X
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২
১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ঈদসংখ্যা ২০২২

যুক্তরাষ্ট্রের ৬টি ফ্ল্যাশ ফিকশন

অনুবাদ : সাজিয়া নওরিন
২৭ এপ্রিল ২০২২, ০০:০০আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০০:০০

চমৎকার নীরবতা ।। স্পেনসার হোলস্ট 

একটা ঢাকা দেওয়া ওয়াগন টেনে রাতে মানুষের ভিড়ে পৌঁছেছিল ছোট একটা সার্কাসদলে যোগ দেওয়া দুইটি আলাস্কান কোডিয়াকভালুক। তাদের শেখানো হয়েছিল ডিগবাজি দিতে, ঘুরতে, মাথায় ভর দিয়ে দাঁড়াতে এবং তাদের পেছনের পায়ের ওপর ভর দিয়ে, থাবায় থাবা রেখে একই ছন্দে পা মিলিয়ে নাচতে। দ্রুতই ভিড়ের মাঝে একটা স্পটলাইটের নিচে নাচতে থাকা একটি পুরুষ ও একটি মহিলাভালুক ভিড়ের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই সার্কাস দলটি দক্ষিণে পাড়ি জমিয়েছিল পশ্চিম উপকূল ভ্রমণের উদ্যেশে। তারা কানাডা হয়ে ক্যালিফোর্নিয়াতে—সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে পানামা থেকে দক্ষিণ আমেরিকা, এরপর আন্দিজের তলদেশে চিলির সীমান্তেতিয়ের্রা দেল ফুয়েগো এর সবচেয়ে দক্ষিণের দ্বীপপুঞ্জে গিয়েছিল। সেখানে একটি জাগুয়ার বাজিকরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও পশু ট্রেইনারকে আক্রমণ করে তাকে রক্তাক্ত করে গুরুতরভাবে আহত করে। এমন পরিস্থিতে হতভম্ব দর্শকরা আতঙ্কে ও ভয়ে দলছুট হয়ে যায়। এই দুর্ঘটনার পর বিভ্রান্ত হয়ে ভালুকরা তাদের নিজেদের পথে চলে গেল। কোনো ট্রেইনার ছাড়া তারা নিজেরাই নিজেদের মতো গহিন বনে ভীষণ ঝড়ের মধ্যে সাবঅ্যান্টার্কটিক দ্বীপপুঞ্জে ঘুরে বেড়াতে লাগল। জনমানব থেকে একেবারে দূরে, বিরান জনবসতিহীন দ্বীপে একটা আদর্শ জলবায়ুতে তারা তাদের আস্তানা খুঁজে পেল, প্রজনন ঘটাল, তাদের বসতি আরো বিস্তৃতি লাভ করল। সেখানে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি হলো এবং কয়েক প্রজন্মের পর সমগ্র দ্বীপটি ভালুকবহুল হয়ে উঠল।
অবশ্য কয়েক বছর পর, সেই দুইটি ভালুকের বংশধররা কাছাকাছি ছয়টি দ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে আস্তানা গড়ে তোলে। অবশেষে, সত্তর বছর পর যখন বিজ্ঞানীরা এই ভালুকগুলোর সন্ধান পেলেন, তারা প্রবল উৎসাহের সাথে ভালুকগুলোকে পর্যবেক্ষণ করলেন। তখন তারা এটা আবিষ্কার করলেন যে ভালুকগুলো সবাই একটা ভালুক অন্য একটা ভালুকের কাছে সার্কাসের চমৎকারসব কলাকৌশল দেখাচ্ছে। তারা নাচার উদ্দ্যেশ্যে একসাথে জড়ো হয় পূর্ণিমা রাতে, যখন আকাশ থাকে উজ্জ্বল। সেখানে তারা তাদের চারপাশে একটি বৃত্তে শাবক এবং কিশোর ভালুকদের জড়ো করে। চুনাপাথরে বিছানো জমিতে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে তৈরি হওয়া একটি গোলাকারকেন্দ্রে তারা ঊর্ধ্বশ্বাসে জড়ো হয়। এর কাচের মতো দেয়াল চুনাপাথরের মতো সাদা, তার সমতল মেঝে সাদা নুড়িতে মোড়ানো, ভালো নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পন্ন ও শুষ্ক। জায়গাটির মধ্যে কোনো গাছপালা জন্মায় না। চাঁদ যখন ঠিক এই গর্তটির ওপর থাকে, তখন দেয়াল থেকে প্রতিফলিত আলো গর্তটিকে চাঁদের আলোয় পরিপূর্ণ একটি ডোবায় রূপ দান করে। যেন চারপাশের যেকোনো এলাকা থেকে ঐ গর্তের তলদেশ দ্বিগুণ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছেন মূলত পূর্ণিমার চাঁদ ভালুক দুটিকে সার্কাসের স্পটলাইটের কথা মনে করিয়ে দিত এবং এই কারণে ওরা নাচত। তা স্বত্ত্বেও, এটা জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, ঠিক কোন সুরে তাদের বংশধররা নাচে? থাবায় থাবা রেখে একই ছন্দে পা মেলানো... তাদের মাথায় তারা কি ধরনের সুর শুনে থাকতে পারে, যখন তারা পূর্ণিমা ও কুমেরুপ্রভার নিচে অসাধারণ নীরবতায় নাচে?


সেখানে যে বসে আছে ।। জোয়ানা এইচ ওয়স 

আমি মাংসটা ছুড়ে ফেলে দিলাম। আটানব্বই ডলারের এক পাউন্ড গ্রাউন্ড গরুর মাংস, হাড়বিহীন মুরগি, অতিরিক্ত পাঁজরের হাড়, শুকরের মাংসের ফালি। আমি ট্রাশক্যানে ছুড়ে দিলাম ভিজে সবজি, গাজর, ব্রকলি, মটর, ব্রাসেলস স্প্রাউট। আমি দুধটুকু ঢেলে দিলাম স্টেইনলেস স্টিল সিঙ্কের ড্রেনের নিচে। চেডার পনির আমি ফেলে দেওয়ার জন্য জড়ো করলাম। গলে যাওয়া আইসক্রিম ও একই পরিণতি অনুসরণ করল। রেফ্রিজারেটরে রাখা সব মুদিখানার পণ্য ফেলে দিতে হয়েছিল। খাবারগুলো ছুড়ে ফেলে দেওয়া ছিল যৌক্তিক এবং যুক্তিসঙ্গত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাওয়ার ছাড়া রেডিওর স্বর খাবারে জীবাণুর ইঙ্গিত দিলো।
আমাদের বাড়িতে, বেড়েওঠার সময় আমাদের কখনো খাবার ফেলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেখানে একটি কারণ ছিল। আমার মা খোসা বাঁচিয়ে রাখতেন এবং পচে যাওয়া জিনিসগুলো জমাতেন কম্পোস্টের স্তূপে। এটি আরও শাকসবজি বাড়াতে বাগানে ফিরে যেত। আমরা আবার স্যুপে ব্যবহার করার জন্য মাংস বা আলু রেখে দিতে পারতাম। কিন্তু আমাদের কখনো খাবার ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
আমি রুটিটা ছুড়ে ফেলে দিলাম। রুটিটা ভিজে গেছে। আমি বাবাকে একবার মাটিতে পড়ে যাওয়া এক টুকরো ওয়ান্ডার ব্রেড তুলে নিতে দেখেছিলাম। তিনি টুকরোটির ওপর হাত বুলিয়ে ময়লা পরিষ্কার করলেন এবং পাউরুটিতে চুম্বন দিলেন। এমনকি ছয় বছরের আমি জানতাম কেন তিনি এটা করেছিলেন। কারণ ছিল আমার বোন। আমার জন্ম যুদ্ধের পর। আর বোন জীবিত ছিলেন যুদ্ধের আগে। তার সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না আমি। আমার মা তার সম্পর্কে কখনো কথা বলেননি। তার কোনো ছবি নেই। বাবা কেবল তখনই তার সম্পর্কে কথা বলতেন যখন তিনি বর্ণনা দিতেন কিভাবে সে রুটিটিকে তার শিশু হাতের মুঠোতে এত শক্ত করে চেপে ধরত যে রুটিটা তার আঙুলের মধ্যে দুমড়েমুচড়ে যেত। সে সেভাবেই রুটিটা চুষত।
তাই আমি রুটিটা সবশেষে ফেলে দিয়েছি। বাবা যখন বললেন আমাকে খেতে হবে, বাঁধাকপির স্যুপ, কাঁদতে কাঁদতে আমি প্রতিবার রুটিটা ছুড়ে ফেলে দিয়েছি। কারণ রুটিটা খাওয়া তাকে ফিরিয়ে আনবে না। কারণ তখনো আমি একাই সেখানে বসে থাকব। তখন আমার কাছে রুটি ছিল। আমি এটা পেয়েছিলাম। আমি এটা কিনেছিলাম, রেফ্রিজারেটরে রেখেছিলাম। এটা আমার অর্জিত ছিল। আমি এটা ছুড়ে ফেলতে পারতাম। তাই, আমার বোনের জন্য আমি রুটিটা ছুড়ে ফেলে দিলাম। রুটিটা ফেলে দিয়ে আমি তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এলাম। আমার একুশ বছর বয়সী বোন সবেমাত্র বাড়িতে এলো ক্রিসমাসের কেনাকাটা সেরে। আমাকে সে একটা পুতুল কিনে দিয়েছিল। খাবারঘরে জিনিসগুলো রেখে সে তার সুগন্ধি কোটটা ঝুলিয়ে রাখল এবং তারপর শীতের শেষ এর বাতাসে একটা চেয়ারে বসে পড়ল। আমি তাকে স্বাগত জানালাম সম্মানিত অতিথি হিসেবে। যেন সে বাড়িতে ফিরে আসা এক পোলিশ নববধূ। আমি রুটি এবং লবণপূর্ণ একটা পাত্র নিয়ে তাকে অভিবাদন জানালাম। রুটি, যা সমৃদ্ধির প্রতীক, ঢাকা ছিল একটি সাদা লিনেন কাপড়ে। লবণ, অশ্রুর জন্য, রাখা ছিল একটি ছোট নীল বাটিতে। আমরা একসাথে বসে এক টুকরো রুটি ভাগ করে নিলাম। একটি রান্নাঘরে, যেখানে এমন একটি দৃশ্য খুব সাধারণ, আমি রুটিটা ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলাম। কারণ আমি পারতাম।


পাথর ।। রিচার্ড শেলটন 

গ্রীষ্মের রাতে আমি বাইরে গিয়ে পাথরগুলো বড় হতে দেখতে ভালোবাসি। আমার মনে হয়, এখানে, মরুভূমির উষ্ণতা ও রুক্ষতায় তারা ভালো বেড়ে ওঠে—প্রায় অন্য যেকোনো এলাকা থেকে। অথবা সম্ভবত শুধু কমবয়সীরাই এখানে বেশি সক্রিয়। বড়রা তাদের জন্য যতটা মঙ্গল কামনা করে, অল্পবয়সী পাথরগুলো তারচেয়ে বেশি ছটফটে। বেশিরভাগ তরুণ পাথরের একটি গোপন ইচ্ছা থাকে, যেটি আগে তাদের মা-বাবাদের ছিল। কিন্তু তারা দীর্ঘকাল আগে তা ভুলে গেছে। আর যেহেতু এই ইচ্ছাটি জলের সাথে জড়িত, এটা নিয়ে তারা কোনো কথা বলেনি। সেকেলে পাথরগুলো জলকে অগ্রাহ্য করে এবং বলে, ‘জল হলো একটি ডাঁশমাছির মতো, যে কখনও কিছু শেখার জন্য এক জায়গায় বেশিক্ষণ থাকে না।‘কিন্তু কমবয়সী পাথরগুলো ধীরে সুস্থে সেকেলে পাথরগুলোর নজর এড়িয়ে নিজেদের এমন একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে চায় যেখানে গ্রীষ্মের ঝড়ের সময় বিশাল জল প্রবাহ তাদের বিস্তৃত ও অজান্তে, বলতে গেলে, তাদের গড়িয়ে নিয়ে যাবে কোনো ঢালুর ওপর থেকে কিংবা কোনো খাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে ফেলবে। একাজে বিপদ সত্ত্বেও তারা ভ্রমণ করে কিছুটা বিশ্ব দেখতে চায় এবং বাসা থেকে বহুদূরে একটি নতুন জায়গায় বসতি গড়ে তুলতে চায়। যেখানে তারা মা-বাবার আধিপত্য থেকে দূরে তাদের নিজস্ব সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে পারবে। এবং যদিও পাথরদের মধ্যে পারিবারিক বন্ধন খুব দৃঢ়, অনেক দুঃসাহসী তরুণ পাথরেরা সফল হয়েছে এবং তাদের বাচ্চাদের কাছে তাদের সেই ভ্রমণের প্রমাণ হিসেবে তার ক্ষতচিহ্ন বহন করে। বেপরোয়া জোয়ারে, সম্ভবত পনেরো ফুট দূরত্বের একটি অবিশ্বাস্য ভ্রমণ। বড় হওয়ার সাথে তারা এই ধরনের গোপন দুঃসাহসিক অভিযান সম্পর্কে বড়াই করবে না। এটা সত্য যে সেকেলে পাথরেরা খুবই রক্ষণশীল হয়ে থাকে। তারা এই ধরনের কাজকে হয় ঝুঁকিপূর্ণ বা সম্পূর্ণভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।

তারা তাদের জায়গাতেই স্বচ্ছন্দবোধ করে এবং পুষ্ট হয়ে ওঠে। এই পুষ্টতা, প্রকৃতপক্ষে স্বাতন্ত্র্যের একটি চিহ্ন। গ্রীষ্মের রাতে তরুণপাথরেরা ঘুমিয়ে পড়ার পর, সেকেলে পাথরেরা চাঁদ নিয়ে গুরুতর এবং ভীতিকর আলোচনায় মেতে ওঠে, যার কথা সবসময় বলা হয় ফিসফিসিয়ে... একজন বলে ‘দেখো, কিভাবে এটা সবসময় আকার বদলিয়ে আকাশজুড়ে চাবুক কেটে জ্বলজ্বল করে।’ অন্যজন বলে ওঠে, ‘কিভাবে এটা আমাদের দিকে টানছে... আমাদের অনুসরণ করার তাড়না দিচ্ছে... অনুভব করো।’ তৃতীয় একজন ফিসফিসিয়ে বলে ‘পাথরটি উন্মাদ হয়ে গেছে।’


পনডারোসা ।। কেন্ট থম্পসন

জিমির বাবা তাকে গির্জার কাছে আসতে বললেন, তাদের কথা বলা উচিত। এই কথার অর্থ সবাই জানে। কিন্তু তার বাবা যেটা বলল তা এমন ছিল—সে শনিবার প্যানডেরোসা রেস্তোরাঁতে গিয়েছিল এবং সেখানে বাইবেল কলেজ থেকে জিমির সব সহপাঠী ছিল তাদের স্ত্রী এবং সন্তানদের সাথে এবং তারা সবাই খুশি ছিল, সে কেন ছিল না? তিনি চেয়েছিলেন যে জিমি নতজানু হয়ে প্রার্থনা করুক কিন্তু জিমি তা করল না। এবং তার বাবা তাকে তার স্ত্রী লিন্ডার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার এবং অন্য একটি মহিলার সাথে মেলামেশার অভিযোগ তুললেন। এই গুজবগুলো কি সত্য না অসত্য? জিমি বলল এগুলো অসত্য ছিল। তখন তার বাবা বললেন—‘তোমার কি সন্দেহ আছে?’ এবং জিমি বলল,—‘আছে ও তারপর তার বাবার সঙ্গে প্রার্থনা করতে সে রাজি হলো। সে মাউন্ট হারবনের গির্জাতে গিয়ে ঐ মহিলাটিকে ত্যাগ করতে সিদ্ধান্ত নিল যার সম্পর্কে সে তার বাবাকে মিথ্যা বলেছিল। কিন্তু পরের সপ্তাহেই লিন্ডা তার বাবার কাছে এ অভিযোগ নিয়ে আসে যে জিমি তার প্রতি নিষ্ঠুর ছিল—সে তাকে উপেক্ষা করেছিল এবং তাকে উপহাস করেছিল। এটা কি একজন খ্রিষ্টান স্ত্রীর সাথে আচরণ করার পন্থা ছিল? জিমির বাবা হতাশায় দুহাত শূন্যে ছুড়ে দিলেন। এটাই কি আশা করা হয়েছিল যে তাকেই সবকিছু মোকাবিলা করতে হবে? ধর্মসভার সাথে তার নিজস্ব সমস্যাগুলো কি যথেষ্ট ছিল না? সে তার হাতে একটা শটগান নিয়ে জিমিকে দেখতে গেলেন, বললেন—এটা ঈশ্বরের শুধু একটি সম্ভাব্য ক্রোধের প্রতীক। তার এটি ব্যবহার করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, না, কিন্তু, দুর্ঘটনাক্রমে এটা ঘটে গেছে।

শটগানের গুলি জিমির চোয়ালের অর্ধেক উড়িয়ে দিলো। এটা ছিল শুধু ঈশ্বরের কৃপা জিমি মারা যায়নি এবং পরবর্তীতে জিমি ঈশ্বরের মূলনীতিতে বিশ্বাসী মানুষ হয়ে ওঠে। সে এবং তার বাবা এখন পথে বহনযোগ্য উপাসনালয় নিয়ে একটি দল হিসেবে ঈশ্বরের বার্তা প্রচার করছে। তার বাবা গল্প বলে এবং জিমি, যে আর কথা বলতে পারে না, গান গায়—একটি সুমধুর শোকের ধ্বনি যা পাপীদের বাঁচাতে তাদের পেছনের সারি থেকে সামনের দিকে নিয়ে আসে। ঈশ্বর প্রশংসিত হোন!


পেন্ডারগাস্টের মেয়ে ।। লেক্স উইলিফোর্ড 

নাকোগডোচেস লেকে লিন এবং আমি তার বাবার নতুন এ-ফ্রেমে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম, এবং আমি তার পরিবারের সাথে প্রথম সাক্ষাৎ করার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলাম। লিন বলল, শান্ত হও। বাবার সাথে কয়েকটা ওল্ড মিলস পান করো, অথবা শনিবার জাহাজ ঘাটে একটা বা দুইটা সবুজ ট্রাউট মাছ ধরো। আমি রবিবার যখন সাহস ফিরে পেলাম, সে বলল, আমি তার ছোট মেয়েকে বিয়ে করতে চাওয়ার কথা জানিয়ে বৃদ্ধকে চমকে দিতে পারি। তারপর আমরা দুজনে এখান থেকে বেরিয়ে এসে ডালাসে ফিরে যেতে পারি। পরিস্থিতি হালকা করে সে বলল। আমরা সেখানে পৌঁছাতে তার ছোটভাই চারদিকে প্রচণ্ডভাবে হাত ছোড়াছুড়ি করতে করতে আমার গাড়ির কাছে দৌড়ে গেল।
সামান্য খাঁড়িজুড়ে এক একর জায়গা পরিষ্কার করা হচ্ছিল, সমতল লাল কাদামাটি এবং লাল ফিতা দিয়ে পাইন গাছগুলো বাঁধা ছিল। একটি বুলডোজার পাইনগুলোর একটিকে ধাক্কা দিচ্ছিল যদিও সেটা বৃথাই। তাড়াতাড়ি কর, লিনের ভাই বলল।
লেক হাউসের সামনের পুরোটা কাচের তাই নুড়িপাথর বিছানো পথ থেকে আমরা ভিতরে মিসেস পেন্ডারগাস্টকে বৃদ্ধের মুখে চড় মারতে দেখতে পেলাম। একবার, দুবার, তারপর আবার। সে কোনো প্রকার ধারণা ছাড়াই চিৎকার করে তার সম্পর্কে এমন কিছু বলছিল ছাব্বিশ বছর বয়সী কোনো একটা মেয়ের ব্যাপারে, যে যথেষ্ট তরুণী তার মেয়ে হওয়ার মতো। সে তার চ্যাপ্টা হাতের তালু শক্ত মুখে নিয়ে শুধু সেখানে দাঁড়িয়ে তার দিকে মিটমিট করে চেয়ে থাকল। তারপর সে ক্ষুণ্ন মুখে মুষ্টিবদ্ধ হাতে দিয়ে তার বুকের পাঁজরে আঘাত করল। যখন সে তাকে বারবার আঘাত করেছিল, তিনি স্তব্ধ হয়ে খোলা দরজা দিয়ে বারান্দার রেলিংয়ে টলে পড়ছিলেন।

লীন আমার দিকে চিৎকার করে বলে উঠল, কিছু একটা করো। কিন্তু আমি শুধু সেখানে দাঁড়িয়েছিলাম। বৃদ্ধটি তার স্ত্রীকে রেলিংয়ের ওপর দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া পর্যন্ত আমি শুধু দেখলাম। লুফকিনের হাসপাতালে আমি লিনকে বলেছিলাম, আমি জানি না আমার কি হয়েছিল। কিন্তু তারপর, একজন ইন্টার্ন ওয়েটিং রুমে এসে বলল তার মা ঠিক আছে, শুধু কিছু সেলাই পড়েছে আর কিছু থেঁতলে যাওয়া পাঁজর। লিনের অ্যানসারিং মেশিনে আমি পরের সপ্তাহে অবশ্যই একশো বার্তা রেখেছি। তারা বলল, আমি দুঃখিত, আপনাকে আমাকে বিশ্বাস করতে হবে।
আমার মনে আছে প্রতিদিন সকালে আমরা একসাথে গোসল করতাম, আমি তার ইউনিভার্সিটি পার্ক অ্যাপার্টমেন্টে গ্যারেজে থাকতাম। আমি প্রবল উৎসাহে তার টানটান বাদামি কাঁধে মসৃণভাবে হাত বুলিয়ে দিতাম এবং ভাবতাম, জিশু, এটা সুন্দর।


ল্যাম্পশেড বিক্রেতা ।। অ্যালেন উডম্যান 

এটি সাধারণ ছিল। দরজা ছিল খোলা। তখন গ্রীষ্মকাল। টিভি চালু ছিল।

কালো এবং ক্ষয়ে যাওয়া টাক্সিডো পরিহিত একজন সাদা চুলওয়ালা ব্যক্তি ল্যাম্পশেড বিক্রি করতে দরজার সামনে এলো। হাত হারিয়ে রূপান্তরিত হয়েও তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তার একটি ধাতব নখর দিয়ে তিনি একটি ল্যাম্পশেড তুলে নিলেন। ‘তোমাকে একটি নতুন ল্যাম্পশেড বিক্রয় করি?’ আমার সেটা পছন্দ হলো না। এমনকি আমার যে ল্যাম্পশেডগুলো ছিল, সেগুলো নিয়েও আমি কখনো মাথা ঘামাইনি। আমি ভাবতে লাগলাম কিভাবে সে তার হাত হারিয়েছে। আমি কথোপকথনের চেষ্টা করলাম—‘একজন লোক গতকাল দরজায় টোকা দিয়ে ঝাড়ু বিক্রি করছিল। আপনি কি তাকে চেনেন? সে ল্যাম্পশেডটি ফিরিয়ে নিয়ে তার কার্টে রেখে দিলো।‘কোনো সম্পর্ক নেই। আমি শেড বিক্রি করি। তুমি চাও একটা?’ আমি বরাবরই বহমান মনুষ্য ক্রিয়াকলাপ পছন্দ করে এসেছি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম কতদিন যাবত তিনি ল্যাম্পশেড বিক্রি করছেন।

‘পনেরো বছর আগে, আমি সমস্ত বড়মেলায় একটি সাইড শো করেছি, একটা ফ্লি সার্কাসে। কিন্তু এতে আমার স্বাস্থ্যবিধি এবং রুচি নষ্ট হয়েছে।’ আমি বললাম—‘আমি একবার একটি ফ্লি সার্কাস দেখেছি, কিন্তু কেউ আমাকে বিশ্বাস করে না।’ আমি এটা নিজের কাছেই রাখি। ‘কিন্তু আমি শপথ করে বলছি, আমার মনে আছে একটি ছোট মাছির বিয়ে এবং সাইকেল চালানো একটি মাছির কথা।’

‘মঞ্চের জন্য আমার কাছে একটি ছোট টেবিল ছিল এবং আমি কেবল গুটিকয়েক চেয়ার রেখেছিলাম দর্শকদের জন্য। আমার একটি ব্যালে সিকোয়েন্স ছিল, একটি টাইট রোপ হাঁটা এবং একটি ওয়াগন ট্রেন রেস ছিল। রহস্যের পুরোটা ছিলো হিউম্যান ফ্লিকে ঘিরে। শুধু তারাই পিছনের পা দিয়ে টানা এবং ধাক্কা দেওয়ার প্রয়োজনীয় ক্ষমতার অধিকারী ছিল। আমার মাছিগুলো অবিশ্বাস্য ছিল। কি সহনশীল। তারা দিনে শত শত শো করতে পারত এবং সপ্তাহ ধরে শো চালিয়ে যেতে পারত।

এবং আমার শো শেষে, আমি আমার হাতা পেছনে গুটিয়ে কলাকুশলীদের খাবার আমন্ত্রণ জানাতাম। লোকটি তার ক্রোমহুকগুলোকে বাতাসে মেলে দিলো। আমি বললাম—‘আমি পড়েছি যে মেক্সিকোতে চার্চ ফ্লি আর্টকে সমর্থন করেছিল।’ ‘নানেরা মাছিদের মৃতদেহ এবং ছেটে ফেলা উপকরণ দিয়ে স্টেশন অফ দ্য ক্রসের ক্ষুদ্রাকৃতির মডেল বানিয়ে বিক্রয় করেছিল। মাছিরা তাদের নিজেদের মানুষের মূর্তির মতো খোদাই করা থেকে বিরত রেখেছিল’ তিনি শান্তস্বরে বললেন—‘আমার একটি মাছি ছিল।’‘আমি এটি পোষ্য হিসেবে রেখেছিলাম। শুধু এটাকেই আমি আমার হাতের তালু চুষতে দিতাম। আমি এটাকে সোনার শিকলের সাথে বেঁধে রেখেছিলাম যেটা তোমার আঙুলের চেয়ে বড় হবে না। মাছিটাকে আমি একটি নিখুঁত আকৃতির সোনার তৈরি টানাগাড়ির সাথে বেঁধে দিয়েছিলাম টানার জন্য।’ আমি ভেবেছিলাম আমার সবকিছু দেখা হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি যেভাবে তার পোষ্য মাছি এবং নিখুঁত সোনার কোচের কথা বলছেন, তা আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছে। আমি উচ্চকণ্ঠস্বরে বললাম—‘হ্যাঁ’ ‘আপনার কি মনে হয় আপনি আমাকে এটা সম্পর্কে আবারো বলতে পারেন?’

তিনি আমার দিকে তাকাল। সতর্কতার সাথে বললেন ‘না।’ ‘আমার পক্ষে এটা মনে করা কঠিন।’ আমি একটি সঠিক প্রত্যুত্তর চিন্তা করার চেষ্টা করলাম এবং অবশেষে বললাম ‘আমি বুঝতে পেরেছি।’ তিনি তার একটি ধাতব নখর তার চিবুকের নিচে ঘষলেন। ‘একমিনিট অপেক্ষা করো,’ তিনি বললেন। ‘আমাকে লেখার জন্য কিছু দাও।’ তিনি সাদা ল্যাম্পশেডগুলোর একটি তুলে নিলেন। আমি তার নখরের বাম দিকে একটি কলম রাখলাম।

ফেল্ট টিপের কলমটি আমি যখন AandP-তে একটি চেক লিখেছিলাম, একজন কেরানির কাছ থেকে নিয়েছিলাম যেটা তাকে ফেরত দিতে ভুলে গিয়েছি।

তিনি সাদা শেডটিতে পুরো ফ্লি সার্কাস আঁকলেন, বিয়ে, টাইট রোপ ওয়াকার এবং একটি মাছি ব্যালে। তিনি এমন দৃশ্যগুলোও আঁকলেন যেগুলোর বিষয়ে আমরা কথাও বলিনি। অবশেষে তিনি যেটা আঁকলেন, আমি জানতাম সেটা সোনার শেকলের মাছিটিই হবে, কারণ এটি একটি হাতের তালুতে বিশ্রামরত ছিল। হাতটি ছিল নিখুঁত। সময়ে সময়ে আমি মানুষদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম—কেন আমি ল্যাম্পশেডটি কিনেছিলাম।

কিছুক্ষণ পরে, আমি বাতিটা আমার বিছানার পাশে রেখে শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলাম।

/জেডএস/
পুরস্কার হিসেবে আর মন্ত্রী নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম
পুরস্কার হিসেবে আর মন্ত্রী নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম
খেলনা ভেবে খেলতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণে শিশু নিহত
খেলনা ভেবে খেলতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণে শিশু নিহত
খেলাধুলা পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে: মেয়র আতিক
খেলাধুলা পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে: মেয়র আতিক
আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের লিভ টু আপিল খারিজ
আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের লিভ টু আপিল খারিজ
সর্বাধিক পঠিত
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
মেসি-ফের্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয়
মেসি-ফের্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয়
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী