নৌপথের নিরাপত্তার জন্য ২০১৩ সালের নভেম্বরে পুলিশ বাহিনী থেকে নৌপুলিশ নামে একটি নতুন ইউনিট গঠন করা হয়। তবে দেড় বছরেও নৌপুলিশ পরিচালনার জন্য নিজস্ব কোনও বিধিমালা তৈরি করতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশের এই ইউনিটের মামলা তদন্তের কোনও অধিকার নেই। এছাড়াও জনবল,সরঞ্জাম ও অফিস সংকটে ভুগছে পুলিশের এই ইউনিট। দেশের দীর্ঘ নৌপথে মাত্র ৫২ টি ফাঁড়ি দিয়ে নৌযাত্রীদের নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ। দু’টি থানা থাকলেও কোনও বিষয় তদন্ত করার অধিকার তাদের নেই।
নৌপুলিশ সদর দফতর সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান।
সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ, পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চল নামে ভাগ করা নৌপুলিশের প্রস্তাবিত ৭৬টি নৌপুলিশ ফাঁড়ির মধ্যে ৫২টির কাজ শেষ হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে গঠন করা হবে বাকিগুলো। পুলিশ থেকে সরাসরি এই ইউনিটে বদলি করা সদস্যদের নেই কোনও নিজস্ব প্রশিক্ষণ। পুলিশ প্রশিক্ষণ দিয়েই নতুন দায়িত্ব পালনে বেগ হতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের।
নৌপুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌপথের পরিমাণ, নৌপথে সংঘটিত অপরাধের ধরন, এলাকাভিত্তিক জলদস্যুদের তালিকা, নৌপথ ব্যবহারকারী জলযানের পরিমাণ, নদীর গভীরতা, নদীদূষণ, নদী দখল ও জলযানের ফিটনেসসহ বিভিন্ন বিষয় সংক্রান্ত বিশাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। তবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কোনও কাজের সফল পরিসমাপ্তি ঘটছে না।
প্রাথমিকভাবে নৌপুলিশের সদস্যরা ৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করছেন। এজন্য নৌপুলিশকে দক্ষিণ, পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চল নামে ভাগ করা হয়েছে। এই অঞ্চলগুলোর অধীনে ৭৬টি ফাঁড়ি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শুষ্ক মৌসুমে নৌপথ কমে ৩ হাজার কিলোমিটারে চলে আসে বলে দাবি করেছে নৌপুলিশ।
নৌপুলিশের সদর দফতরের প্রশাসন বিভাগের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আতিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা একটি বিধিমালা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছি। তবে সেটি এখনও পাশ হয়নি।’
আসন্ন ঈদুল ফিতরে নৌপথের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন,‘আমদের বর্তমানে ৫২ টি নৌফাঁড়ি রয়েছে। এসব ফাঁড়িতে থাকা পুলিশ সদস্যরা জলযানে থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তা দেবে। ২৪ ঘণ্টা নৌপথে নিরাপত্তা দেওয়া হবে।’
নৌপথের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশের নৌপুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়। জনবল কাঠামো অনুযায়ী নৌপুলিশে ৭৫৭ জন নিজস্ব এবং জেলাপুলিশ থেকে ৮ শ’ পুলিশ সংযুক্ত করে মোট ১৫ পুলিশ সদস্য নৌপুলিশে কাজ করছে। নৌপুলিশের প্রধান করা হয়েছে ডিআইজি।এ ছাড়া ২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৫ জন পুলিশ সুপার, ১০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১৫ জন সহকারী পুলিশ সুপার রয়েছেন।
এসপি আতিকুর রহমান আরও বলেন, ‘প্রতিটি ঘাটে আমাদের নৌপুলিশ সদস্য টহলে থাকবে। ২৪ ঘণ্টা তারা যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তায় থাকবে।’
নৌপুলিশ সদর দফতর সূত্রটি জানায়, দেশে ৫২ টি পুলিশ ফাঁড়ি এবং
দু’টি নৌপুলিশের থানা আছে। একটি ময়মনসিংহের বাহাদুরাবাদ অপরটি কুড়িগ্রামের ডুশমারা। তবে এই থানা পুলিশ তদন্ত অধিকার লাভ করেনি।
নৌপুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করে থাকি। আমাদের বিধিমালা না থাকায় তদন্তের বিষয়টি ওইভাবে বলা হয়নি। তাই তদন্ত করা যাচ্ছে না। তবে বিধিমালা হলে পারা যাবে। নৌপুলিশের বিধিমালাটি এখনও পাশ হয়নি। যতদূর জানি সেটি পুলিশ সদর দফতরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে হয়তো মন্ত্রণালয় যাবে। এরপর এটি পাশ হলে কাজ করতে আরও সহজ হবে।’
ঈদে নৌপথে নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের ফাঁড়ির সংখ্যা বেশি। আমরা ঈদ উপলক্ষ্যে একটি স্পেশাল প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌপুলিশ কাজ করবে।’
বর্তমানে ফাঁড়িগুলো বাড়িভাড়া করে করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে কাজ করছি বাড়ি ভাড়া করে। ফাঁড়ির জন্য নিজস্ব ভবন এখনও করা হয়নি। তবে শিগগিরই এসব করা হবে।’
রফিকুল ইসলাম বলেন,‘উত্তরবঙ্গে আমাদের কার্যক্রম কম। তবে দক্ষিণাঞ্চল, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে আমাদের তৎপরতা রয়েছে। কারণ এসব অঞ্চলে আমাদের নদীপথ বেশি।’
আরও পড়ুন:
বাবুল আক্তারকে 'জিজ্ঞাসাবাদ' করছে পুলিশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইজিপি বিশেষ বৈঠক
দোয়েল ‘ল্যাপটপ’ ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতেই শেষ!
/এআরআর/এমএসএম/








