বাবার কাঁধে ছেলের লাশ

সাদ্দিফ অভি
২২ মার্চ ২০১৮, ১৯:৪৯আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৮, ১৯:৫৭

 



বুড়িমারী জিরো পয়েন্টে পিয়াস রায় (ফাইল ছবি) এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে নেপাল ঘুরতে গিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের শেখ সাহেরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াস রায়। গত ৫ মার্চ তার পরীক্ষা শেষ হয়। ভ্রমণ করতে খুব ভালোবাসতেন পিয়াস। এর আগেও তিনি দেশের বাইরে ঘুরতে গেছেন। নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ১২ মার্চ সকালে ও সবশেষ বিমানে ওঠার আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ফোনে পিয়াসের সঙ্গে তার মায়ের কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। পরে পিয়াসের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় জানতে পারেন, নেপালে দুর্ঘটনা পড়া ইউএস-বাংলার বিএস ২১১ প্লেনে পিয়াস ছিলেন।

দুই ভাই-বোনের মধ্যে পিয়াস রায় ছিলেন বড়। বোন শুভ্রা রায় রাজধানীর নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ছেলের খবর নিতে দুর্ঘটনার একদিন পর ১৪ মার্চ ঢাকায় ইউএস-বাংলার কর্পোরেট অফিসে আসেন সুখেন্দু বিকাশ রায়। সেখানে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে যাত্রীর স্বজনদের নিয়ে যাওয়া হলেও তার পাসপোর্ট না থাকায় তিনি যেতে পারেননি। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দুই দিন পর পাসপোর্ট পেয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করতে নেপাল যান তিনি। অবশেষে বুধবার (২১ মার্চ) পিয়াসের লাশ শনাক্ত হয় বলে জানান নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস।
এরপর বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) পিয়াস রায়সহ আলিফুজ্জামান ও নজরুল ইসলামের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় ছেলের লাশ নিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নং গেটে আসেন পিয়াস রায়ের বাবা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি গত পরশুদিন (মঙ্গলবার) নেপাল থেকে আসছি। গতকাল (বুধবার) লাশ শনাক্ত হয়েছে। আজ বিকাল ৪টায় এখানে থাকতে বলা হয়েছে ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে।’
তিনি বলেন, ‘এখান থেকে লাশ নিয়ে আগে যাবো গোপালগঞ্জ শেখ সাহেরা মেডিক্যাল কলেজে। পিয়াসের বন্ধুরা অনেক অনুরোধ করেছে সেখানে নিয়ে যেতে। সেখান থেকে বরিশাল নিয়ে যাবো। বরিশাল শহরের শ্মশানে তার শেষকৃত্য হবে।’ এ কথা বলার সময় তার চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল সুখেন্দু বিকাশ রায়ের।

বিকাল ৪টায় লাশ হস্তান্তর ফরমে সই করেন তিনি। তখনও তিনি ডুকরে কেঁদে ওঠেন। এরপর ৪টা ৩০ মিনিটে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিমানবন্দরের ভেতরে। ৪টা ৪৯ মিনিটে অবতরণ করে লাশবহনকারী বিমান বিজি-৭২। ৫টা ৩০ মিনিটে ছেলের মরদেহ নিয়ে বেরিয়ে আসেন সুখেন্দু বিকাশ রায়। তখন বুকের এক পাশে হাত দিয়ে চেপে ধরে ছিলেন। পাশে বসা লোকটি পানির বোতল এগিয়ে দিলেন। সামান্য পরিমাণ পানি মুখ দিলেন তিনি, কিন্তু চোখ দিয়ে ঝরছিল অবিরত পানি— অশ্রু।

পিয়াসের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় পিরোজপুরের নলছিটি উপজেলার চন্দ্রকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মা পূর্ণিমা রায় বরিশাল নগরীর আলেকান্দা এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

 

/এসও/এইচআই/
সম্পর্কিত
গতকাল থেকে আমরা লাশের হিসাব পাইনি: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী
ইউএস বাংলার সার্ভিসের মান মনিটরিং করতে বলেছে সংসদীয় কমিটি
‘তারা কীভাবে জানলো পাইলট ধূমপান করছিলেন’
সর্বশেষ খবর
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের