পরিবেশবাদীদের হাজারও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে বাগেরহাটের রামপালে দেশের সর্ববৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
জমি অধিগ্রহণের পর ইতোমধ্যে মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি প্রা. লিমিটেড এ লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটের কাজ শেষ হবে চুক্তির ৪১ মাসের মধ্যে এবং দ্বিতীয় ইউনিট শেষ হবে ৪৬ মাসে। ফলে, আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে এ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে, রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন শুরু থেকেই বিরোধিতা করে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের কাছে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে।
অপরদিকে, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে এবং মংলা বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন দল ও তাদের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করায় পরিবেশের ও সুন্দরবনের কোনও ক্ষতি হবে না।
তাদের আরও দাবি, সুন্দরবনের ইউনেস্কো হেরিটেজ থেকে ৬৯ কিলোমিটার এবং প্রান্ত সীমানা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে আধুনিক নির্মাণাধীন এ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের কোনও ক্ষতি করবে না। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত ছাই আকাশে উড়বে না। সুন্দরবন ও এলাকার যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রামপালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে এ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারের সমালোচনা করে রামপালের পরিবেশবাদী নেতা এমএ সবুর রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকার ভারতকে খুশি করতে সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। দেশের অন্য স্থানে এই কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করার জন্য পরিবেশবাদীদের দাবি সরকার কানে নেয়নি। এমন কী বর্তমানে সুন্দরবন রক্ষার জন্য আন্দোলন করার চেষ্টা করলেও সরকার পুলিশ দিয়ে তা দমন করছে।
সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ ‘সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে সরকার বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তারা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করার কথা বলে সাধারণ মানুষদের ধোঁকা দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে দূষণের মাত্রা ১০ ভাগ কম হয়। কিন্তু সরকার বলছে, কোনও দূষণই হবে না।
তিনি বলেন, রামপালে পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মিত হলে বাঘের আবাসস্থলের সংকট আরও তীব্র হবে। এমনিতেই চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্যে সুন্দরবন থেকে বাঘ নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। এখন বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনে মাত্র ১০৬টি বাঘ রয়েছে। রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে বাঘ একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সে এলাকায় হাজার হাজার বিঘা জমি কেনা হচ্ছে আবাসনের জন্য। এই ধরনের স্থাপনা সুন্দরবনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে সুন্দরবনে কী ধরনের প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ ড.শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত ছাই সুন্দরবনের ওপর গিয়ে পড়বে। ফলে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। সরকার বলছে, উন্নয়নের জন্য ক্ষতি মেনে নিতে হবে। কিন্তু সুন্দরবনের ক্ষতি হলে তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব হবে নয়।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্যস্থানে নির্মাণ করা সম্ভব কিন্তু সুন্দরবন দ্বিতীয়টি তৈরি করা সম্ভব নয়।
তিনি সরকারের হিসাব উল্লেখ করে বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫ হাজার ৮শ মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হবে। আর এই কয়লা পরিবহন করতে সুন্দরবনের ভেতর থেকে পাঁচ শতাধিক জাহাজ চলাচলের প্রয়োজন হবে। কয়লা জাহাজে ওঠানো ও নামানোর সময় তা পানিতে পড়বে। এতে হুমকিতে পড়বে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। এছাড়া এত জাহাজ চলাচলে যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটবে না, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেন না।
ফরিদুল ইসলাম বলেন, তাছাড়া রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোন দেশের কয়লা ব্যবহার করা হবে, তা এখনও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে না। একেক সময় একেকটি বলা হচ্ছে। বর্তমানে যেভাবে খুলনা-মংলা রেল সংযোগ নির্মাণে জোর দেওয়া হচ্ছে, তা দেখে মনে হচ্ছে, কয়লা ভারত থেকে আনা হতে পারে। এ নিয়ে আমরা শঙ্কিত!
তিনি সরকারে উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ভারতের মানহীন কয়লা যদি আমদানি করা হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। যেখানে ভারত দূষণের হাত থেকে বাঁচতে ভালোমানের কয়লা আমদানি করে, সেখানে আমরা সেই মানহীন কয়লা কীভাবে ব্যবহার করি?
