ধারাবাহিক উপন্যাস।। পর্ব—৭

অপ্রিয় হওয়ার সাহসিকতা ।। ইচিরো কিশিমি এবং ফুমিটাকি কোগা

অনুবাদ: মঈনউল ইসলাম
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০

দাম্ভিকদেরও হীনমন্যতার অনুভূতি থাকে

যুবক: এমনটি হতে পারে, কিন্তু…

দার্শনিক: অধিকন্তু, তোমার মধ্যে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ক হীনমন্যতা-জটিলতা রয়েছে। ভাবছ ‘আমি ভালো শিক্ষিত নই, তাই সফল হতে পারছি না’। অন্যভাবে চিন্তা কর। অর্থাৎ যৌক্তিকতাকে এভাবে ঘুরিয়ে বলা যায়, ‘যদি কেবল আমিই ভালো শিক্ষিত হতাম, তবে আসলেই সফল হতে পারতাম’।

যুবক: হুম্‌ম…ঠিক।

দার্শনিক: এটি হলো হীনমন্যতা-জটিলতার অন্য দিক। যারা তাঁদের হীনমন্যতা-জটিলতা কথায় বা মনোভাবের মাধ্যমে প্রকাশ করেন, এবং যারা বলেন ‘‘অমুক’ হলো পরিস্থিতি, তাই ‘তমুক’ করা সম্ভব নয়’, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে বোঝাতে চান যে, যদি ‘অমুক’ না থাকতো, তাহলে তিনি সক্ষম বা সফল হতেন এবং তাঁর মূল্য থাকতো।

যুবক: যদি কেবল এটা, ওটার জন্য না হতো, তবে আমিও তা করতে পারতাম!

দার্শনিক: হ্যাঁ। অ্যাডলারের মতে, কেউই দীর্ঘ সময় ধরে হীনমন্যতার অনুভূতি বয়ে বেড়াতে সক্ষম নয়। হীনমন্যতার অনুভূতি সকলের মধ্যেই থাকে, কিন্তু সেই মানসিক অবস্থায় থাকা এতটাই পীড়াদায়ক যে, তা চিরদিন সহ্য করার মতো নয়।

যুবক: হাহ্…! বিষয়টি ধীরে ধীরে বিভ্রান্তিকর হয়ে যাচ্ছে।

দার্শনিক: আচ্ছা, তাহলে আমরা একবারে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। হীনমন্যতার অনুভূতি থাকা হলো এমন একটি অবস্থা যার দ্বারা কারও মাঝে বিদ্যমান অবস্থায় কোনোকিছুর ঘাটতি থাকাকে বোঝায়। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়…

যুবক: কীভাবে সেই শূন্যস্থান পূরণ করা হবে, তাই না?

দার্শনিক: একদম! সেই ঘাটতি অর্থাৎ শূন্যস্থান কীভাবে পূরণ করা হবে। সর্বোত্তম ও গ্রহণযোগ্য উপায় হলো কঠিন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাওয়া। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এটি হতে পারে পড়াশোনায় গভীর মনোযোগী হওয়া, নিয়মিত প্রশিক্ষণে নিযুক্ত হওয়া অথবা নিজের কাজে যথেষ্ট শ্রম দেওয়া। কিন্তু যাদের মধ্যে সেই সাহসিকতা নেই তাঁরাই হীনমন্যতা-জটিলতার ফাঁদে পড়ে। আবার, এটি কেবল একটি ভাবনা—আমি ভালো শিক্ষিত নই, তাই সফল হতে পারি না। অপরদিকে, ‘যদি কেবল আমি ভালো শিক্ষিত হতাম, তবে প্রকৃতপক্ষেই সফল হতে পারতাম’-এ কথা তোমার সক্ষমতাকে নির্দেশ করে। এই ‘প্রকৃত আমি’-যে কিনা শিক্ষাগত যোগ্যতার আড়ালে চাপা পড়ে ছিল- হলাম শ্রেষ্ঠতর।

যুবক: না, এটা ঠিক স্পষ্ট হলো না- দ্বিতীয় যে বিষয়টির কথা বলছেন, তা হীনমন্যতার অনুভূতির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। অন্য কিছুর তুলনায় বরং এটি কেবল অপ্রয়োজনীয় লোকদেখানো সাহসিকতা, তাই নয় কি?

দার্শনিক: হতে পারে। হীনমন্যতা-জটিলতা আবার অন্য এক ধরনের মানসিক অবস্থাও তৈরি করতে পারে।

যুবক: সেটা আবার কী?

দার্শনিক: আমার মনে হয় তুমি এটি সম্পর্কে প্রচুর শুনেছ—এটি হলো ‘শ্রেষ্ঠত্ব-জটিলতা’ (superiority complex)।

যুবক: শ্রেষ্ঠত্ব-জটিলতা?

দার্শনিক: একজন তীব্র হীনমন্যতার অনুভূতিতে ভূগছে; অথচ সুস্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ও উন্নতির মাধ্যমে সে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার সাহসিকতাও তাঁর নেই। এই অবস্থায়, ‘‘অমুক’ হলো পরিস্থিতি, তাই ‘তমুক’ করা সম্ভব নয়’- এমন ধরনের হীনমন্যতা-জটিলতা সহ্য করা যায় না। ব্যক্তি নিজেকে অক্ষম হিসেবে মেনে নিতে পারেন না। এই পর্যায়ে, ব্যক্তি অন্য কোনোভাবে তাঁর অভাব পূরণ করার কথা ভাবতে শুরু করেন এবং সহজতর কোনো পথ খোঁজেন।

যুবক: সেটি আবার কোন পথ?

দার্শনিক: তা হলো শ্রেষ্ঠত্বের ভান ধরা এবং কল্পিত সেই শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতিতে গা ভাসিয়ে দেওয়া।

যুবক: কল্পিত শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি?

দার্শনিক: প্রচলিত একটি উদাহরণ হতে পারে ‘কর্তৃত্ব দেওয়া’।

যুবক: এর অর্থ কী?

দার্শনিক: একজন হয়তো প্রচার করে বেড়াচ্ছে যে, তাঁর সঙ্গে জনৈক ক্ষমতাবান ব্যক্তির খুবই দহরম-মহরম রয়েছে (মোটাদাগে—এটি স্কুলে তোমার ক্লাসের কোনো নেতা থেকে কোনো প্রখ্যাত ব্যক্তি যে-কেউ হতে পারে)। এমনটি করে সে প্রমাণ করতে চায় যে, সে বিশেষ কেউ। কর্ম-অভিজ্ঞতাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা বা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পোশাকের প্রতি অতিমাত্রায় পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শনের মতো আচরণগুলো কর্তৃত্ব প্রদানের বিভিন্ন রূপ। সম্ভবত এগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব-জটিলতার উপাদানও থাকে। সকল ক্ষেত্রেই প্রকৃতপক্ষে এই ‘আমি’ শ্রেষ্ঠতর বা বিশেষ কিছু নয়। বরং কেউ একজন ক্ষমতাবলয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে এই ‘আমি’কে শ্রেষ্ঠতর দেখানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে মাত্র। সংক্ষেপে, এটি একটি কল্পিত শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি।

যুবক: আসলে এর মূলে রয়েছে তীব্র হীনমন্যতার অনুভূতি, তাই কি?

দার্শনিক: একেবারেই ঠিক। ফ্যাশন সম্পর্কে আমার তেমন ধারণা নেই; তবে, যেসব ব্যক্তি তাঁদের সবগুলো আঙুলে মূল্যবান রুবি ও পান্নাযুক্ত আংটি পড়েন, তাঁরা নান্দনিক সৌন্দর্যবোধের চেয়ে বরং হীনমন্যতার অনুভূতিজনিত সমস্যায় ভুগছে বলে ধরে নেওয়া অধিকতর যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি। অন্য ভাবে বলা যায়, তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব-জটিলতার লক্ষণ বিদ্যমান।

যুবক: ঠিক আছে।

দার্শনিক: কিন্তু, ধার করা ক্ষমতায় যারা নিজেদের বড় হিসেবে উপস্থাপন করে, তাঁরা আসলে অন্যদের মূল্যবোধ অনুসারে জীবনযাপন করছে—তাঁরা অন্যের জীবনযাপন করছে। এই বিষয়টির ওপর অধিক জোর দিতে হবে।

যুবক: তাহলে এটি হলো শ্রেষ্ঠত্ব-জটিলতা। এটি খুবই আগ্রহোদ্দীপক মনোবিজ্ঞান। অনুগ্রহপূর্বক আপনি কি অন্য একটি উদাহরণ দেবেন?

দার্শনিক: এক ধরনের মানুষ আছেন যারা নিজেদের অর্জন নিয়ে অহংকার করতে পছন্দ করেন। অর্থাৎ যে ব্যক্তি তাঁর অতীতের গৌরব আঁকড়ে ধরে থাকে এবং সর্বদা তাঁর সাফল্যের স্বর্ণোজ্জ্বল সময়ের স্মৃতিচারণে ব্যস্ত থাকে। তোমার পরিচিতজনের মধ্যেও হয়তো এমন কিছু মানুষ রয়েছে। এই ধরনের সকল মানুষ শ্রেষ্ঠত্ব-জটিলতায় ভুগছে বলা যেতে পারে।

যুবক: এমন ধরনের মানুষ যারা নিজেদের অর্জন নিয়ে অহংকার করে? হ্যাঁ, এটি এক ধরনের উদ্ধত মনোভাব; কিন্তু অহংকার তো করতেই পারে কারণ সে আসলেই শ্রেষ্ঠ। আপনি এটিকে কল্পিত শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি বলতে পারেন না।

দার্শনিক: তোমার ধারণা ভুল। যারা অহংকার করে বা চিৎকার করে নিজেদের অর্জন সম্পর্কে বলার মতো স্তরে পৌঁছায়, তাঁদের আসলে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। সেজন্য অ্যাডলার স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘হীনমন্যতার অনুভূতি থেকেই মানুষ অহংকার করে’।

যুবক: আপনি বলছেন অহংকার করা হীনমন্যতারই বিপরীত একটি অনুভূতি?

দার্শনিক: ঠিক বলেছ। তুমি যদি আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হও তবে, তাহলে অহংকার করার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ হীনমন্যতার অনুভূতি তীব্র হলেই কেবল একজন অহংকার করে। মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য কেউ কেউ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব আরও বেশি প্রদর্শনের প্রয়োজন অনুভব করে। কারণ সে ভয়ে থাকে—যদি তা না করা হয়, তাহলে কেউই তাঁর গুরুত্ব অনুধাবন করবে না। এটি শ্রেষ্ঠত্ব-জটিলতার একটি পূর্ণাঙ্গ নিদর্শন।

যুবক: তাহলে, শব্দগত অর্থ বিবেচনায় একজন ‘হীনমন্যতা-জটিলতা’ ও ‘শ্রেষ্ঠত্ব-জটিলতা’কে দুই বিপরীত মেরুতে অবস্থিত মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে এই দু’য়ের মধ্যে সাধারণ সীমানা বিদ্যমান, তাই কি?

দার্শনিক: হ্যাঁ, এগুলো পরস্পরের সঙ্গে পরিষ্কারভাবে সংযুক্ত। এখন আমি সর্বশেষ উদাহরণটি দিতে চাই; অহংকারবোধ নিয়ে একটি জটিল উপমা। এটি এমন একটি ধরন যা হীনমন্যতার অনুভূতি সুতীব্র হওয়ার ফলে প্রকাশিত নির্দিষ্ট শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতির দিকে ধাবিত করে। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, এটি কেবল নিজের দুর্ভাগ্য নিয়ে দাম্ভিকতা করা।

যুবক: নিজের দুর্ভাগ্য নিয়ে দাম্ভিকতা করা?

দার্শনিক: হ্যাঁ, সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর শৈশবের বেড়ে ওঠা ও জীবনের অনুরূপ বিষয় এবং তাঁর জীবনের বিভিন্ন দুর্ভাগ্যের ঘটনা নিয়ে গর্বিত ভঙ্গিতে কথা বলে। কেউ যদি তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে বা প্রসঙ্গ পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়, তাহলে তিনি এই বলে তা প্রত্যাখ্যান করেন যে, ‘আমার অনুভূতি ঠিক কেমন তা আপনি বুঝতে পারেন না’।

যুবক: তা ঠিক। এমন অনেক লোক আছে, তবে…

দার্শনিক: এ ধরনের মানুষ তাঁদের দুর্ভাগ্যের অভিজ্ঞতা দ্বারা নিজেদের ‘বিশেষ’ বানাতে চায়। দুর্ভাগ্যের এই একটি মাত্র অভিজ্ঞতার কারণেই নিজেদের অন্য সকলের উপরে অবস্থান দেওয়ার চেষ্টা করে। উদাহরণস্বরূপ, আমি খাট- এই ঘটনাটাকেই নাও। ধরো, হৃদয়বান মানুষেরা আমার নিকট এসে সহানুভূতির সঙ্গে বলে, ‘এটি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই’ অথবা ‘এর সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধের কোনো সম্পর্ক নেই’। এখন প্রত্যুত্তরে আমি যদি তাঁদের প্রত্যাখ্যান করি এবং বলি, ‘তোমরা কি জান যে, বেঁটে মানুষদের কী যন্ত্রণার ভিতর দিয়ে যেতে হয়’? তাহলে আর কেউ কখনও আমার নিকট এসে কিছু বলবে না। আমি নিশ্চিত যে, চারপাশের সবাই আমাকে একটি ফুটন্ত আগ্নেয়গিরি ভাববে যে-কিনা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। তাই সকলেই অত্যন্ত সাবধানী আচরণ করবে। তাঁদের সঙ্গে কি এমনটি করা ঠিক নাকি রিস্ক না নিয়ে কৌশলী ব্যবহার করা উচিত?

যুবক: একদম সত্য।

দার্শনিক: এই আচরণের মাধ্যমেই অন্যদের নিকট আমার অবস্থান শ্রেষ্ঠ হতে পারে এবং আমিও বিশেষ কেউ হতে পারি। অনেকেই অসুস্থ বা আহত হলে, অথবা হৃদয় ভাঙার মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকলে এ ধরনের উদ্ধত মনোভাব নিয়ে ‘বিশেষ কেউ’ হতে চায়।

যুবক: অর্থাৎ তাঁরা হীনমন্যতার অনুভূতি প্রকাশ করে এবং নিজেদের সুবিধার জন্য তা ব্যবহার করে?

দার্শনিক: হ্যাঁ। তাঁদের দুর্ভাগ্যকে সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং এর দ্বারা অন্যদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও করে। তাঁরা কতটা হতভাগ্য এবং কী কষ্টই না ভোগ করেছে তা ঘোষণার মাধ্যমে চারপাশের মানুষজনকে (যেমন- বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজন এবং পরিবার) উদ্বিগ্ন করে তোলার চেষ্টা করে। তাঁদের বক্তব্য ও আচরণকে সীমিত করে দেয় এবং এভাবে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করে। একেবারে শুরুতেই কক্ষের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে নেওয়া যে ধরনের মানুষের কথা বলেছিলাম—যারা শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতিতে গা ভাসিয়ে দেয় এবং দুর্ভাগ্যকে সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এই ঘটনা এত বেশি পরিমাণ ঘটে থাকে যে অ্যাডলার বলেছেন, ‘আমাদের সংস্কৃতিতে দুর্বলতা ভীষণ শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর হতে পারে’।

যুবক: অর্থাৎ দুর্বলতা কি ক্ষমতাধর?

দার্শনিক: অ্যাডলার বলেন, ‘নিজেদেরকে যদি প্রশ্ন করি আমাদের সমাজ-সংস্কৃতিতে কে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি; যৌক্তিক উত্তর হবে শিশুরা। শিশুরাই শাসন করে এবং তাঁদেরকে বশে আনা যায় না’। শিশুরা তাঁদের দুর্বলতা দিয়েই বয়স্কদের ওপর ছড়ি ঘোরায়। আর এই দুর্বলতার কারণেই কেউ তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

যুবক: আমি কখনই এ ধরনের যুক্তির মুখোমুখি হইনি।

দার্শনিক: অবশ্যই আহত ব্যক্তির কথা—‘আমি কেমন বোধ করছি তা তুমি বুঝতে পারছ না’-এর মধ্যে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট মাত্রার সত্যতা রয়েছে। ভোগান্তির মধ্যে থাকা একজন ব্যক্তির অনুভূতি পূর্ণাঙ্গরূপে বুঝতে পারা অন্য কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। কিন্তু ‘বিশেষ কেউ’ হওয়ার জন্য যদি কেউ তাঁর দুর্ভাগ্যকে সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে, সেই দুর্ভাগ্যকে তাঁর সর্বদা লাগবেই।

যুবক এবং দার্শনিক অনেকগুলো বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করেছে: হীনমন্যতার অনুভূতি, হীনমন্যতা-জটিলতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব-জটিলতা। নিঃসন্দেহে এগুলো মনোবিজ্ঞানের এক একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এবং এগুলো যে সত্যতা ধারণ করে তা যুবকের কল্পিত ধারণা বা অর্থ থেকে অনেকটাই ভিন্ন। তবুও কিছু কিছু বিষয়ে কোনো না কোনভাবে তাঁর নিকট খটকা লাগছিল। (সে নিজেকে প্রশ্ন করছে) এগুলোর মধ্যে ঠিক কোন বিষয়টি আমার গ্রহণ করতে সমস্যা হচ্ছে? আচ্ছা, হতে পারে এটি সূচনা পর্ব, মূল তত্ত্ব, যা-কিনা আমার মধ্যে সন্দেহ তৈরি করছে। যুবক পুনরায় কথা বলার জন্য শান্তভাবে মুখ খুলল।

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রিয়াদে জোড়া বিস্ফোরণ, সতর্কতা জারির পর 'অল-ক্লিয়ার' ঘোষণা
রিয়াদে জোড়া বিস্ফোরণ, সতর্কতা জারির পর 'অল-ক্লিয়ার' ঘোষণা
আট দফা যেকোনও সময় ১ দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমির
আট দফা যেকোনও সময় ১ দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমির
ফেসবুকের ভ্রমণ পোস্ট দেখে গন্তব্য বাছাইয়ের আগে যা যাচাই করবেন
ফেসবুকের ভ্রমণ পোস্ট দেখে গন্তব্য বাছাইয়ের আগে যা যাচাই করবেন
বিষপানে অসুস্থ বাবা ও মারা যাওয়া তিন সন্তানের পরিচয় মিলেছে
বিষপানে অসুস্থ বাবা ও মারা যাওয়া তিন সন্তানের পরিচয় মিলেছে
সর্বাধিক পঠিত
পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণ, প্রাণ গেলো ১৬ জনের
পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণ, প্রাণ গেলো ১৬ জনের
তিন নামকরা হোটেলকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
তিন নামকরা হোটেলকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
জেলায় জেলায় বিয়ে করা পুলিশ কর্মকর্তাকে যেভাবে ধরিয়ে দিলেন ষষ্ঠ স্ত্রী
জেলায় জেলায় বিয়ে করা পুলিশ কর্মকর্তাকে যেভাবে ধরিয়ে দিলেন ষষ্ঠ স্ত্রী
লংমার্চের সভামঞ্চে একদিনের জন্য বসেছে বিদ্যুতের মিটার, এক এলাকাতেই ৫০০ পুলিশ
লংমার্চের সভামঞ্চে একদিনের জন্য বসেছে বিদ্যুতের মিটার, এক এলাকাতেই ৫০০ পুলিশ
৩ দফা বদলি, অবশেষে উপজেলা ছাড়লেন সেই এসিল্যান্ড
৩ দফা বদলি, অবশেষে উপজেলা ছাড়লেন সেই এসিল্যান্ড