কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে আন্দোলন করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে আন্দোলনে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। মাস্টারদা সূর্যসেন হলের গেটে তালা দেওয়াসহ অন্যান্য হলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলনের তৃতীয় দিনে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় শিক্ষার্থীরা হলগুলো থেকে আন্দোলনের মিছিল নিয়ে বের হওয়ার সময় বাধা দেওয়া হয়।
সূর্যসেন হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, গতকালের মতো আজও ব্যানার নিয়ে সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। হলের গেটে এলে ছাত্রলীগ নেতারা তাদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। তারা শিক্ষার্থীদের হুমকি দেয় এবং হলের গেট তালা দেয়।
হলের গেটে সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুন্সী রাকিব হোসেন, সহ-সভাপতি মনির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ খান শৈশব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুজ্জামান অভি, যুবরাজ, প্রচার সম্পাদক ফয়সালসহ অনেকে এই কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।
এর কিছুক্ষণ পর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বড় মিছিল আসে সূর্যসেন হলের গেটে। সেখানে ছাত্রলীগ নেতারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন। পরে হলের ভেতর থেকে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে আসেন এবং মিছিলে যোগ দেন। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, হলের গেটের তালা খুলে দিলেও আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। কারণ হলের গেটে ছাত্রলীগ নেতারা দাঁড়িয়ে আছে এবং তারা আমাদের চিহ্নিত করে রাখছেন।
এছাড়া বিজয় একাত্তর হলের গেটে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদপ্রত্যাশীরা। জসিম উদ্দিন হলের চারতলায় আন্দোলনে যেতে ইচ্ছুক ছাত্রদের আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
আটক থাকা শিক্ষার্থীদের একজন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমরা আমাদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে যেতে চাই। কিন্তু ছাত্রলীগ হল থেকে বের হতে দিচ্ছে না। ভেতরের ও বাইরের গেট আটকে দিয়েছে। তারা হলের গেটে অবস্থান করছে। যারাই হলের গেটে যাচ্ছে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে।
আন্দোলনে যেতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আন্দোলনে যাবে কিনা সেটা শিক্ষার্থীদের বিষয়। তবে কোটা নিয়ে তো আন্দোলনের কিছু নেই, এটা আদালতের বিষয়।’









