আমন সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ হবে কি?

এস এম আববাস
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৭:৫২আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:২৭
image

দেরিতে কৃষক তালিকা প্রকাশ, কৃষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা কারণে আমন ধান সংগ্রহ অভিযান পিছিয়ে পড়েছে। তিন মাসের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও লক্ষ্যমাত্রার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধান সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। এখন কৃষকের ঘরেও তেমন একটা ধান নেই। এ অবস্থায় এক মাসেরও কম সময়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে অর্জিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আমন সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ হবে কি?

বিষয়টিকে খাদ্য অধিদফতরের নথিতে ‘উৎকণ্ঠা’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও অধিদফতরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ বলছেন ভিন্ন কথা। তার দাবি, নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। কৃষকের ঘরে এখন ধান রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৯১ মেট্রিন টন। গত ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ধান সংগ্রহ হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬৪৭ মেট্রিক টন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষক তালিকা প্রকাশ করা হয় জানুয়ারির শুরুর দিকে। অথচ ধান কাটা শুরু হয় ডিসেম্বরের গোড়ায়। এই সময়ের মধ্যে অভাবী কৃষক এবং যাদের ধান রাখার জায়গা নেই তারা মিলমালিক, ফড়িয়া ও ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। ফলে তালিকা প্রকাশের পর ধান সংগ্রহ অভিযান খুব বেশি কাজে আসেনি। শতভাগ কৃষক নির্বাচিত না হওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অধিদফতরের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া, দেশের ১৬ জেলায় কৃষক অ্যাপ চালু করা হয় দেরিতে। গত ২৭ ডিসেম্বর এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বাধন করা হয়, যখন অনেক কৃষকের ঘরে ধান নেই।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আ্যপের মাধ্যমে ধান বিক্রির আবেদন করেন ৭৬ হাজার ৫৮৩ জন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিদফতরের অব্যবস্থাপনার কারণে সংগ্রহের এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। আমন ধান সংগ্রহের পরিমাণ ও আর্দ্রতা পরীক্ষার নামে কৃষকদের কাছ থেকে বস্তাপ্রতি নির্ধারিত টাকা আদায়ের অভিযোগ আছে খাদ্যগুদামের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। অধিদফতর গুদামের কর্মচারীদের চাঁদা আদায়ের বিরুদ্ধে নির্দেশনা জারি করলেও মহাপরিচালক অবশ্য বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর এলাকার কৃষক মামুন হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকরা টাকা না পেলে কৃষকদের বস্তা রিজেক্ট করে দেয়। তাহলে চাঁদা বন্ধ হবে কীভাবে। কৃষকসহ মিলাররাও বাধ্য হয়ে চাঁদা দেন গুদামের শ্রমিকদের।’ টাকা না দিলে আর্দ্রতা পরীক্ষার নামে কৃষকদের গুদাম কর্মচারীরা হয়রানি করেন বলে জানান তিনি।

গত ৮ জানুয়ারি থেকে দফায় দফায় নির্দেশনা জারি করে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান জোরদার করতে বলা হয় অধিদফতর থেকে। এর অংশ হিসেবে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। তবে অভিযান জোরদারের পরও গত ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ধান সংগ্রহ হয় ২ লাখ ৪০ হাজার ৬৪৭ মেট্রিক টন। কোনও কোনও জেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা সম্ভব হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে গত ২৭ জানুয়ারি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে আবারও জোরদার অভিযান চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার পরিমাণ নির্ধারণ করতে উপজেলা সংগ্রহ কমিটি ও মনিটিরিং কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে একজন কৃষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ এক টন ধান কেনার নির্দেশনা ছিল। তবে পরে তা শিথিল করা হয়। তবে ততদিনে কৃষকের ঘরে বিক্রি করার মতো ধান ফুরিয়ে যায়। ধান কিনে নেন মিল মালিক, ফড়িয়া ও ছোট ব্যবসায়ীরা।

তবে গোটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ বলেন, সর্বশেষ ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ২ লাখ ৬০ থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন। সময়ের মধ্যে বাকি ধানও সংগ্রহ করা যাবে।

মহাপরিচালক হিসেবে তার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস হয়েছে উল্লেখ করে গত শুক্রবার তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখনও সময় আছে। আমি নিজে মাঠপর্যায়ে তদারকি করছি। গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে ছিলাম। আজ শুক্রবার উত্তরাঞ্চলে রয়েছি।’

গত ২০ নভেম্বর থেকে এ সংগ্রহ শুরু হয়েছে, চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আমন ধান ছাড়াও সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন এবং ৫০ মেট্রিক টন। কেজিপ্রতি ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা, আর সিদ্ধ ও আতপ চালের দাম ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৩৬ ও ৩৫ টাকা।

/এইচআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
চীন-আসিয়ান সম্পর্ক নিয়ে যা বললো বেইজিং
চীন-আসিয়ান সম্পর্ক নিয়ে যা বললো বেইজিং
আবারও ‘গুজবে’ তেলের পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল, প্রশাসনের মাইকিং
আবারও ‘গুজবে’ তেলের পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল, প্রশাসনের মাইকিং
শাহজালালে ৬১ ভরি স্বর্ণসহ যাত্রী আটক
শাহজালালে ৬১ ভরি স্বর্ণসহ যাত্রী আটক
সর্বাধিক পঠিত
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বললেন ‘এটি কল্পনার বাইরে’
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বললেন ‘এটি কল্পনার বাইরে’
ভুলে চার মাস কারাভোগ, ৩০ লাখ টাকা পেলেন ভুক্তভোগী
ভুলে চার মাস কারাভোগ, ৩০ লাখ টাকা পেলেন ভুক্তভোগী
দিল্লিতে আন্দোলন চলা যন্তর মন্তর আসলে কী
দিল্লিতে আন্দোলন চলা যন্তর মন্তর আসলে কী
জামায়াতের আরেক নেতার পদ স্থগিত
জামায়াতের আরেক নেতার পদ স্থগিত
মানবিক হিসেবে আলোচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মারা গেছেন
মানবিক হিসেবে আলোচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মারা গেছেন