এমনটা ঘটবে সে আশা করেনি। সুহাসিনীকে যে নেওয়া হবে তা সে আগেই অনুমান করেছিল। তবে মূল পদে নয়, হয়তো অতিরিক্ত একজন হিসেবে, যাকে পরে স্থায়ী করা হবে।
সে বিভাগীয় প্রধানের দরোজায় কড়া নাড়ল। আওয়াজে কোনো পার্থক্য নেই। যেন বুকের ভিতরে কী চলছে তা আঙুলগুলো বুঝতে পারেনি।
পর্দা সরিয়ে মুখটা ঢোকাতে না ঢোকাতেই অধ্যাপক মজলিশ খান ডাক দিলেন, “আরে, কৃষ্ণা যে, এসো এসো, বসো।”
নিজের নাম শুনতে সবারই ভালো লাগে, কিন্তু কৃষ্ণার লাগল না। তার সব সময় মনে হয় পিতামহ কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন না লেখে অন্ধ রেখেছেন। কালো বলেই সে কৃষ্ণা, কালো বলেই আজও কৃষ্ণ জোটেনি।
বিভাগীয় প্রধানের বিশাল টেবিলের উল্টোদিকে সে বসল। চকচকে কাঁচের উপর ব্যাগটা রেখে বলল-
“স্যার, ব্যাপারটা বুঝলাম না। আমাকে আপনারা-”
“দ্যাখো, তোমাকে নিতে পারলে আমি খুবই খুশি হতাম। কিন্তু কমিটির সবাই চাইল যে-”
“ওর তো অভিজ্ঞতাও অনেক কম। আমার পাঁচ বছর, ওর কেবল দুবছর।”
“দ্যাখো, সংখ্যাই সব কিছু নয়।”
“না স্যার, সংখ্যাই সব।” সে দৃঢ় গলায় বলল। মনে হলো বুঝতে পেরেছে যে কথা বাড়ানো অর্থহীন। এক ঝটকায় ব্যাগটা তুলে দরোজার দিকে যেতে যেতে যোগ করল, “আপনি বুঝবেন না। আপনারা কখনওই বুঝবেন না চামড়ায় মেলানিনের সংখ্যা জীবনকে কত ওলটপালট করে দিতে পারে।”









