বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তাদের দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার থেকে মন্ত্রালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে নগর ভবনে এই তদন্ত শুরু হয়েছে।
অনেক চেষ্টা করেও এই ব্যাপারে তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত দলের অন্যতম সদস্য ও বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল কালাম আজাদ জানান, অপ্রয়োজনীয় ও ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগ, অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি, শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতি, বেতনভাতা নিয়ে কর্মচারীদের অসন্তোষসহ মেয়র ও প্রধান নির্বাহীর অনিয়ম-দুর্নীতি জন্যই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পেশ করা হবে বলে তিনি জানান।
আরও পড়তে পারেন: “ধূমপানে হিন্দু পুরুষদের ‘বন্ধ্যাত্ব’ বাড়ছে”
উল্লেখ্য,মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মেয়র ও প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে পদোন্নতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও দৈনিক বেতনের ভিত্তিতে কয়েক শ’ শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন মেয়র। এছাড়া নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় অনেককে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
কর্মচারীরা জানান, তাদের ৫ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। দেওয়া হয়নি কোনও উৎসব ভাতা। বাংলা নববর্ষের একদিন আগে বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করে কর্মচারীরা।
তদন্ত চলাকালে বৃহস্পাতিবারও বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে মেয়রের কক্ষের সামনে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করছিল কর্মচারী ও শ্রমিকরা। এসময় তারা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ কুমারকে নিজ কার্যালয়ে আটকে রাখেন।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে থাকা ডিপ্লোমা সনদধারী আবদুল মোতালেবের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। চাকরির গেজেট অনুযায়ী, নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেতে হলে বিএসসি সনদধারী হতে হবে।
তবে আবদুল মোতালেব দাবি করেন তিনি নাটোরে অবস্থিত ‘রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনলোজি ইউনিভার্সিটি’ থেকে বিএসসি পাস করেছেন। এর একটি সনদ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক শাখায় তিনি জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসমা বেগম। তবে ‘রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনলোজি ইউনিভার্সিটি’র সূত্রে জানা গেছে, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালে কাজ শুরু করেছে এবং এর প্রথম ব্যাচটির শিক্ষাক্রম এখনও শেষ হয়নি।
বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ দাস বলেছেন তার কোনও দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ নেই। তিনি শুধু মেয়র ও কাউন্সিলরদের সভায় অনুমোদিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে স্বাক্ষর ও তা প্রতিপালনের ব্যবস্থা করেছেন। সামর্থ্যের অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের কারণেই কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
বিসিসি’র মেয়র বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামাল দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু সেবাদান ও নাগরিক সুবিধার স্বার্থে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: গুপ্তহত্যাও বন্ধ করতে পারবো: প্রধানমন্ত্রী
/জেবি/এমএসএম/টিএন/








