বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিকালে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে শারদীয় দুর্গাপূজা পরিদর্শনে গেলে সেখানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি একথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীও রয়েছেন। তাই তাদের প্রতিও আমাদের সহমর্মিতা থাকতে হবে। তাদের দুঃখের দিনে পাশে দাঁড়াতে হবে। সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।’
বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বের সব দেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজ বিশ্বজুড়ে হিংসা, বিদ্বেষ আর ধ্বংস আমাদের সামনে এক ভয়াবহ অশনি সংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে। এ হত্যা আর ধ্বংস প্রতিরোধে আমাদেরকে ধর্মের অহিংস ও শান্তির অমিয় বাণী বিশ্ব জনতার কাছে তুলে ধরতে হবে। হিংসা নয়, মৈত্রী হোক আমাদের এগিয়ে চলার পাথেয়।’
এর আগে রাষ্ট্রপতি রামকৃষ্ণ মিশনে পৌঁছালে মঠের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ মহারাজ আবদুল হামিদকে অভ্যর্থনা জানান। পরে রাষ্ট্রপতি মিশনের পূজা পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরষিদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
রামকৃষ্ণ মিশনের আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দুর্গাপূজা পরিদর্শন করেন। মন্দিরে পৌঁছালে নারী ও শিশুরা রাষ্ট্রপতিকে ফুল ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
সেখানে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্গোৎসব হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব হলেও আবহমান কাল থেকে এদেশে সর্বজনীন উৎসব হিসেবেই পালিত হয়ে আসছে। এ দেশের মানুষ ধর্মপরায়ণ কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। তাই প্রতিটি ধর্মীয় উৎসব হয়ে ওঠে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মিলন মেলা।’
বিভিন্ন সময় দুর্বৃত্তদের হাতে ঢাকেশ্বরী মন্দির আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আক্রমণ হয়েছিল। আক্রান্ত হয়েছিল নব্বইয়ের সাম্প্রদায়িক হামলার সময়েও। আমি সেসময় এই মন্দিরে এসেছি। আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সেসময় বাংলাদেশের মানুষ আসুরিক শক্তিকে পরাজিত করতে এক হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।’
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই কালোত্তীর্ণ ভাবধারা বাস্তবে রূপ দিতে আপনাদের ভূমিকাকে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমি মনে করি, ধর্মান্ধতা ও জঙ্গিবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই আয়োজন জাতীয় ঐক্য ও সংহতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডিএন চ্যাটার্জি। অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি সেলিম, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
আশা করছি সব রোহিঙ্গা নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত যাবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী







