পবিত্র রমজান মাসকে উপলক্ষ করে প্রতিদিনই কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে চলছে বক্তব্য,পাল্টা বক্তব্য ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিকে ঘায়েল করার মহাযজ্ঞ। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে কথা উঠেছে-এগুলো ইফতার মাহফিল নাকি রাজনৈতিক কর্মসূচি?
অবশ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এটাকে সহজভাবেই দেখছেন। প্রায় মাসব্যাপী আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ ছোট বড় সব রাজনৈতিক দলই ইফতার মাহফিল আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আয়োজনে ইফতার মাহফিল পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে-এগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচির আদলেই হয়েছে। অন্য সময়ে যেমন দেখা যায়, রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে নেতা-নেত্রীরা বক্তব্য দেন, ইফতার মাহফিলেও ছিল একই চিত্র। পার্থক্য শুধু সভা-সমাবেশ রাজপথে হয়, আর ইফতার হয় পার্টি সেন্টারে। ‘ইফতার মাহফিল’ নামকরণে যে ভাবগাম্ভীর্য, শেষ পর্যন্ত তা বজায় থাকে না রাজনৈতিক দলের আয়োজনে করা ইফতার মাহফিলে।
দেখা গেছে, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই তাদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে বক্তব্য রেখে যাচ্ছে ইফতার মাহফিলে। এতে সত্য-মিথ্যার চর্চাও চলছে সমান তালে।
তবে ভিন্ন চিত্র ছিল এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইফতার মাহফিলে। বিশটির বেশি ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছেন তিনি। যেসব ইফতার মাহফিলে তিনি যোগ দিয়েছেন এবং নিজে আয়োজন করেছেন তার বেশিরভাগেই বক্তব্য পর্ব রাখা হয়নি। শুধু কুশল বিনিময় ও দোয়া-মোনাজাত পর্ব ছিল। তাই এসব ইফতার মাহফিলে এবার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইফতার মাহফিল শেষ করা হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর বাইরে অন্য সবগুলো ইফতার মাহফিলেই ছিল কাদা ছোড়াছোড়ি। প্রতিপক্ষকে বিষোদগার করার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির মতোই অনুষ্ঠিত হয়েছে এসব ইফতার মাহফিল।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজি জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পবিত্র রমজান মাসকে উপলক্ষ করে ইফতার মাহফিলগুলো আয়োজন করা হলেও এগুলো আসলে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবেই চিহ্নিত হয়। তাই বক্তব্য পর্ব থাকে। এর ফলে একে অপরকে ঘায়েল করার সুযোগ পেয়ে থাকেন নেতানেত্রীরা। তবে ইফতার মাহফিল বলা হলে বক্তব্য পর্ব না থাকাই ভাল বলে মনে করেন কাজি জাফরউল্যাহ।
বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ পর্যন্ত দেড় ডজনেরও বেশি ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হয়েছেন। যার আয়োজক ছিল বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন। এর সবকটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্য পর্ব ছিল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ তাদের দল ও জোটের নেতারা ইফতার মাহফিলগুলোতে বক্তব্য রেখেছেন। প্রতিপক্ষ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার প্রধান শেখ হাসিনাকে ঘায়েল বক্তব্য রেখেছেন।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও বিভিন্ন সংগঠনের দাওয়াতে ইফতার মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন প্রতিদিন। প্রায় সব নেতাই প্রতিপক্ষ বিএনপির সমালোচনা করে, তাদের ঘায়েল করে বক্তব্য রাখছেন। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও তার দলের আয়োজনে অথবা অন্যান্য সংগঠনের আয়োজনে বেশ কয়েকটি ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছেন এবং বক্তব্যও রেখেছেন।তিনিও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে বক্তব্য পর্ব সেরেছেন। কখনও আওয়ামী লীগকে, কখনও বিএনপিকে সমালোচনা করেছেন তিনি।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ইফতার মাহফিল হলেও রাজনৈতিক সংগঠনের হওয়াতে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বক্তব্য চলে আসে। তবে এটা না হলেই ভাল। রমজান উপলক্ষে আমরা যেসব ইফতার মাহফিলের আয়োজন করি এগুলো এক অর্থে রাজনৈতিক কর্মসূচিই বলা যেতে পারে। ইফতার মাহফিলে বক্তব্য পর্বের যে সংস্কৃতি তা বাদ দেওয়া গেলে প্রকৃত অর্থে ইফতার মাহফিল বলা যায়।
/এমএসএম /আপ- এপিএইচ
আরও পড়ুন:
পেশাজীবীদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার








