রফিক আজাদের সাক্ষাৎকার

Send
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জব্বার আল নাঈম
প্রকাশিত : ১৬:১৭, মার্চ ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩১, মার্চ ১৪, ২০২০

প্রথম পর্বের পর থেকে

সমবয়সী সাহিত্যিক বন্ধুদের নিয়ে কোনো মজার স্মৃতি মনে আছে?

খুব মনে নাই। মনে রাখতে পারি না। গুণের কথা মনে আছে। সে তখন নতুন ঢাকায় এসেছে। শুধু কবিতা লেখার জন্য। আমি তখন মনে মনে হেসেছিলাম। এরপর গুণ নিজের প্রতিভা বিকাশে অনেক কষ্ট করেছে। গুণ এখন অনেক বড় কবি। সহযোগিতা আমি যে সিনিয়রদের কাছ থেকে পাইনি এমনও নয়। কিন্তু কবিতায় কেউ কাউকে সহযোগিতা করতে পারে না।

 

আপনার লেখাপড়া এবং শৈশব সম্পর্কে জানতে চাই।

জানার আর কী আছে? ছোটবেলা থেকে আমার পরিবার অর্থকষ্টে ছিল না। আমি ছিলাম পরিবারের সব ভাইবোনের মধ্যে ছোট। আমার বড় ভাই আমাকে লেখা পড়ার ব্যপারে খুব চাপে রাখতেন। মাঝে মধ্যে মারতেনও। আবার অনেক আদর করতেন। তিনি চাইতেন আমি বড় কিছু হই। কিন্তু আমি জানি, আমি অত মেধাবী লোক নই। ভাইয়ের জোরে লেখাপড়া করেছি। আর পড়াশোনার প্রতি আমার কোনোদিনই আগ্রহ ছিল না। আমি ক্লাসে প্রথম হতে পারিনি। তবে খুব ছোটবেলা থেকেই কবিতা লিখতাম। কবিতাগুলো ছিল খুব কাঁচা। কাঁচা হলেও লিখতাম। আর আমার বড় ভাই সেসব ছিঁড়ে ফেলতেন তখন। গোপনে গোপনে আবার লিখতাম। কিন্তু ভাইয়ের হাতে ধরা পড়ে যেতাম। আমার ভাইয়ের কারণেই আমার লেখা-পড়া হয়েছিল। আমার সেই ভাই মারা যায়, তিনি কন্ট্রাকটারি করতেন। আমার আরেকটা বোনও মারা যায়। তাদের মৃত্যুতে আমার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। সেই শোক আমার বাবা-মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ছিল।

আরেকটা ঘটনা আছে, আমার আরেক বোন ছিল। নাম খুকী। সে লেখাপড়া করত কলকাতায়। আমি তখন মায়ের পেটে ছিলাম। তখন খুকী মাকে বলেছিল ছেলে হলে নাম রাখবেন জীবনকুমার। আর মেয়ে হলে আরজুমান না জানি কী? জীবনকুমার তখনকার এক রাজার নাম ছিল। আমার সেই বোনটাও কালাজ্বরে মারা যায়।

এমন মৃত্যু কোনো বাবা-মা সহ্য করতে পারেন? পারে না। আমার বাবা-মাও পারেননি। আরও অনেক ঘটনা আছে। সেসব আজ আর বলতে চাই না। (তখন চোখে পানি চলে এসেছিল)

 

লেখালেখি ঠিক শুরু করলেন কীভাবে? মানে লেখালেখির অভ্যাস!

বললাম তো, খুব ছোটবেলা থেকেই। তখনকার লেখাগুলো ঠিকমতো হয়ে উঠত না। কিন্তু লিখতে ভালো লাগত। ঐ যে ভালো লাগাটার কারণেই তো আজকে আমি। তাই না? খুব ছোট থাকতেই...সম্ভবত পঞ্চম শ্রেণিতে থাকাকালীন সময়ে বঙ্কিমচন্দ্র পড়েছি। দেবী চৌধুরাণী দিয়ে যদিও শুরু করেছিলাম। তখন আমাদের ইংরেজি পড়তে হত। বিট্রিশ পিরিয়ডে ইংরেজি পড়া ছাড়া উপায়ও ছিল না। এইভাবে স্কুলের লাইব্রেরিতে ক্লাসের বইয়ের পাশাপাশি সাহিত্যের বইগুলোও পড়তাম। এবং একটা সময় পড়ে শেষ করে ফেলি। তখন আমাদের হেডমাস্টার খুবই অবাক হয়েছিলেন। আমার কারণে আবার নতুন বই আনার চিন্তাও করেছিলেন। তখন খুব পড়তাম। পড়াটা ছিল আমার নেশা। না পড়লে বোধের জায়গা তৈরি হত না। নতুন চিন্তা আসত না। হয়ত পিছিয়ে যাব বলে সবসময় মনে হত।

 

এরপরই সেখানেই উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছেন?

কালীহাতিতে রামগতি শ্রীগোবিন্দ হাইস্কুলে ভর্তি হলাম। এখানে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলাম সম্ভবত। সেখানে এক বাড়িতে থাকা শুরু করি। মজার ব্যপার হল, তখনই প্রথম বাবা আমাকে দেখতে আসেন। এখানে এসে পুরো দমে সাহিত্য শুরু করি। তখন বিভিন্ন সাহিত্য-আড্ডায় যেতাম। বন্ধুদের সঙ্গে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতাম। বাবা বাড়ি থেকে টাকা পাঠাতেন তা দিয়ে আমরা সাহিত্য-আড্ডা করতাম। খুব আনন্দ হতো। এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াতাম। বাবা-মা আমার প্রতি তাদের ভালোবাসা বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে মনে হত। ভাষা আন্দোলন শেষে আবার পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার জন্য দেশবাসী আন্দোলন শুরু করে। আরেকটা কথা জানিয়ে রাখি, ভাষা আন্দোলনের সময় আমার বয়স ১৩-১৪ হবে। তখন আমি খালি পায়ে মিছিলে যোগ দিয়েছিলাম। এরকম আরও কত স্মৃতি আছে। তুমি আবার আসলে বলা যাবে।

 

কবি মাত্রই প্রেমিক। মানুষ কবি শুনলেই ভাবে প্রেমিক মানুষ। ঐ সময়ে প্রেম-টেম করেছিলেন?

তা তো করতাম। প্রেম না করে থাকা সম্ভব? তবে, তখনকার প্রেম এখনকার মতো ছিল না। খুব কঠিন ছিল।

 

আপনার কাব্যজীবন নিয়ে আলোচনা করতে চাই। জানতে চাইব আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম অসম্ভবের পায়েকেন?

তা ভালো কথা একটা। কবিতা আমার কাছে কখনোই সহজ মনে হয় না। কবিতা সত্যিকার অর্থেই খুব দূর্ভেদ্য এবং কঠিন। সেই কঠিন কাজটাই নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে তা বুঝতে পারি না। নামকরণটা সেই কারণেই এমন হয়েছে। তবে, নামটা কিন্তু ধার করা। রবীন্দ্রবাবুর গান থেকে নিয়েছি। কবিতা নিয়ে আমার কত ভাবনা। কবিতাকে আমি কখনোই সহজ ভাবি না। কবিকেও না। যারা এ ধরনের সাধনায় আছে তারা ভিন্নজাতের কেউ হবে। কবিরা সাধারণ মানুষ নয়। ওরা অসাধারণ কেউ হবে।

কবিতা নিঃসঙ্গতার ফসল। মানুষ যখন একাকি থাকে তখন কত শত চিন্তা মাথায় এসে যে ভর করে তা বলা মহামুশকিল। তখন অনেক ভাবনা মাথায় কাজ করে। কোন ভাবনাটা যে কাকে মহৎ বানাইয়া দেয়! ভালো একটা কবিতা বানাইয়া দেয়, তা বলা মুশকিল। কবিরা সবসময় একা। কবির কোনকালেই সঙ্গী-সাথি নেই। সে বন্ধুদের সঙ্গে থেকে যা চিন্তা করে, লেখার টেবিলে আরেকটা লেখে। বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। কবি অন্য চিন্তাও করেন। দেশ ও বিশ্বের মানুষ নিয়ে ভাবেন। যা অন্যরা ভাবেন না।

 

এই যে বললেন ভাবে না, এটার কোন ব্যাখ্যা আপনার কাছে আছে?

একজন ইঞ্জিনিয়ারের ভাবনা তার কাজ। একজন ডাক্তারের ভাবনা রোগীর ট্রিটমেন্ট। অন্য মানুষরা সাধারণত কমই ভাবে। আর লেখক-সমাজ তুলনামূলক বেশি ভাবে। কবি হল অগ্রসর সমাজের প্রতিনিধি।

 

অনেক লেখকই প্রথম বই নিজ খরচে প্রকাশ করে থাকেন। আপনারটা?

আমার প্রথম বই বের করি খুব ভাইবা চিন্তা করে। এ বিষয়ে আমার খুব একটা তাড়াহুড়ো ছিল না। আর আমি তখন কাকমারী কলেজে চাকরি করি। গুণ (কবি নির্মলেন্দু গুণ) বয়সে আমার ছোট হয়েও আমার আগে বই প্রকাশ করেছে। সে আমার অনেক পরে ঢাকায়ও এসেছে। এরপর তো আমরা ঢাকা মাতাইছি।

 

শুনেছি আপনার প্রথম বই কবি আসাদ চৌধুরী প্রকাশ করে দিতে চেয়েছিলেন?

চেয়েছিল। আমি দেই নাই। আসাদ ভাই তখন একটা স্কলারশিপ পাইছিল। সেই স্কলারশিপের টাকা দিয়ে আমার বই প্রকাশ করে দিতে চাইল। আমি প্রথম রাজি হয়েছিলাম। পরে না করে দিয়েছি। প্রকাশক আমার বই নিজের খরচে প্রকাশ করবে বলে জানায়। স্কলারশিপের টাকা দিয়ে বই করাটা ঠিক না। এজন্য স্বাধীনতার আগে আমার বই আর প্রকাশ করা হয় না। পরে হয়েছে। আমার বই যখন বের হয় তখন আমি অধ্যাপনায় নিয়োজিত।

 

আপনি একজন কবি। একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে কোথায় আপনি অংশগ্রহণ করেছিলেন?

আমি যুদ্ধ করেছি কাদেরিয়া বাহিনীর সঙ্গে। কাদের সিদ্দিকী আমার বন্ধুর মতো ছিল। তিনি আামকে খুব টেককেয়ার করতেন। স্পেশাল অপারেশনে আমাকে নিয়ে যেতেন। তিনি খুব নিবেদিত ছিলেন। কিন্তু, স্বাধীনতার পর তাকে নিয়ে এত বিতর্ক হবে ভাবিনি। খুব দুঃখ হয়।

 

কিন্তু, ‘ভাত দে হারামজাদা...’ কবিতায় আপনি তো সেই স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছেন?

তার একটা কারণ আছে।

 

কী কারণ?

দেশ স্বাধীন করা মানে হলো আমাদের অধিকার নিশ্চিত করা। আমার মনে হয় সেটা আমরা পাইনি। কিন্তু কবিতার প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। একটা ভুলের ভেতর থেকে কবিতাটি লিখেছিলাম। সেই ভুলটা কবিতার ভুল না। দৃষ্টির ভুল। কবিতা ঠিক আছে। দৈনিক ইত্তেফাকের এক ফটোসাংবাদিক পরিচিতি পাওয়ার জন্য বাসন্তী নাকি নামের একজনকে জাল পরিয়ে ছবি তুলেছে। ১০০ টাকার বিনিময়ে আরেকজনের বমি খাওয়ার অভিনয়ের ছবি তুলেছে। তা দেখে স্বাধীনতা শব্দটির প্রতি খুব রাগ হয়েছিল! এরপর কবিতাটি লিখেছিলাম।

 

সেই বাসন্তী এখন রাজনীতির একটা অংশ।

আমি তারপরে অনেকবার বলেছি অবজারভেশনটা ছিল ভুল। বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক দল আমার আগের কথা শুনলে পরের কথা শুনবে না কেন? আমি সবার কাছে বলতে চাই সেই বাসন্তী ছিল সাজানো। কবিতা লেখার সময় বা তারপরেও জানি না যে ছবিটা ছিল ভুল। সে মরার আগে আমাকে সেই কথা বলেছে। ঐ শালা ফটোগ্রাফারের ছবি দেইখা তো আমি কবিতাটি লিখতে বসেছি। সে জন্য আমি নিজেকে দোষী ভাবি না। ভাবি, বিস্তারিত জানা উচিত ছিল।

 

সেটা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আপনাকে কিছু বলেছিলেন?

আমার তো বড় ভাগ্য! ভাগ্য ভালো না হইলে আমি কবে মারা পড়তাম। অনেকেই আমার বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করে দিলো। দেশ সবেমাত্র স্বাধীন হইছে। পাকিস্তানের গন্ধ তখনও আমাদের আকাশে বাতাসে। কিছু সুবিধাবাদী শয়তানের দল স্ব-প্রণোদিত হইয়া আমারেও ধরতে চাইছিল। তা আর পারে নাই, সেকেন্ড ইন কমান্ড আনোয়ারুল হক শহীদ আমাকে বঙ্গবন্ধুর কাছে নিয়ে গেছে। শেখ সাহেব আমার সব কথা শোনেন। আমার সামনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমাকে নিয়ে যেতে বলেন। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। ‘ওরে পাঠাইলাম। ওর কথা শুনে এই গাড়ি দিয়ে পাঠিয়ে দিবে’। আর কোনো কথা বলেননি বঙ্গবন্ধু। সেখানে গেলে তিনি আমার সঙ্গে কথা বলে তখনকার ডিআইজি সাহেবকে টেলিফোন দেন। এসবির অফিসে আমাকে নিয়ে আটকাইয়া রাখে। কেন লিখেছি? কী লিখেছি তার ব্যাখ্যা চায় আমার কাছে। আরও বললো মুখে বললে হবে না। কাগজে লিখে দিতে। আমাকে কাগজ কলম দেয়া হল। এক দিস্তা কাগজ। সাথে চা দিয়েছিল দুই কাপ। এরপর আমি লিখেছি ৬১ পৃষ্ঠার মতো দীর্ঘ এক লেখা।

 

কী লিখেছিলেন, মনে আছে?

কিছু তো আছে। তখন সারা পৃথিবীতে খাদ্যাভাব ছিল। বাংলাদেশে যুদ্ধের পরে অভাব থাকাটা স্বাভাবিক ছিল। কোনো দেশের মানুষ বেশি অভাবগ্রস্থ, কোনো দেশের মানুষ মোটামুটি খেতে পারছে। কোনো দেশে পারছে না। আবার কারা না খেতে পেরে মরছে। দুর্ভিক্ষ অঞ্চলে কেন মানুষ বসবাস করছে আবার না খেতে পেরেও মরছে। আমি লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, ৬১ পৃষ্ঠা লেখা। আমি আরও লিখেছি, দেশ স্বাধীন করছি মানুষ যেন না খেয়ে মরে। এখন না খেয়ে ভাতের অভাবে একটা মানুষও মরতে পারবে না। আমার লেখা শেষ হলে আমাকে বের হতে দেয়। আমি চলে আসি। আমি সেখানেও আপোষ করি নাই। কবিরা কার সঙ্গে আপোষ করবে?

 

রফিক ভাই, আবার জানতে চাইব, কবিতা নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

কবিতা নিয়ে আমার ভাবনা-বৈচিত্র অন্যরকম। কবিতাকে আমি অন্য এক জায়গা থেকে দেখি। কবিকেও। কবিতা সবাই লিখতে পারে না। আর বাংলাদেশে অনেক কবি আছে। দুঃখের দেশের মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই কবি হইয়া যায়। ঠিক না? দেশটার কি দুঃখের শেষ আছে? নেই। তবে, কবিতা হলো সচেতন বোধের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ। এই সংখ্যাটা আবার একটু কম আছে আমাদের। কবিতা নিয়ে ভাবতে হয়। অনেক ভাবতে হয়। না ভাবলে হবে কীভাবে?

 

কোন ধরনের ভাবনা?

একজন লোক ইঞ্জিনিয়ার হইতে হলে তা নিয়ে অনেক ভাবনা-চিন্তা করতে হয়। ডাক্তার হইতে গলে কাঁটাছেড়া বা ঔষধপত্র নিয়ে অনেক চিন্তা লাগে। তেমনি কবির বেলায়ও তাই। কবিতা লেখবেন আর প্রকৃতি নিয়ে ভাববেন না, মানুষ নিয়ে ভাববেন না তা হবে না। পশুপাখি, লতাপাতা নিয়েও ভাবে কবি। নিবেদন ছাড়া কবিতা হইব না। অনেক নিবেদন লাগে। জ্ঞান হইতে হইব ধ্যানের মতো। যাঁরা সত্যিকারার্থে কবিতা করে তারা অন্যকাজে সফল হইতে পারবে না। কবিতা তার সব খাইয়া ফালায়। সত্যিকার কবিকে দিয়ে কবিতাই হয়। রবীঠাকুর অন্য কোনোকাজ করেছে? ধ্যান ছাড়া কী আর করেছে সে? কাজী সাহেব আর জীবনবাবুর ভয়াবহ রকমের নিবেদন ছিল কবিতার প্রতি।

 

আপনার স্ত্রী একজন শিক্ষক আবার কবিও। কবিতা বা সংসার-ধর্ম নিয়ে আর্গুমেন্ট হতো?

একেবারে হয় না যে তা তো না। তবে, আমরা দু’জন দুজনের প্রতি অনেক শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। সম্মান করতাম। সে আমাকে নিয়ে ভাবে। সে চায় আমি অনেকদিন সুস্থ থাকি। আমার কবিজীবন পার করতে পেরেছি স্ত্রীর কারণেই। সে আমাকে কখনোই কোনো কাজ চাপিয়ে দিত না।

 

সাম্প্রতিককালের কবিদের কবিতা পড়া হয়?

তেমন একটা পড়তে পারি না। বয়সের কারণে অনেককিছুই আর ভালো লাগে না। ষাটের পর নব্বই দশকের কবিতায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। এর পরের কবিতা আবার উল্লেখ করার মতো পড়া হয় নাই। প্রত্যেক কবির কাজ নতুন নতুন ভাবনা ভাবা। এখনকার সময়ে যারা লেখে তারাও নতুন ভাবনা নিয়েই এগুচ্ছে। নতুন ভাষা, নতুন চিন্তা ছাড়া সাহিত্যে টিকে থাকা যাবে না। নতুন পথের আবিষ্কার করতে হবে, নতুন পথে হেঁটে হেঁটে।


আরও পড়ুন : রফিক আজাদের সাক্ষাৎকার, ১ম পর্ব

//জেডএস//

লাইভ

টপ