X
শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২
২২ আশ্বিন ১৪২৯

প্রেমের কবি

হিমাদ্রী চৌধুরী
২১ জুন ২০২১, ১১:৩০আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ১৭:১৯

তখন আমার শৈশব। কবিতা কী তা আমি জানতাম না। কেবল পুস্তকের মধ্যে ছাপা কিছু লাইন বাধ্য টিয়ার মতন করে মুখস্থ করতাম পরীক্ষায় ভালো নম্বরপ্রাপ্ত হবার আশায়। মূলত দলবেঁধে খেলার সেই সময়ে পাঠের চেয়ে আনন্দের প্রতিই ঝোঁকটা বেশি তীব্র ছিলো। যেদিন প্রথম আমি কবিতার প্রেমে পড়ি খুব সম্ভবত সেসময়ে আমি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। স্কুলের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কেউ একজন আবৃত্তি করেছিলো 'আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি' আর আমি তন্ময় হয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছিলাম সে আবৃত্তি। আমার স্পষ্ট মনে পড়ে আবৃত্তিকার কবিতার নামের পূর্বে কবির নাম নিয়েছিলেন—'নির্মলেন্দু গুণ' সেই প্রথম আমার ভিতর ইচ্ছে জেগেছিলো কবিতা লিখবার। তারপর গোপন পাপের মতো লুকিয়ে লুকিয়ে বহুবার কবিতা লেখার প্রয়াস করেছি। মনে পড়ে, কবিতা লিখার জন্য বহু রাত না ঘুমিয়ে পরদিন স্কুলে গিয়ে ঘুমানোর জন্য শিক্ষকের হাতে বেধড়ক পিটুনি খেয়েছি। এখন বুঝতে পারি কবিতার সঙ্গে আমার এই প্রেমযোগ আমার অজান্তেই ঘটিয়ে দিয়েছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। কবির কাছে এ-আমার কবিতার ঋণ। তারপর পড়াশোনার জন্য শহরে চলে আসি। বাড়তে থাকে পাঠের অভ্যাস। পরিচিত হতে থাকি বহু কবি ও সাহিত্যিকদের লেখার সঙ্গে। সেসময়ে পত্রিকার সাহিত্যপাতায় নজর রাখতাম খুব আর খুঁটে খুঁটে খুঁজতাম আমার শৈশবে বোধের মধ্যে কবিতার বীজ প্রোথিতকারী সেই জাদুকরের কবিতা। গুণ দার কবিতা আমার কাছে বিশেষ কিছু। তার প্রেমের কবিতা পড়েই শিখেছি প্রেমের ঐশ্বর্য উপভোগের কলাকৌশল। নির্মলেন্দু গুণের প্রথমদিকের কবিতা বেশিরভাগই রাজনৈতিক। ষাটের দশকে লিখতে শুরু করা কবির কবিতায় প্রাসঙ্গিকভাবেই উত্থিত হয়েছে সাহসের পঙক্তিমালা। ‘৬৬ এর ৬ দফাকে সমর্থন করে লেখা কবিতা থেকে স্বৈরাচার আইয়ুববিরোধী কবিতা তার উজ্জ্বলতম উদাহরণ। তার তখনকার কবিতা ছিলো চলমান পরিস্থিতির নিরিখে লিখিত। বর্তমান সময়ে এসে স্বাধীনতা আগের সময়টাকে জানতে গুণদার কবিতা আজও অনিবার্য। অনেকেই নির্মলেন্দু গুণের কবিতায় নরম নরম প্রেম নিয়ে কথা তোলেন, আপসোস তারা কবির তারুণ্যের কবিতাগুলোই এড়িয়ে গিয়েছেন। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি সংকটকালীন সময়ে গুণ দার কবিতা গর্জে উঠেছে। সেইসব অশান্তদিনগুলোতে তার কবিতার তারুণ্য আমাদের দিয়েছে শক্তি এবং নির্ভীকতা। নির্মলেন্দু গুণ—যার কবিতা প্রথম পর্বে বিপ্লব, দ্রোহ এবং প্রতিবাদী এবং পরবর্তীতে ক্রমেই প্রতিষ্ঠিত হয় প্রেমের বিশ্বরূপ স্বরূপ। কাঠিন্যকে এড়িয়ে বোধের স্পষ্ট আর শক্তিশালী চিন্তার সংমিশ্রণে নির্মিত তার কবিতায় আমরা ভুলে যেতে চাই আমাদের সহজাত ব্যথা। সুদূরপ্রসারী প্রার্থনার ভাষায় রপ্ত করি—
'প্রিয়জন চলে গেলে মানুষই ব্যথিত হয়,
আকাশ নির্বিকার, আকাশ কখনও নয়।
তোমরা মানুষ, তাই সহজেই দুঃখ পাও,
হে ঈশ্বর, আমাকে আকাশ করে দাও।'

কবি নির্মলেন্দু গুণ শাদা ও শুভ্রতার এক সাম্য পুরুষ। প্রেম, বিপ্লব, দ্রোহ, ইতিহাসসহ সর্বক্ষেত্রে তার কবিতা যুগে যুগে প্রাসঙ্গিক হবে বলেই আমার বিশ্বাস। তবে নির্মোহ দৃষ্টিতে যদি বলি, অন্তত আমার কাছে এখনকার সময়ের চাইতে কবির আগের কবিতাগুলোই বহুগুণ শক্তিশালী। শোক, বেদনা, কাম, ক্রোধ বা প্রেম, নির্মলেন্দু গুণের কবিতা আমাদের নির্মল আশ্রয়। মুঠোফোনের এই যুগে আমি আজও প্রতীক্ষায় কেউ ঘরের ভিতর থেকে দরজা খুলে দিয়ে জিজ্ঞেস করবে—
'তোমার চোখ এতো লাল কেন?'

/জেডএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
নিজ দলের বিরুদ্ধে এমপি আফসানার সংবাদ সম্মেলন
নিজ দলের বিরুদ্ধে এমপি আফসানার সংবাদ সম্মেলন
বাংলাদেশ ন্যাপে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা
বাংলাদেশ ন্যাপে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা
পদ্মা সেতু দিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় গেলেন রাষ্ট্রপতি
পদ্মা সেতু দিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় গেলেন রাষ্ট্রপতি
হেলাল হাফিজের জন্মদিনে আনন্দসন্ধ্যা
হেলাল হাফিজের জন্মদিনে আনন্দসন্ধ্যা
বাংলাট্রিবিউনের সর্বাধিক পঠিত
মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ, বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ, বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে অনুপ চেটিয়ার মেয়ের বিয়ে
বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে অনুপ চেটিয়ার মেয়ের বিয়ে
‘ইতালি আমাদের ভিসা দেবে না চিন্তাও করিনি’
‘ইতালি আমাদের ভিসা দেবে না চিন্তাও করিনি’
ইউক্রেন জয়ের স্বপ্ন হাতছাড়া পুতিনের?
ইউক্রেন জয়ের স্বপ্ন হাতছাড়া পুতিনের?
নভেম্বরে দুটি দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী
নভেম্বরে দুটি দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী