সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৫

Send
মুহম্মদ মুহসিন
প্রকাশিত : ০৭:০০, আগস্ট ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০০, আগস্ট ০৭, ২০২০

পূর্ব প্রকাশের পর

এই ৭থিম-জোনের মধ্যে আমরা মাদাগাস্কার থেকেই শুরু করলাম। গিয়ে দাঁড়ালাম মাদাগাস্কারের ‘মাদাগাস্কার: এ ক্রেইট এ্যাডভেঞ্চার’-এর বোট-রাইডে ওঠার কিউতে। গিয়ে দেখি কিউ দুইখানা: এক কিউতে অনেক মানুষ, আরেক কিউতে প্রায়-নাই মানুষ। গিয়ে হাবলুর মতো সাহস করে দাঁড়ালাম নাই-মানুষের কাতারেই। কিন্তু কিছুক্ষণেই জানলাম ঐ নাই-মানুষের কাতারে যে দুয়েকজন মানুষ তাদের তবকায় আমরা পড়ি না। ও বড় টাকা-ওয়ালা তবকা। ওখানে দাঁড়ায় শুধু ‘এক্সপ্রেস’ টিকেটধারী লোকেরা। আমাদেরটা এক্সপ্রেস টিকেট নয়। আমাদেরটা আফসোস টিকেট। আমাদের টিকেটে অবশ্য ‘আফসোস টিকেট’ নাম দেয়া ছিল না। তবে এটা যে ‘আফসোস টিকেট’ তা আমরা অল্প-কিছুক্ষণেই বুঝতে পেরেছিলাম। আমরা দেখলাম যে, আমরা যেখানেই দাঁড়াই সেখানেই আমাদের লাইনের সামনে দাঁড়ানো থাকে কয়েকশো মানুষ। সেই কয়েকশো মানুষ ঠেলে একটি রাইড সম্পাদন করতে আমাদের ঘণ্টা দুই সময় লেগে যায়। আমাদের টিকেট পুরো দিনের জন্য অর্থাৎ দশ ঘণ্টার জন্য এবং ঐ টিকেট দিয়ে ইউনিভার্সেলের পুরো ২৪টি রাইডই আমাদের জন্য বৈধ। কিন্তু টিকেট যতই বৈধ হোক এক রাইডে যদি দুই ঘণ্টা লাগে তাহলে ঐ টিকেট দিয়ে আমরা শখ মেটাতে পারবো মোট পাঁচ থেকে ছয়টা রাইডের। ফলে দিন শেষে টিকেটের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আফসোস করে বলতে হবে—‘হায়, ১৯,৩৪০/- টাকার টিকেট, তোমাদের দিয়ে তো আমাদের চড়ার কথা ছিল ২৪টি রাইডেই কিন্তু সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চড়তে পারলাম খালি পাঁচটায়, বাকি ১৯টাই রয়ে গেল আফসোসের খাতায়। সুতরাং, হে আমার টিকেটসমূহ, তোমরা আমার চিরকালের আফসোসের এক ধন হয়ে রইলে’। আর ঐ এক্সপ্রেস টিকেটের দাম কিন্তু কর্তৃপক্ষ হিসেব করেই সেট করেছে। আমার ১৯,৩৪০/- টাকায় যদি ধরি ৬টা রাইডে চড়া যায়, মোট ২৪টা রাইডের জন্য এর ৪গুণ টাকা দরকার। ওনারা এক্সপ্রেস টিকেটের দাম ওভাবেই ৪দিয়ে গুণ করে সেট করে রেখেছেন। ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে যারা এইসব বানায় তারা যোগবিয়োগে এইটুকু পাকা থাকবে তা-ই তো স্বাভাবিক।     

ঘণ্টা দুই বসে শেষ করলাম ‘মাদাগাস্কার: এ ক্রেইট এ্যাডভেঞ্চার’ নামের বোট-রাইড। রাইডে মাদাগাস্কারের ভূতুড়ে পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে নেয়ার সময় যে ভয়ের বিষয়গুলো ছিল সেগুলো অনেকের কাছে ভয়ের, অনেকের কাছে মজার আর আমার কাছে রীতিমত বিরক্তির ছিল। এই রাইড শেষে আমরা বুঝলাম আমাদের এই আফসোসের টিকেট নিয়ে বুঝে শুনে আগাতে হবে। নির্বাচন করে নিতে হবে কোনটায় চড়বো, কোনটা বাদ দেব। এখানে গোটাচারেক রোলার কোস্টার আছে। ছোটগোছের কম ঝাঁকুনির একটায় উঠে আগে টেস্ট করতে চাইলাম যে আমাদের গিঁটগুট-হাড়গোড় এই কোস্টারের জন্য ফিট কি-না। এই লক্ষ্যে গিয়ে দাঁড়ালাম ‘ফার-ফার-এ্যাওয়ে’ জোনের ছোট ঝাঁকুনির রোলার কোস্টার ‘এনচ্যান্টেড এয়ার ওয়েজ’-এর সামনে। ভিড় একই রকম। ওদিকে এক্সপ্রেস টিকেটের লোকেরা আসে আর ফুড়ুৎ করে ঢুকে যায়। আমরা ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে বসে থাকি। একসময় সে পরীক্ষায় পাস করে শেড়েক মুভির ড্রাগনের উপরে উঠে বসলাম, ঘুরতে যাবো ‘ফার-ফার-এ্যাওয়ে’। মিনিট দুয়েকের পথ। তার মধ্যে তিন বার উল্টি দিয়ে চারবারের বার যখন মূল স্টেশনে এনে পৌঁছালো তখনো আমরা পুরোপুরি দিশা করতে পারতেছি না যে সবাই আস্ত এসেছি, নাকি জোড়া-টোড়া দুয়েকটা পিছনে খুলে-টুলে পড়ে গেছে। যখন সবাই উঠে দাঁড়াতে শুরু করলো এবং দেখলাম আমরাও উঠে দাঁড়াতে পারছি তখন পুরোপুরি একিন হলো যে, নাহ, কোনো জোড়া-টোড়া খোয়া যায়নি, আমরাও সবার মতো আস্ত এসেছি। তবে, সিদ্ধান্ত ফাইনাল হয়ে গেল যে, আমরা আর কোনো রোলার কোস্টারে উঠছি না। এরপরে গেলাম শেড়েক ফোর-ডি এ্যাডভেঞ্চারে। এখানে ভিড় তুলনামূলক কম ছিল। শেড়েক আর তার ড্রাগন আমাদের থ্রি-ডি স্ক্রিন ফুটো করে আমাদের দর্শক সারিতে ঢুকে পড়ছে এমন বোগাস অনুভব দিয়ে তৈরি শেড়েক ফোর-ডি এ্যাডভেঞ্চার।

এরপরে একটু এগিয়ে দেখলাম প্রাচীন মিশর থিম জোন। সেখানে পিরামিডের মধ্যে ঘুটঘুটে অন্ধকারে মানুষজন ঢুকছে। লাইনও খুব দীর্ঘ নয়। সাহস করে আমরাও ঢুকলাম। অন্ধকারে জোনাকির মতো বিদ্যুতের আলোতে হাঁটছি আর হাঁটছি। কোনো মাথা মিলছে না। ভয় পাচ্ছি—এই পথে যদি আবার ফেরা লাগে ঠিকভাবে বের হতে পারবো তো? শেষ পর্যন্ত মাথা মিললো। মাথায় গিয়ে দেখি। ‘রিভেঞ্জ অব দি মামি’ নামে যে এ্যাডভেঞ্চারটি এখানে রয়েছে সেটিও হলো একটি রোলার কোস্টার, মানে হলো মাংস থেকে হাড্ডি বের করে আনার এ্যাডভেঞ্চার। আস্তাগফিরুল্লাহ বলে সবাই একসাথে উল্টোদিকে হাঁটতে শুরু করলাম। এরপর এত টাকা দিয়ে ভূতের চ্যাচানি, শরীরের গিঁট-ভাঙ্গা উল্টি-পাল্টি খাওয়া এবং ফোর-ডি এ্যাডভেঞ্চারে শেড়েকের ড্রাগনের কাতুকুতু আর আমার মোটেই ভালো লাগছিল না, তাই বাচ্চাদেরকে বলে দিলাম—‘তোমরা যা খুশি দেখ ও কর আমি আর এতে নেই। আমি এই গাছের নিচে বসলাম’। ইতোমধ্যে অবশ্য লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে। ওরা ছোট দুজন গেলো সাই-ফাই জোনে ‘ট্রান্সফর্মারস: দি রাইড থ্রি-ডি’-তে অশগ্রহণের জন্য। মিম্মি ওদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো বাইরে। আমি গেলাম ইউনিভার্সেল কাফে থেকে লাঞ্চ সংগ্রহে। তাই লাঞ্চ কিনে বিলের অংক আর বাংলা টাকায় রূপান্তর করলাম না, কারণ তখন দুঃখে হয়তো লাঞ্চই আর গলা থেকে নামবে না। লাঞ্চ শেষ করে আমি গাছ তলায় বসেই থাকলাম। আমার ছেলেমেয়েরা দি লস্ট ওয়ার্ল্ড থিম-জোনে গিয়ে দেখে জুরাসিক পার্ক ও ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে প্রতি জায়গায় আমাদের আফসোসের টিকেট নিয়ে দাঁড়াতে হবে অন্তত দু’ঘণ্টা করে। রাইড শেষ করার সময় তো বাদই। এই দেখে ভগ্নমনোরথ তারা ফিরে আসে। তারপর যায় সিসেম স্ট্রিট শোতে। সেই শো শেষ হলে আমাদের মনে হয় এ হাতির অন্য অঙ্গগুলোও তো দেখা দরকার। তাই হিন্দুস্তানি অন্ধত্ব থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে তড়িঘিড়ি বের হয়ে আসলাম ইউনিভার্সেল থেকে।

এবার আমাদের যাত্রা সি এ্যাকুয়ারিয়ামের দিকে। সি এ্যাকুয়ারিয়ামের ‘সি’ অংশটি নিয়ে একখানা জব্বর শব্দখেল (pun) দেখানো হয়েছে। ইংরেজিতে লেখা হয়েছে S. E. A.  রূপে, যা এ্যাক্রোনিম আকারে পড়লে হয় ‘সি’ মানে সমুদ্র এবং সে-অর্থে এটি একটি সামুদ্রিক প্রাণীর এ্যাকুয়ারিয়াম কিংবা সমুদ্রের সমান এক এ্যাকুয়ারিয়াম, যেমনটা আমাদের রামসাগর কিংবা দুর্গাসাগর সাগরের সমান দীঘিরূপে সুন্দর সমাসবদ্ধতায় যোগ্য শব্দরূপে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আবার শব্দসংক্ষেপ হিসেবে দেখলে S. E. A. মানে South East Asian এবং সে-অর্থে এটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জলজ প্রাণির এ্যাকুয়ারিয়াম। দুই অর্থেই শব্দখানা জবর মিলে গেছে। দেখতে চললাম সেই জবর শব্দখেলের এ্যাকুয়ারিয়াম। এটি মূলত সেন্তোশা রিসোর্টস ওয়ার্ল্ডের ম্যারিন লাইফ পার্কের এক অংশ। ম্যারিন লাইফ পার্কের দুটি অংশ হলো সি এ্যাকুয়ারিয়াম ও এ্যাডভেঞ্চার কোভ ওয়াটার পার্ক। আমরা যতক্ষণে এখানে আসলাম ততক্ষণে এ্যাডভেঞ্চার কোভ ওয়াটার পার্কের এন্ট্রি সময় শেষ। তবে সি এ্যাকুয়ারিয়াম খোলা। টিকেট সিঙ্গাপুরিয়ান ৪৩ ডলার করে। বাংলা টাকায় ২৭০০/- এর মতো। তিনখানা এই দরে আর একখানা চাইল্ড হিসেবে একটু কম দরে টিকেট কিনে পড়িমরি দৌড় দিলাম, কারণ খোলা থাকার সময় আবার পার না করে ফেলি। ঢুকলাম সি এ্যাকুয়ারিয়ামে।

২০১৭ সালে দেখা কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টারের এ্যাকুয়ারিয়া কেএলসিসিকে একটু কল্পনায় কিছু বাড়িয়ে নিলেই হতো। তাহলে আর জনপ্রতি ২৭০০ টাকা দিয়ে নতুন করে আবার এইটায় না ঢুকলেও চলতো। মালয়েশিয়ারটার আয়তন ৫ হেক্টর আর এটার ৮ হেক্টর; মালয়েশিয়ারটায় ৭৫০ প্রজাতির প্রাণি আছে আর এটায় আছে একহাজার প্রজাতির। এই বাড়তিটুকু তো কল্পনা করে নিলেই পারতাম। এর জন্য কি এত টাকা খরচ করার দরকার ছিল? তা-ও ২০১৪ সালের আগে এলে হতো, কারণ তখন পর্যন্ত গর্ব করে বলা যেতো, টাকা খরচ করে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় এ্যাকুয়ারিয়ামটা দেখেছি। ২০১৪ এর পরে তো সে গৌরব টেনে নিয়ে গেছে চীন। এই ভাবনা আর তুলনা যতোই বাড়ছে, টিকেটের টাকার জন্য আমার দুঃখ ততই বাড়ছে দেখে একসময় বসে পড়ে বাচ্চাদেরকে বললাম—‘যাও, বাবা তোমরা ঘুরে এসে আমাকে এখান থেকে তুলে নিয়ো’। একহাজার প্রজাতির একলক্ষ সামুদ্রিক প্রাণীর কয়টা আমি চিনি? ও সব দেখে আমি কী মনে রাখতে পারবো? তার চেয়ে না দেখে আমি বসে থেকেই ভালো করেছি। আমি শুধু এইটুকু মনে রেখেছি যে, জ্যামিতিতে যত রকম আকার পড়েছি—সরল রেখা, বক্র রেখা, ক্রিভুজ, চতুর্ভুজ, পঞ্চভুজ, ষড়ভুজ, অধিবৃত্ত, বৃত্ত, বর্তুল—এসবের এমন কোনো আকার নেই যে আকারের কোনো না কোনো প্রাণি সিঙ্গাপুরের সি এ্যাকুয়ারিয়ামে নেই।

এই দেখে বের হতে হতে বিকাল শেষ প্রায়। সেন্তোশা রিসোর্টস ওয়ার্ল্ডের পরিভ্রমণ আমাদের শেষ। এবার সেন্তোশায় আমাদের দেখার রয়েছে সেন্তোশা সিলোসো বিচ আর সন্ধ্যার ‘সং অব দ্য সি’ এর প্রদর্শনী। দুটোই হবে বিচে। সুতরাং আমাদের পরবর্তী গন্তব্য সিলোসো বিচ। এবার গুগল ধরে নয়, বাস ধরে যেতে চাই। কিন্তু বাস কোথায় পাওয়া যাবে। রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড থেকে বের হয়ে হাঁটতে শুরু করলাম সিংহের মাথার দিকে। সিঙ্গাপুরের অর্থাৎ সিংহপুরের জাতীয় প্রতীক হবে সিংহের মাথা এটাই স্বাভাবিক। সেই মাথা অবশ্য খালি মাথা নয়, মাথার দিকে সে সিংহ হলেও পায়ের দিকে দিকে সে মারমেইড বা জলপরী। পোর্টম্যান্টো করে এখানে বলা হয় মারলায়ন (Merlion)। সারা সিঙ্গাপুরে ৬টা মারলায়নের বিশাল ভাস্কর্য আছে, সম্ভবত দুইটা মাথার মুখ থেকে জল পড়ে, আর বাকি চারটার মুখে জল নেই। সেন্তোশায় তখন যেটা ছিল ছিল সেটার মুখ জলহীন। রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড থেকে বের হয়ে ঐ সিংহের মাথা দেখে সেই বরাবর হাঁটতে শুরু করলাম। সেখানটায় পাশেই বাসের রাস্তা। বাসের একটি স্টপেজও আছে। বেশ কয়েকটি বাসকে ইশারাও দিলাম। থামলো না। একটি থামলো। বললাম বিচে যাবো। ড্রাইভার বললো এলআরটি, কিন্তু ইশারা দিলো উঠতে। উঠে ভাড়া দিতে চাইলাম। ড্রাইভার বললো ফ্রি। পরে জানলাম এগুলো সেন্তোশা শাটল, সেস্তোশার মধ্যে সব জায়গায় ফ্রি। নেমে সোজা চললাম সেন্তোশার সিলোসো সাগর সৈকতের দিকে। সিলোসো সৈকত বা বিচ দেখে আমার ছেলেমেয়েরা খুবই আশাহত ও লজ্জিত। এত ছোট একটু বিচ, আর তার এত নাম। কুয়াকাটা, কটকা, কক্সবাজারের বিচের দেশের মানুষ সেন্তোশা সিলোসো বিচ দেখে লজ্জা পাবে সেই স্বাভাবিক।  

মারলায়ন, সেন্তোশা

আবার এলআরটি (লাইট রেল ট্রানজিট) স্টেশনে ফেরত এসে টিকেট কিনলাম ‘সং অব দ্য সি’ প্রদর্শনীর। প্রদর্শনীটি হবে সিলোসো বিচের একটি নির্দিষ্ট এনক্লোজারে খোলা আকাশে। ছিটছিটে বৃষ্টি হচ্ছে, তাও সাহস করে কিনলাম চারখানা টিকেট। প্রদর্শনী শুরু হয় সূর্য ডুবে একটু অন্ধকার হওয়ার পরে। এটি সিঙ্গাপুরের এক ঐতিহ্যবাহী প্রদর্শনী। লেজার রশ্মি, ফায়ারওয়ার্কস আর পানির ফোয়ারার সম্মিলনে এ এক নৃত্য ও সঙ্গীত আলেখ্যর প্রদর্শনী। এর নাম লোকমুখে ‘সং অব দ্য সি’ শোনা গেলেও এটি প্রদর্শনীটির পুরনো নাম। বর্তমান নাম ‘উইংস অব টাইম’। ‘সং অব দ্য সি’ আকারে এই প্রদর্শনী শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। এর আগে ১৯৮২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রদর্শনীটি চলতো অন্যভাবে। তখন এর নাম ছিল ‘সেন্তোশা মিউজিকাল ফাউন্টেইন’। তখন প্রদর্শনীর স্থান বিচে ছিল না, ছিল ইমবিয়াহ লুকআউটে। ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রদর্শনীটি চলেছে ‘সং অব দ্য সি’ নামে। ২০১৪ সালে এটি একই স্থানে শুরু হয় ‘উইংস অব টাইম’ নামে। তখন থেকে প্রদর্শনীটি একই নামে একই স্থানে চলছে। প্রদর্শনীর মঞ্চ হলো বিচ, সাগর আর সাগরের পাড়ে পুরনো স্থাপত্য ধারায় নির্মিত সাগরের পাড়ের একটি গরিবি ঘর যাকে স্থানীয়ভাবে কেলঙ (kelong) বলা হয়। এই গরিবি ঘর আর ফাউন্টেইন বানাতে নাকি ত্রিশ লক্ষ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার খরচ হয়েছে। চলবে

আরও পড়ুন : সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৪

//জেডএস//

লাইভ

টপ