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণাঞ্চলে সিডর, আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ একের পর এক ধেয়ে আসছে। সুন্দরবন ধ্বংস হলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও বেড়ে যাবে। আর সুন্দরবন উপকূলবাসীর রক্ষাকবজ সুন্দরবন না থাকলে উপকূল ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হবে।
সরকারের সমালোচনা করে এই সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ বলেন, সরকার সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করার কথা বলে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। এটা হচ্ছে, পুরনো একটি পদ্ধতি। এরপর আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি, তারপর অ্যাডভান্সড আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বে বর্তমানে অ্যাডভান্সড আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি চলছে। সেখানে একটি পুরনো টেকনোলজি রামপালে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে দূষণের মাত্র ১০ ভাগ কম হয়। কিন্তু, সরকার বলছে কোনও দূষণই হবে না।
এদিকে, ২৮ জুলাই তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি দেওয়া হয়। এতে সুন্দরবনের ক্ষতি সম্পর্কে বলা হয়, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে-
১. কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরে ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা পুড়িয়ে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন ফ্লাই-অ্যাশ ও ২ লাখ টন বটম-অ্যাশ উৎপাদিত হবে। এই ফ্লাই-অ্যাশ, বটম-অ্যাশ, তরল ঘনীভূত ছাই বা স্লারি ইত্যাদি ব্যাপক মাত্রায় পরিবেশ দূষণ করে। কারণ, এতে আর্সেনিক ও বিভিন্ন ভারী ধাতু যেমন পারদ, সীসা, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, বেরিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়াম, রেডিয়াম মিশে থাকে। এর ফলে সুন্দরবনের পশুপাখি-বৃক্ষ-লতাপাতাসহ অসংখ্য প্রাণ এবং ইকোসিস্টেম ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে।
২. কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিষাক্ত সালফার ও নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড গ্যাস নির্গমনের ফলে মানুষ-গাছপালা-জীবজন্তুর জীবন বিপন্ন হবে।
৩. সাড়ে চার বছর ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকালে আমদানি করা কয়লাসহ নির্মাণের মালামাল ও যন্ত্রপাতি সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নদীপথে পরিবহন করার সময় বাড়তি নৌযান চলাচল, তেল নি:সরণ, শব্দদূষণ, আলো, বর্জ্য নি:সরণ, ড্রেজিং ইত্যাদির মাধ্যমেও বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানি করা কয়লা সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে একমাথা থেকে আরেকমাথা পর্যন্ত পরিবহন করার কারণে কয়লার জাহাজ থেকে নির্গত কঠিন ও তরল বর্জ্য, জাহাজের শব্দ, জাহাজ সৃষ্ট ঢেউ, সার্চ লাইটের আলো, কয়লা লোড আনলোডের ফলে সৃষ্ট দূষণ ইত্যাদিতে সুন্দরবনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে।
৪. কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইন, জেনারেটর, কম্প্রেসার, পাম্প, কয়লা ওঠানো-নামানো, পরিবহন ইত্যাদির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও যানবাহন থেকে ভয়াবহ শব্দদূষণ হবে।
৫. কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত দূষিত পানি ও অন্যান্য কঠিন ও তরল বর্জ্য সুন্দরবনের পশুর নদী ও সংযুক্ত খালগুলোর পানি দূষিত করে ফেলবে। যেসব নদী সুন্দরবনের প্রাণ সেগুলোর অবস্থা বুড়িগঙ্গার চাইতেও খারাপ হবে। ফলে, সুন্দরবনকে বাঁচানো যাবে না।
অপরদিকে, সুন্দরবনের ক্ষতি হবে পরিবেশবাদীদের এমন দাবি উড়িয়ে দিয়ে বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ কামরুজ্জামান টুকু বলেন, ভারতসহ পৃথিবীর বহু উন্নত দেশে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার কারণে পরিবেশের কোনও ক্ষতি হবে না।
তিনি বলেন, 'এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে মংলা বন্দরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্পকারখানা। তাছাড়া অতি প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের মূল্য সীমার মধ্যে রাখতে গেলে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনও বিকল্প নেই।'
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বেমরতা ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন টগর বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যে সব প্রকল্প গ্রহণ করেছে রামপালের কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র তার মধ্যে অন্যতম।'
তিনি বলেন, 'বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয় অনেক যাচাই-বাছাই করেই এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনের কোনও ক্ষতি করবে না বলে আমরা বিশ্বাস করি। কিছু সংখ্যক ব্যক্তি রাজনৈতিক কারণে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চান।'
এ বিষয়ে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, 'পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এমনকী আমাদের দেশের ঘনবসতিপূর্ণ বড় পুকুরিয়া এলাকাতেও একটা কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। সেখানে যদি মানুষের কোনও ক্ষতি না হয়, তাহলে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুন্দরবনের কীভাবে ক্ষতি করবে?'
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশের ক্ষতি হবে কিনা তা যাচাই-বাছাই না করে এ ধরনের কোনও প্রকল্পের অনুমোদন দিতে পারেন না। কিছু সংখ্যক পরিবেশবাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে সুন্দরবনের ক্ষতির ধুয়া তুলছে। সুন্দরবন সম্পর্কে তাদের ধারণাই নেই!'
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি প্রা. লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, 'রামপালের কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি পরিবেশবান্ধব প্রকল্প। দ্রুতগতিতে এর নির্মাণ কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।'
বাগেরহাট জেলার রামপালে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)এবং ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার কোম্পানির মধ্যে চুক্তি সই হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি)যৌথ অংশীদারিত্বে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুৎ কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) গঠিত হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য রামপাল উপজেলার সাপমারি-কাঁটাখালী ও কৈগরদাশকাঠী এলাকায় ১৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
/এবি/
আরও পড়ুন







