প্রযুক্তিভিত্তিক, মেধানির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে চিরাচরিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও মেধার বিকাশ ঘটানো জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবনী গবেষণা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির চর্চা ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের স্বার্থে ও জনগণের কল্যাণে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত। আমাদের মূল নীতি হওয়া উচিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে জনগণ’। দেশ মানে শুধু ভূখণ্ড বা পতাকা নয়, এর পেছনে রয়েছে জনগণের স্বাধিকার ও মালিকানার মেলবন্ধন।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ অন্যান্য ছাত্রনেতাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক ইচ্ছায় ১৯৯৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের মেয়াদে ২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।’ বর্তমান ক্যাম্পাস ছাড়াও কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর স্বতন্ত্র ও আধুনিক আবাসিক সুবিধা সংবলিত নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানান।
শিক্ষাব্যবস্থা ও উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সনদ বা জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে একটি জাতি উন্নত হতে পারে না এর জন্য গুণগত পরিবর্তন এবং গবেষণামুখী শিক্ষা অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল কর্মসংস্থানের জন্য নয়, বরং মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও উচ্চতর গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা উচিত। কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে কেবল সাধারণ শিক্ষায় উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে বেকার না থেকে, আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।’
সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর আধুনিক অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সনাতনী ব্যবস্থার পাশাপাশি ইনোভেটিভ আইডিয়া, প্রযুক্তি-নির্ভর জ্ঞান এবং মেধানির্ভর জনবল সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই।’ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও দেশপ্রেম ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার।
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট।