ভবঘুরের উৎপাতে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, ঢাবিতে বাড়ছে টহল

সামশুদ্দৌজা নবাব
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০০আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০০

ভবঘুরে ও ছিন্নমূল ব্যক্তিদের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক ও অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অনিরাপদবোধ করছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখিও হচ্ছেন তারা। এ সমস্যা নিরসনে ক্যাম্পাসে টহল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এই অতিরিক্ত টহল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাবির সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম।

নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভবঘুরেদের সমস্যা সবচেয়ে বেশি কবি সুফিয়া কামাল হল এবং টিএসসির মেট্রোরেল স্টেশনের আশপাশে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, সম্প্রতি ঢাবিতে ভবঘুরের সংখ্যা বেড়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করছেন—গত দুই-তিন সপ্তাহে ক্যাম্পাসে অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া, টিএসসিতে শীতকাল উপলক্ষে বিভিন্ন মেলার আয়োজন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

আবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের শঙ্কা

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী উষসী বিশ্বাস বলেন, ভবঘুরেদের কারণে অনিরাপদবোধ করাটা নিত্যদিনের ঘটনা।

তিনি জানান, কিছুদিন আগে এক ভবঘুরে ব্যক্তির দ্বারা তার রুমমেট হেনস্তার শিকার হন। ওই ঘটনায় তিনি এতটাই অস্বস্তিবোধ করেছিলেন যে, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

ইংরেজি বিভাগ ও রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আনিকা তাহসিন হাফসা বলেন, ক্যাম্পাসে ভবঘুরের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি। হলের আশপাশে, ক্যাম্পাসে এবং মেট্রোস্টেশনের কাছে ভবঘুরেদের বেশি দেখা যায়—বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে।

তিনি বলেন, মাঝবয়সী কিছু মানুষ শাহবাগ থেকে টিএসসির রাস্তায় থাকেন। তাদের কারণে কিছুটা অনিরাপদবোধ করি এবং রাতে ওই রাস্তা দিয়ে একা আসতে ভয় লাগে।

অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শারিন ইসলাম তসী বলেন, হলের সামনে প্রায়ই ভবঘুরেদের শুয়ে থাকতে দেখা যায়। আমি এখন পর্যন্ত হেনস্তার শিকার হইনি, তবে যথেষ্ট অনিরাপদবোধ করি।

বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং কুয়েত মৈত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী প্রাপ্তি পিয়া শিকদার বলেন, ক্যাম্পাসে ভবঘুরের সংখ্যা আগের থেকে বেড়েছে। আমি নিজে হেনস্তার শিকার না হলেও আশপাশের মানুষজনকে হতে দেখেছি।

ফারসি বিভাগ ও শামসুন্নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা রুমি জানান, তিনি সম্প্রতি ভবঘুরে তুলনামূলক কম দেখছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ বা শাহবাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় সমাবেশ হলে এই সংখ্যা বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ভবঘুরেদের কারণে হল ও অ্যাকাডেমিক এরিয়ার রাস্তা-ঘাটে মল-মূত্র ও নেশাজাতীয় দ্রব্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। এটি তাকে অস্বস্তিকর ও অনিরাপদবোধ করায়।

অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও অনিরাপদবোধ করেন

ভবঘুরেদের কারণে শুধু আবাসিক নারী শিক্ষার্থীরাই নন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও সমস্যার মুখে পড়ছেন।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী নাফিসা নুজহাত বলেন, ভবঘুরের সংখ্যায় আগে ও এখন তেমন পার্থক্য না থাকলেও তিনি এখনও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হননি। তবে যথেষ্ট অনিরাপদবোধ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে ভবঘুরেদের আধিক্য (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের রোকেয়া হলের সাবেক আবাসিক শিক্ষার্থী সুরভী মালাকার বলেন, ভবঘুরের সংখ্যা আগের থেকে কিছুটা কম হলেও সব মিলিয়ে বড় সংখ্যক ভবঘুরে ক্যাম্পাসে আছে। বিশেষ করে কোনও অনুষ্ঠানের সময় তাদের সংখ্যা বাড়ে।

তিনি জানান, কোনও ভবঘুরের কাছ থেকে হেনস্তার শিকার না হলেও রিকশাচালকদের কাছ থেকে মৌখিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য ও পদক্ষেপ

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে ক্যাম্পাসের সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রক্টরিয়াল টিমের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে প্রক্টরিয়াল টিমের টহল বাড়বে; ২৯ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে একদিন পরপর প্রক্টরিয়াল টিম গ্রুপ করে টহলে বের হবে; ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে প্রতিদিন টহল দেওয়া হবে; ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব সহকারী প্রক্টর রুটিন করে প্রক্টর অফিসে অবস্থান করবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে ভবঘুরেদের আধিক্য (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

এছাড়া প্রভোস্টরা হলের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করবেন, নিরাপত্তাকর্মীরা সতর্ক থাকবেন, এস্টেট অফিস ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করবে, আইসিটি সেল ক্যাম্পাসের ক্যামেরাগুলো সচল আছে কিনা তা নিশ্চিত করবে এবং প্রভোস্টরা হলে কোনও বহিরাগত অবস্থান করছে কিনা তা দেখবেন।

ঢাবির সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার কারণে ক্যাম্পাসে কিছুটা ভিড় বেড়েছে। আবার শীতকাল উপলক্ষে কিছু মেলা চলছে, যে কারণে কিছু অসুবিধা হচ্ছে।

তিনি বলেন, টিএসসিতে কিছু উন্নয়নকাজ শেষ হয়নি। এ কারণেও সমস্যা হচ্ছে। আমরা ভবঘুরেদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

/এম/
সম্পর্কিত
শিক্ষা ও গবেষণায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলো ঢাবি
ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় ক্ষুব্ধ সাদা দল, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ইউজিসির সদস্য হলেন ঢাবির অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন
সর্বশেষ খবর
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, কমেছে তাপমাত্রা 
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, কমেছে তাপমাত্রা 
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি