ভারতের সুমদ্রসীমায় আটকে পড়া বাংলাদেশের ছয়টি মাছ ধরার ট্রলার উদ্ধারের জন্য নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ আজ রবিবার (২১ আগস্ট) ভারতের সুমদ্রসীমায় প্রবেশ করেছে।
সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে ট্রলারগুলি অনিচ্ছাকৃতভাবে বঙ্গোপসাগরের ভারতের অংশে ঢুকে পড়ে এবং এগুলি নষ্ট হয়ে যায়।
রবিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, এ ছয়টি ট্রলারের নাম হচ্ছে, ‘আল্লাহর দান’, ‘ফরহাদ’, ‘নাইম’, ‘মা গঙ্গা’, ‘কুসুম ও ‘আবদুল্লাহ’। এ ছয়টি ট্রলারগুলিতে ৮০ এর বেশি জেলে রয়েছেন।
এর মধ্যে ‘আল্লাহর দান’ ও ‘ফরহাদ’ ট্রলারে আছে ৩১ জন জেলে এবং এ দুটি ট্রলার এখন পশ্চিমবঙ্গের ফ্রেজারগঞ্জে কোস্টগার্ড ঘাঁটিতে আছে।
‘নাইম’ ট্রলারটিতে আছে ১৮ জন জেলে এবং এটিকে ভারতের জেলেরা উদ্ধার করে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে নদীয়া জেলার কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করেন।
‘মা গঙ্গা’ ট্রলারে আছেন ১৪ জন জেলে এবং এটি সুমদ্রে আটকে পড়ে আছে। ‘কুসুম’ ও ‘আবদুল্লাহ’ ট্রলারে ২০ থেকে ২৪ জন জেলে আছেন এবং এটি উপকূলের অগভীর পানিতে আছে।
সরকারের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ভারত এ ট্রলারগুলির বিষয়ে শুক্রবার আমাদের জানানোর পর আমরা বাংলাদেশের নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর অনুরোধ জানাই। গতকাল শেষ বেলায় ভারত আমাদের অনুমতি দেয়।
‘স্বাধীনতা’ ও ‘প্রত্যয়’ নামে নৌবাহিনীর দুটি অফশোর পেট্রোল বোট আজকে ভারতের সুমদ্রসীমায় ঢুকেছে এবং আশা করা যাচ্ছে আগামীকাল সোমবার ট্রলারগুলিকে নিয়ে বাংলাদেশের সীমানায় ফেরত আসবে।
কর্মকর্তাটি আরও বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে জানিয়েছে, আকাশপথে বঙ্গোসাগরে অনুসন্ধানকালে তারা অন্য একটি ট্রলারকে ডুবন্ত অবস্থায় দেখেছে। কিন্তু ট্রলারটির নাম বা কোনও জেলেকে তারা দেখতে পায়নি।
তিনি বলেন, নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ভারতের কোস্টগার্ডের সহায়তায় ডুবন্ত ট্রলারটি উদ্ধারে বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান চালাবে। ভারতের জলসীমায় ঢুকে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান এর আগে বাংলাদেশ করেনি।
২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় ব্লু-অর্থনীতি সহযোগিতা বিষয়ক এক সমঝোতা স্মারকে বলা হয়, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনও ট্রলার বা জাহাজ যদি অন্যদেশের সুমদ্রসীমায় ঢুকে পড়ে, তবে সেগুলি ফেরত পাঠানোর জন্য উভয়দেশ সহযোগিতা করবে।
/এসএসজেড/এবি/
আরও পড়ুন
ফরিদপুরে টর্নেডোর আঘাতে জুট মিল ধসে ৪ কর্মীসহ ৫ জনের মৃত্যু, আহত শতাধিক








