জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের (৫৩তম ব্যাচের) নবীন শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম রবিবার (২০ অক্টোবর ) থেকে শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে শনিবার (১৯ অক্টোবর) থেকে হলে উঠতে শুরু করেছেন নবীন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথমদিনেই আবাসিক হলে সিট পেয়ে উচ্ছ্বসিত তারা। প্রথমদিনেই হলে সিট দেওয়ার মাধ্যমে একযুগের গণরুম সংস্কৃতি বিলুপ্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিভিন্ন আবাসিক হলে গিয়ে দেখা যায়, আবাসিক হলগুলোর নোটিশ বোর্ড থেকে নিজেদের রুম নম্বর দেখে নির্ধারিত সিটে উঠছেন শিক্ষার্থীরা। হলের পক্ষ থেকে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে নবীন শিক্ষার্থীদের।
বাংলা বিভাগে ভর্তি হওয়া প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন আসন পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হলে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সরাসরি সিট পাবো কখনও ভাবিনি। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের ফলে এই অকল্পনীয় স্বপ্নপূরণ হয়েছে। তাই এই অভ্যুত্থানের সব যোদ্ধার প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা।
বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলে আসন পাওয়া সাবিহা সুলতানা বলেন, প্রথমদিনেই হলে সিট পেয়েছি। এতে আমি অনেক খুশি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সবার ইচ্ছে থাকে প্রথমদিনেই আসন পাওয়ার। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর সিট পেতে অনেক দেরি হয়। এবার আমরা প্রথমদিনেই হলে উঠতে পেরে অনেক উচ্ছ্বসিত।
শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন হলেও নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা চেষ্টা করেছি ভালো পরিবেশ উপহার দেওয়ার। সেটি আমরা করতে পেরেছি।
এদিন বিভিন্ন হল পরিদর্শন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ও প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘদিন পর আমরা প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রথমদিনেই আসন নিশ্চিত করতে পেরেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয় তার আবাসিক রূপ ফিরে পেয়েছে। এতে নবীনরা খুবই আনন্দিত। আশা করছি শিক্ষা ও গবেষণায় আরও বেশি অবদান রাখবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়।
অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি এখন পর্যন্ত পাঁচটি হল পরিদর্শন করেছি। হলের সার্বিক পরিবেশ সুন্দর মনে হয়েছে। এটা আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের।
উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে আমরা দায়িত্ব পেয়েছি। তাদের জন্য শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মধ্যে গণরুম বিলুপ্ত করে র্যাগিং ও মাদক নির্মূলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সবার সহযোগিতায় এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন সরকার এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার পূর্ব নাম জাহাঙ্গীরনগরের সঙ্গে মিলিয়ে জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করে। ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর রিয়ার আ্যাডমিরাল এসএম আহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট পাস হলে নাম পরিবর্তন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রাখা হয়। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও ছাত্ররাজনীতির প্রভাবে অছাত্রদের হলে অবস্থানের কারণে আবাসিক রূপ হারিয়েছিল জাবি।









