যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত জবি শিক্ষক স্বপদে বহাল, পদোন্নতি স্থগিত

Send
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:১২, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৪, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক আব্দুল হালিম প্রামাণিককে  শাস্তির আওতায় এনেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার শাস্তির মধ্যে রয়েছে স্থগিত পদোন্নতির মেয়াদ  ৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর, সব ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে ১০ বছরের জন্য অব্যাহতি ও নিজের কোর্স ছাড়া পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনও কাজ করতে পারবেন না তিনি। তবে তাকে স্বপদে বহাল করেছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন সভায় থাকা একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য।  তবে ওই শিক্ষকের পদোন্নতি স্থগিতের মেয়াদ ৮ বছরের মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচ বছর শেষ হয়েছে।

নাম না প্রকাশ না করে সিন্ডিকেটের সভায় অংশ নেওয়া এক সদস্য জানান, তদন্ত রিভিউ কমিটির বক্তব্য অস্পষ্ট থাকায় স্বীয় পদে বহাল করা হয়েছে প্রামাণিককে। তদন্ত রিভিউ কমিটির দাবি, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়নি, আবার এধরনের অভিযোগ অমূলকও নয়। রিভিউ কমিটির এমন অস্পষ্ট বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিন্ডিকেট সদস্যরা।

এবিষয়ে প্রথম তদন্ত কমিটির প্রধান ড. হেলেনা ফেরদৌসী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কমিটিতে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছিল। কমিটির সদস্যরা সবাই এবিষয়ে একমত ছিলাম।  এরকম যদি চলতে থাকে আমাদের শিক্ষার্থীরা কখনও বিচার পাবেন না।’

দ্বিতীয় তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মনিরুজ্জামান এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তের সারাংশ না আসা পর্যন্ত আমি এটা নিয়ে কথা বলবো না।’

রিভিউ ও তৃতীয় তদন্ত কমিটির প্রধান ড. শওকত জাহাঙ্গীরও এ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আগের দুই কমিটির বক্তব্যে ভিন্নতা ছিল, তাই তৃতীয় কমিটি করা হয়। আমরা আমাদের বক্তব্য সিন্ডিকেটকে জানিয়েছি। যেহেতু সিন্ডিকেট এবিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, তাই আমাদের কিছু বলা ঠিক হবে না।’

এবিষয়ে নাট্যকলা বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় প্রধান শামস শাহরিয়ার কবিরের সঙ্গে  যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এধরনের বিচার একেবারেই সন্তোষজনক না। এর আগেও একটা বিচারে তার পদোন্নতি স্থগিত করা হয়। শুধু আমরা দুই জন না, আরও অনেক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এতকিছুর পরও এমন শাস্তি মেনে নেওয়া যায় না।.

যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রীর অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নাট্যকলা বিভাগের এক ছাত্রী ক্লাসে উপস্থিতির নম্বরের বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম প্রামাণিকের কাছে গেলে তিনি ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী।

শাস্তির  বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটা নিয়ে তো সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার আলাদা মন্তব্যের কিছু নেই।’

রিভিউ কমিটির  অস্পষ্ট বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ‘রিভিউ কমিটি তার বক্তব্য দিয়েছে, সিন্ডিকেটের বিজ্ঞ সদস্যরা তারা তাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবদুল হালিম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। তখন এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তার শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করেন। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ওই বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে অধ্যাপক আবদুল হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিরস্কার করে। একইসঙ্গে দ্রুত ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযোগটি দুই দফা তদন্তের পর ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে তিরস্কার ও দুই বছরের জন্য পদোন্নতি পিছিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী ছাত্রী এমন শাস্তিতে অসন্তুষ্ট জানিয়ে উপাচার্য বরাবর চিঠি দিলে ফের উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অপরাধের সঙ্গে ওই শাস্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ওই বছরের ৩০ এপ্রিল ভুক্তভোগী ছাত্রী আবারও ঘটনাটি তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৭৭তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত বাতিল করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ
X