জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে বিতর্কিত দ্বিমুখী অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, দশম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতির হার সন্তোষজনক। কিন্তু দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে তাদের গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
রবিবার (৯ এপ্রিল) টিআইবি কার্যালয়ে ‘পার্লামেন্টওয়াচ- দশম জাতীয় সংসদ: সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ অধিবেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করে টিআইবি।
টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছর ধরে বিরোধী দল সংসদে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের প্রস্তাব ও বক্তব্যের প্রাধান্য সরকারি দলে লক্ষ্যণীয় নয়। তাদের বিতর্কিত দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে এ গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
দশম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, অষ্টম জাতীয় সংসদে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল ৪৮ বার, নবম জাতীয় সংসদে ১১ বার। কিন্তু চলমান দশম সংসদে বিরোধী দল মাত্র চারবার ওয়াকআউট করেছে। এছাড়া, প্রধান বিরোধী জোট অষ্টম সংসদে ৬৫.৩২ শতাংশ কার্যদিবস ও নবম সংসদে ৯৫.৭১ শতাংশ কার্যদিবস বর্জন করেছিল। বিপরীতে দশম সংসদে বিরোধী দল একবারও সংসদ বর্জন করেনি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বিরোধী দল সংসদে সক্রিয় হলেও তাদের গ্রহণযোগ্যতায় ঘাটতি রয়েছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দলকে এই সংসদের শুরুতে শক্ত অবস্থান নিতে দেখা গেছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাদের এই অবস্থানের লক্ষ্যণীয় কোনও অগ্রগতি হয়নি। সংসদে তাদেরকেও বিভিন্ন প্রস্তাব, অনিয়ম ও দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রসঙ্গে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেখা গেছে। এসব বিষয়ে কথা বলতে যথেষ্ট সময় না দেওয়ায় তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। কিন্তু তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়েনি। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে বিরোধী দলকে তাদের দ্বিমুখী অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।’
টিআইবির প্রতিবেদনে বিরোধী দলের প্রতি রাখা সুপারিশেও বলা হয়েছে একই কথা। এতে বলা হয়েছে, সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় প্রধান বিরোধী দল যদি প্রকৃত বিরোধী দলের মতো ভূমিকা পালনে আগ্রহী হয়, তবে তাদের দ্বৈত অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।
আরও পড়ুন-
সংসদে কোরাম সংকটে অপচয় ৪৭ কোটি টাকা
অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারে ১৫ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে অধিবেশনে
/টিআর/








