রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখ ১৪২৪ সাল ৫০ বছরে পৌঁছেছে। আজ আমাদের পরম আনন্দের দিন। উপস্থিত জন ও দেশবাসীকে জানাই সানন্দ ও সম্ভাষণ, শুভ নববর্ষ। নববর্ষ উদযাপনের এই দিনে দেশের সর্বত্র সুস্থ ও যুক্তিবাদী চিন্তা ছড়িয়ে দেওযার আহ্বান জানিয়েছে ছায়ানট।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর রমনা বটমূলে সেতার-সরোদ-তবলার লহরীতে নতুন বাংলা বছরকে বরণ করে নেয় ছায়ানট। পরে সেখানে বাদ্যযন্ত্রের বাজনা পরিবেশন, গান, কবিতা আবৃত্তির পর বক্তব্যে এসব কথা বলেন ছায়ানটের সভাপতি সন্জিদা খাতুন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতির বিষয়ে আমাদের মনে মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ধর্মীয় সন্ত্রাস দমনের সাফল্য এবং দেশের নানাবিধ উন্নয়ন আমাদের মনে স্বস্তি এনেছে। অন্যদিকে ধর্ম ব্যবসায়ীদের সন্ত্রাস সম্পূর্ণ নিমূল হয়নি বলে নিরাপত্তহীনতার বোধ থেকে আমরা মুক্ত হতে পারিনি। পাঠ্যপুস্তকের বিষয় নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক বিবেচনা এবং চিরায়ত শিল্প ভাস্কর্যকে মুক্তি আখ্যা দিয়ে ধ্বংস করার হুমকি দেশের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এখন। এই সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করার দায় আমাদের ওপরও রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভবত ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৬৭ সালের বর্ষবরণ থেকে এ পর্যন্ত সে দায়িত্ব কি বহন করেননি সংস্কৃতি কর্মীরা? শত্রু প্রতিরোধ করে বাঙালি জাতিতাবাদের জাগরণ আর উপর্যুক্ত মানুষ গঠনের জন্য কাজ করিনি আমরা? গঠনমূলক সেসমস্ত কাজের দায় আজও পালন করে যেতে হবে আপনাকে, আমাকে এবং সম্ভাবনাময় সব মানুষকে। স্লোগান নয়, মিছিল নয় সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারের ভেতর দিয়ে আমাদের নিরব অগ্রযাত্রা বিশ্বায়নের জোরালো প্রচারে নতুন প্রজন্ম আজ আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। সে ক্ষেত্রটিতে আমরা আজও বাঙালি সংস্কৃতি তুলে ধরতে পারিনি। আসুন বিশ্বায়নকে স্বীকার করে বাঙালি সাংস্কৃতিক অর্জনের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলো আমরা ছড়িয়ে দেই ইন্টারনেটে। এভাবে সব সংস্কৃতি পাঠই পাক আমাদের সন্তানরা। ওই মাধ্যমকে তো আমরাও ব্যবহার করতে পারি দেশীয় সংস্কৃতির প্রচারের জন্য।’
ছায়ানট সভাপতি বলেন, ‘দেশে মানুষের চিন্তা চেতনাকে আলোকিত করার জন্য নিরলস চেষ্টা করে যেতে হবে। নগরকেন্দ্রীক ভাবনা ছেড়ে দেশবাসীর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে সবাইকে। সময় এসেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করার। সব সংস্কৃতি কর্মীর প্রতি আমাদের আহ্বান আসুন, সুস্থ ও যুক্তিবাদী চিন্তা ছড়িয়ে দেয় দেশের সর্বত্র। আবৃত্তি শিল্পী, নাট্য শিল্পী, সঙ্গীত শিল্পীদের যৌথ কার্যক্রম ক্ষুদ্র গন্ডি ভেঙে সব মানুষের কাছে যায়। এছাড়া দেশের সবৈর্ব জাগরণ ঘটবে না। কাজে এ ক্ষেত্রটিকে অবহেলা করে এতোদিন আমরা ধর্ম ব্যবসায়ীদের অবাধে প্রচারণা চালানোর সুযোগ দিয়েছি। ছোট ছোট দলে সব শিল্পের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালিত্ব. মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ধর্মের সত্য পরিচয় আর দেশ প্রেমের কথা দিয়ে ও অজ্ঞতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হই সকলে, মুক্ত করি দেশবাসীকে। শুধু আপনি আমি সংস্কৃতিমান হয়ে দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে দিলে বাঙালির সার্বিক মুক্তি আসবে না। বটমূলে নববর্ষ উদযাপনের ৫০ বছর পূর্তিতে সবার প্রতি আহ্বান আসুন একত্র হয়ে দেশের প্রকৃত স্বাধীনতা যুদ্ধে সামিল হই আমরা।’
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এছাড়া বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে শিল্পীরা নজরুল, রবীন্দ্র, লালন ও দেশাত্ববোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম
/জেএ/এসএনএইচ/
আরও পড়ুন:
স্বাগত ১৪২৪
বাধা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর এবারই প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা
সেতার-সরোদ-তবলার লহরীতে ছায়ানটের বর্ষবরণ
ধর্মের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের কোনও বিরোধ নেই: প্রধানমন্ত্রী








