সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ঈদযাত্রা শুরুর দিকে আতঙ্কের বিষয় থাকলেও শেষটা ভালো হয়েছে। টানা বর্ষণ ও বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। উত্তরবঙ্গে গাইবান্ধা, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রামের অনেক জায়গায় রাস্তাঘাটের কোনও চিহ্ন ছিল না। কয়েকটি পয়েন্টে রাস্তাঘাট একেবারেই পানির নিচে ডুবে ছিল। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ছিল চ্যালেঞ্জিং। সবার সহযোগিতায় সেই চ্যালেঞ্জ আমরা ওভারকাম করেছি। যে কারণে ঈদযাত্রা সস্তিদায়ক হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে কাজের সমন্বয়ের কোনও অভাব ছিল না বলেই ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। এবার কর্মস্থলে ফেরার যাত্রাও স্বস্তিদায়ক হবে। রবিবার নাগাদ ঢাকা চিরচেনা রূপ ফিরে পাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গণভবনে থেকে ঈদযাত্রার সবকিছু মনিটরিং করেছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন। সেভাবেই আমরা কাজ করেছি, সমস্যার সমাধান করেছি।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এবার রেলপথে ১০ লাখ মানুষ বাড়ি গেছে, সড়কপথে গেছে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ। সবার সমন্বিত প্রয়াসে এবার সবার ঈদ ভালো হয়েছে। আগের তুলনায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলেছে কম। কোরবানির পশুবাহী গাড়িও চলেছে ভালো। অনেক পয়েন্টেই গাড়ি চলার গতি ছিল ধীর, তারপরও থেমে থাকেনি। ফেরিঘাটের চিত্র ছিল আলাদা। ফেরিঘাটের সমস্যায় কারও কিছু করার ছিল না। পদ্মার প্রবল স্রোতই ছিল এর মূল কারণ।’
সাংবাদিকদের তিনি জানান, এবারের ঈদে সারাদেশে মোট ৪৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো মানুষ মারা গেছেন, ১০০ জনের মতো আহত হয়েছেন। যা অতীতের যে কোনও বছরের তুলনায় খুবই কম।
মন্ত্রী বলেন, ‘মেঘনা-গোমতি সেতুতে সমস্যা ছিল। আমি ও সচিব সেখানে গিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করেছি ও দাঁড়িয়ে থেকে সমাধান দিয়েছি। আগে টোল আদায়ের বুথ ছিল ৬টি, আমরা দুটি বাড়িয়ে ৮টি করেছি। চারটি দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, পশুর ট্রাক গেছে। চারটি দিয়ে যাত্রীবাহী যান গেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে টোল আদায় হয়েছে, ফলে টোল প্লাজা পার হতে প্রতিটি গাড়ির লেগেছে মাত্র ১০ সেকেন্ড। টোল প্লাজা আধুনিক করেছি, যে কারণে কোনও সমস্যা হয়নি।’
এবার গরুর হাট নির্ধারিত জায়গায়ই ছিল, রাস্তার ওপর আসেনি বলেও জানান মন্ত্রী।
আরও পড়ুন- পাহাড়ে পাহাড়ে রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি








