বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রোটোকল রুট সচল রাখার জন্য মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটি সচল রাখা জরুরি। কিন্তু,সাগরের জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি মাত্রাতিরিক্ত হারে এই চ্যানেলটি এসে জমে যাওয়ার কারণে এটিকে সচল রাখাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। তাই চ্যানেলটিকে সচল রাখতে ও এর আশেপাশের নদীগুলোর নাব্যতা অটুট রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে বিশাল আকারের বিশেষ প্রকল্প। এই চ্যানেলটি খনন করতে সরকার ব্যয় করতে যাচ্ছে ৭০৬ কোটি টাকা।
চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ‘বাগেরহাট জেলার ৮৩টি নদী ও খাল পুনঃখনন এবং মংলা-ঘসিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি’ বিষয়ক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৭০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ অর্থের পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ হবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা, রামপাল ও বাগেরহাট সদর উপজেলাব্যাপী রয়েছে এই প্রকল্পের এলাকা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল মংলা উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত পশুর নদী এবং মোড়েলগঞ্জের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত পয়লাহারা নদীর (বলেশ্বর) সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাগেরহাট জেলার ছোট বড় ৮৩টি নদী ও খাল খনন করা হবে। যার মোট দৈর্ঘ্য হবে ৩০৯ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়,সমুদ্রের উচ্চ জোয়ারের সঙ্গে প্রচুর পলি আসার কারণে প্রকল্প এলাকার নদী ও খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া, এসব খাল দীর্ঘদিন হতে পুনঃখনন হয়নি। এ কারণে এই এলাকার নদী ও খালগুলো তার নাব্যতা ও ধারণ ক্ষমতা হারিয়েছে এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রতিবছরই প্রকল্প এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এসব নদীবর্তী এলাকাগুলো বর্ষা মওসুমে কিছু কিছু সময় প্লাবিত হয়। এতে এই এলাকার কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষয়-ক্ষতিসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
সূত্র আরও জানায়, এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে,বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রোটোকল রুট সচল রাখার স্বার্থে মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলে উচ্চ হারে পলি পড়া কমানো।পাশাপাশি মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল সংলগ্ন এলাকা এবং পাউবো এর পোল্ডার নং ৩৪/২ এর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন,সংযোগ খালগুলো দিয়ে পলি পড়া কমানোর ব্যবস্থার মাধ্যমে মংলা বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রকল্প এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোও প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়,এই প্রকল্পের আওতায় প্রকল্প এলাকার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন হবে ৪০৯ দশমিক ৬৪ লাখ ঘনমিটার। পেরিফেরাল বাঁধ নির্মাণ হবে ১৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। ড্রেনেজ আউটলেট নির্মাণ হবে ৪টি, বেইলি ব্রিজ নির্মাণ হবে বেশ ক’টি। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ওড়াবনিয়া বিল এবং পেরিখালী বিলে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ৬৫৪ দশমিক ৭৯ হেক্টর।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই চ্যানেলটি সচল রাখতে পারলে মংলা বন্দরের সঙ্গে জাহাজ যোগাযোগে সময় কম লাগবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা হবে।
এ প্রসঙ্গে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, অনেকদিন ধরেই নাব্যতা সংকটে মংলা-ঘসিয়াখালী চ্যানেলটি জাহাজ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাগেরহাট দিয়ে মংলা বন্দরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কমপক্ষে এক দেড় ঘণ্টা সময় কম লাগবে।
/এসআই/টিএন/
আরও পড়ুন-
নিজেদের পকেট থেকে ভ্যাট দিতে হবে না ব্যবসায়ীদের
পণ্যের মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে কিনা প্রশ্ন অর্থমন্ত্রীর








