নেপালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ মার্চ) জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমেও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে ওই দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য।
জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মহিউদ্দিন খান কাশেম দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনা ও আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য মোনাজাত করেন। এ সময় মুসল্লিদের ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদ প্রাঙ্গণ। মোনজাতের আগে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করেন মাওলানা মাসুদুর রহমান।
একই চিত্র দেখা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদেও। সেখানেও নেপালের বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়েছে। রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মসজিদসহ সারাদেশেই জুমার নামাজের পর বিশেষ এই মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন মুসল্লিরা। এ ছাড়া, দেশের সব মন্দির ও গির্জাতেও অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রার্থনা।
বায়তুল মোকাররমে উপস্থিত মুসল্লিরা জানিয়েছেন, নামাজ শেষে তারা আল্লাহর কাছে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেছেন। এ সময় অনেকেই কান্নায় মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জোনায়েদ আহমদ নামে একজন মুসল্লি বলেন, ‘নামাজ শেষে দোয়া করেছি। নিহতরা নিষ্পাপ। আল্লাহ যেন তাদের জান্নাত নসিব করেন। তাছাড়া আহতদের দ্রুত শেফা দিয়ে যেন স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেন।’
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বিধ্বস্ত হয়ে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ বাংলাদেশি। এর মধ্যে একজনকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে, চার জনকে আনা হয়েছে বাংলাদেশে। বাকি পাঁচ জন নেপালেই চিকিৎসাধীন।
স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ এ বিমান দুর্ঘটনা স্মরণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়েছে।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
আরও পড়ুন-
নেপালে আহত ৬ বাংলাদেশি দুর্ঘটনা নিয়ে যা বললেন








