জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহায় পাঁচ হাজার নারী জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা তল্লাশি অত্যন্ত ধীরগতির হওয়ায় নামাজ পড়তে আসা নারীদের অনেকেই যথাসময়ে ঢুকতে পারেননি ঈদগাহে। এতে করে জাতীয় ঈদগাহে নামাজও আদায় করতে পারেননি তারা। ক্ষুব্ধ নারীরা অভিযোগ করছেন, ধীরগতিতে তল্লাশি ও প্রশাসনের পক্ষ সঠিক নির্দেশনা না থাকার কারণেই তারা নামাজ পড়তে পারেননি।
জাতীয় ঈদগাহের নামাজের জামাত যখন শেষ, তখনও অনেক নারীকেই দেখা গেছে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে। তাদের কেউ কেউ বসে ছিলেন রাস্তায় আইল্যান্ডে। নামাজ শুরুর আগে ভেতরে ঢুকতে না পেরে তারা বাইরে দাঁড়িয়েই নামাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করেন। নামাজ শেষে সেখানে বসেই করেন মোনাজাত।
জাতীয় ঈদগাহে নামাজ পড়তে এসে নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রবেশ করতে পারেননি একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মোমেনা আমিন। এসময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্ষোভ জানান। বলেন, ‘রিপোর্ট করেন, কিছু হবে না। এ দেশে এখন ইসলামের নামে ভণ্ডামি চলছে। নামাজের সময় চলে যাচ্ছে, আর উনারা তল্লাশি করছেন। কয় জায়গায় তল্লাশি করতে হয়? এখানে যেটা হচ্ছে, সেটা বাড়াবাড়ি।’
রাজধানীর নাজিরা বাজার থেকে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ পড়েতে এসেছিলেন ইভা। কিন্তু তিন জায়গায় নিরাপত্তা তল্লাশি কারণে নামাজ পড়তে পারেননি বলে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে অভিযোগ করেন তিনি। ইভা বলেন, ‘দুই গেটে তল্লাশির পর গিয়ে দেখি আবার তল্লাশি হবে। সব মিলিয়ে এত ধীরে ধীরে তল্লাশি হচ্ছে যে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে হলো নামাজ শেষ। এখন নামাজ না পড়েই বাসায় চলে যেতে হচ্ছে।’
ধোলাইপাড় থেকে নামাজ পড়েতে আসা মিমির অভিযোগ, জাতীয় ঈদগাহে ব্যাগ নিয়ে আসা যাবে না— সেটা টেলিভিশনসহ গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানতে পারেননি। তার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তখন নামাজ শেষে চলছিল খুতবা। মিমি বলেন, ‘আমি ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে এসেছি। তাই আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নামাজও পড়তে পারিনি। এখনও ভেতরে যেতে দিলে অন্তত মোনাজাতটা করতে পারতাম। কিন্তু কোনোভাবেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।’
বংশাল থেকে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ পড়তে এসেছিলেন একই পরিবারের চার জন। তাদের একজন জাহানরা বলেন, ‘আমাদের আসতেই একটু দেরি হয়ে গেছে। তারপরও নামাজের আগেই এসে পৌঁছেছি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় আমাদের তল্লাশি করা হচ্ছে। হাইকোর্টের এদিক দিয়ে আসতে একবার আমাদের চেক করছে। এখন দেখছি আবার চেক চলতেছে। নিরাপত্তা তল্লাশি করতেই নামাজ শেষ।’
জাতীয় ঈদগাহে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন পুলিশের নারী সদস্য বীথি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তো কাউকে তল্লাশি না করে ভেতরে ঢুকতে দিতে পারি না। ঠিকভাবে তল্লাশি করতে গিয়ে সময় একটু বেশিই লাগে। যে কারণে যারা একটু পরে এসেছেন, তাদের কেউ কেউ নামাজ পড়তে পারেননি। এ জন্য আমরা দুঃখিত। কিন্তু ঠিকভাবে তল্লাশি করাটাই আমাদের দায়িত্ব।’
আরও পড়ুন-
গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়
ঈদ জামাতে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
রোহিঙ্গাদের হেফাজত কামনায় শোলাকিয়ায় বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত







