সীতাকুণ্ডে শিশুমৃত্যু: দায় স্বীকার নয়, দুঃখ প্রকাশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৭ জুলাই ২০১৭, ১৯:২৯আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৭, ২০:২৪

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ সম্মেলন

দেশের হামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, তবে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের প্রান্তিক পরিকল্পনা বা মাইক্রো প্ল্যানে ত্রিপুরা পাড়ার উল্লেখ নেই। আর এ কারণেই ত্রিপুড়া পাড়ায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে বেশ কিছু শিশু। দেশের ভেতরে একটি এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম না থাকার কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদফতর দায় স্বীকার করছে কিনা জানতে চাইলে অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা দুঃখপ্রকাশ করছি’ ।

সোমবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকাদান কর্মসূচি পালিত হয়। কিন্তু সীতাকুণ্ড উপজেলায় সোনাইছড়ি ইউনিয়নের তালিকায় ত্রিপুরা পাড়ার নাম উল্লেখ নেই। ম্যালেরিয়াসহ অন্য কয়েকটি রোগ প্রতিরোধ প্রকল্পের আওতায় থাকলেও ত্রিপুরা পাহাড়ের ৯টি এলাকায় ৩শ’ ৮৮ জন মানুষ স্বাস্থ্য অধিদফতরের এ টিকাদান কর্মসূচির বাইরে ছিল। এ কারণে সেখানে কোনও টিকাদান কার্যক্রম ছিল না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আরও বলেন, ঐ এলাকার ৮৫টি বাড়ির ৩৮৮ জন মানুষ কখনোই টিকাদান কর্মসূচিতে আসেননি। স্বাধীনতার এতবছর পরেও কেন এবং কাদের অবহেলায় টিকাদান কর্মসূচিতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‘এজন্য আমরা একটি তদন্ত কমিটি করেছি, তারা প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে সেটি এখনও পড়ে দেখার সুযোগ হয়নি।’ তবে আগামী সাতদিনের মধ্যে সে প্রতিবেদনের বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, কয়েকটি গোষ্ঠীর মানুষ বিচ্ছিন্ন এলাকায় বসবাস করত বলে তারা আধুনিক শিক্ষা থেকে দূরে ছিল। বাচ্চাদের রোগবালাই ও চিকিৎসার বিষয়ে কোনও তথ্য জানতো না। এ কারণে ৮ জুলাই প্রথম একটি শিশু মৃত্যুবরণ করে। এ ঘটনার পরবর্তীতে ৯ জুলাই আরও দু’জন, ১১ জুলাই একজন ও ১২ জুলাই ৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়। কিন্তু গণমাধ্যমে ঘটনাগুলো প্রকাশের পর আইইডিসিআর এর ৫ সদস্যের টিম সেখানে গিয়ে আক্রান্ত শিশুদের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। পরে ল্যাব টেস্টে দেখা যায়, আক্রান্ত ও মৃত শিশুরা হাম রোগের জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়েছিল। তারা পুষ্টিহীনতায়ও ভুগছিল। এ কারণে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছিল। অপুষ্টির কারণে সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করেছিল । কিন্তু ঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকত না।
এ ঘটনার পরে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা বীরেন্দ্র ত্রিপুরার বাড়িতে অস্থায়ীভাবে টিকাদান কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান।

/জেএ/টিএন/

এ সংক্রান্ত আগের খবর: ‘হামে’ আক্রান্ত হয়েছিল সীতাকুণ্ডের শিশুরা

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম