কেউ চায় না, যুদ্ধাপরাধীরা আবার ক্ষমতায় আসুক: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ নভেম্বর ২০১৮, ২১:২৫আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:২১

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি– ফোকাস বাংলা)

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ চায় না, স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীরা আবার ক্ষমতায় আসুক। সেটা আমরাও চাই না এবং আমি বিশ্বাস করি, যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করে, তারাও সেটা চাইবে না।’

তিনি বলেন, ‘এখন সামনে নির্বাচন। দেশের যে উন্নয়নটা করতে পেরেছি, যদি গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে এই উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। তাই আমি জনগণের কাছে ভোট চাই, যাতে নির্বাচিত হয়ে এসে এসব ধরে রাখতে পারি।’

মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংলাপের শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তী অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনাটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি করা; সেটা আমরা করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেই এদেশে ক্ষমতায় আসে, সেই বসে যেতে চায়, থেকে যেতে চায়। কিন্তু আমি চাই, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবে, তারাই সরকারে আসবে। আর সেজন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া সরকারে এসে আমার বিরুদ্ধে ১২টা মামলা দিয়েছিল। এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে আরও ৫-৬টি মামলা দেয়। ওই সরকার আমাকে নির্বাচন না করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আমি একটি কথা জোর দিয়ে বলেছি, নির্বাচন হবে; জনগণ যাকে চাইবে সেই ক্ষমতায় আসবে। আমি এখনও সেই অবস্থানেই আছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০০১ সালে আমরা যেখানে বাংলাদেশ রেখে এসেছিলাম, সেখান থেকে বাংলাদেশ আবার পিছিয়ে যায়। ২০০৮ সালে যখন সরকার গঠন করি, তখন বিশ্বমন্দা ছিল। এর মধ্যদিয়ে আমরা এগিয়ে যাই। ২০১৩ সাল থেকেই নির্বাচন ঠেকানোর নামে অগ্নিসংযোগসহ নানা নাশকতা করা শুরু করে। সেটাও সামলে নিয়েছি।’

উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আপনারা যদি বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্রটা দেখেন, তাহলে নিশ্চয়ই এটা স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে, আমরা উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মতো কঠিন কাজ এই সময়ের মধ্যে আমরা করতে পেরেছি। কারণ জনগণের সমর্থন ছিল বলেই যুদ্ধাপরাধের বিচার করার পাশাপাশি রায়ও কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। এ কারণে বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে, এ কারণে আমাদের বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হার ৭ দশমিক ৮। আমরা আজ বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আমাদের প্রবৃদ্ধির হার অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছি।’

উপস্থিত বাম নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১০ বছরে কোনোদিন দেখা হয়নি। তাই সে দেখাটা হোক, এটা আমি চাই।’

বাম গণতান্ত্রিক জোটের ৮ দলের ১৬ প্রতিনিধি সংলাপে অংশ নেয়। সংলাপে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতারা উপস্থিত আছেন।

 

/এমএইচবি/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম