দুই বছর আগে নবম শ্রেণিতে ওঠার পর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছিল ২২ লাখ ৮৭ হাজার ৩২৩ জন শিক্ষার্থী। তবে নবম ও দশম শ্রেণি পার হয়ে এখন পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে তাদের মধ্যে ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৭ জন। নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৮৬ জন ঝরে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘কয়েক বছর আগে যেসব শিক্ষার্থীরা নিবন্ধন করতো, টেস্ট পরীক্ষায় দুই বা তিন বিষয়ে ফেল করলেও তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে টেস্ট পরীক্ষায় কোনও বিষয়ে ফেল করলে তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয় না। সে কারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিবন্ধনের চেয়ে পরীক্ষায় কম অংশ নিচ্ছে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে টেস্ট পরীক্ষায় আরও মনোযোগী হয় এবং ভালোভাবে পড়ালেখা করেন, এ কারণে টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করলে পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয় না।’
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘এবার সারাদেশে ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের ৮৫টি কেন্দ্রে মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৭ লাখ ১০২ জন, দাখিল পরীক্ষায় তিন লাখ ১০ হাজার ১৭২ জন এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এক লাখ ২৫ হাজার ৫৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে মোট পরীক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে এক লাখ তিন ৪৩৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৭ হাজার ২২৯ জন এবং ছাত্রী বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৬ হাজার ২০৫ জন।
এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৭ জন। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ৫৪ জন। আর বিশেষ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা (১, ২, ৩ ও ৪ বিষয়ে) ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৩৯ জন।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পদক্ষেপ
শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনি বলেন, ‘গতবার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে প্রশ্নফাঁসের কোনও ঘটনা ঘটেনি। এবার আগের পদক্ষেপসহ আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাই আশা করছি প্রশ্নফাঁসের কোনও আশঙ্কা নেই। বিগত সময়ে ৮০ শতাংশ প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। কিন্তু গুজব রটানো হয়েছে বেশি। আর যে ২০ শতাংশ হয়েছে আমরা সেটাও হতে দিতে চাই না।’
অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস হবে না কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের গুজব রটানো হবে, গুজবে যেন কান না দেন।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।








