।

লোকসাহিত্য নিয়ে কাজ করতে হলে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই চলে না, এজন্য আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, ভক্তি ইত্যাদি থাকতে হয়। আমাদের দেশের দার্শনিক লালন থেকে শুরু করে অনেকেই, বা বলা যায় চর্যাপদের কাহ্নপা-লুইপা তাদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকতে হয়। শুধুমাত্র আধুনিক শিক্ষা নিয়ে লোকসাহিত্য চর্চা করা সম্ভব নয়।

এখন আমাদের দেশে লোকসাহিত্য চর্চার প্রসার বেড়েছে। অনেকেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। এই পুরস্কারের মাধ্যমে তারাও হয়ত রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়িত হবেন।

একাডেমিক শিক্ষার বাইরেও অনেক মানুষ আছেন যারা গবেষণা করেন, কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতাও আছে। তাদের কাজে আবেগ বেশি। তারা যদি আরও যুক্তিনিষ্ঠ ও বৈশ্বিক গবেষণার রীতি-পদ্ধতি সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত হন তাহলে আমি মনে করি ফোকলোর চর্চার কেন্দ্র-প্রান্ত বলে কিছু থাকবে না।

আমি যে পারিবারিক ঐতিহ্যের ভেতর লালিত হয়েছি, যে বিশ্বাস ও মূল্যবোধ ধারণ করি এবং জীবনে চর্চা করি তা বাংলার চিরায়ত মননেরই অংশ। এই মনন একক ব্যক্তি নির্মাণ করেননি, বাংলার শত শত বাউল-সাধকরাই করেছেন। তাদের প্রতিই আমি কৃতজ্ঞ।

//জেডএস//

লাইভ

টপ