নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর তোলা ২০ দফা দাবির সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। তিনি বলেন, ‘সুজনের প্রস্তাবিত ২০ দফার পরিবর্তে এখন একদফা দাবি তোলা দরকার, সেটা হলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।’ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কাকরাইলে অনুষ্ঠিত সুজনের জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আসা ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রায় এক হাজার সুজন নেতা অংশ নেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যা রাতারাতি দূর হতে হবে না। কারণ রাজনৈতিকরা এই সমস্যা সৃষ্টি করেছেন, তারা এটি সহজে দূর করবেন বলে মনে হয় না।’
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ভবিষ্যতেও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনও সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না। তাই দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণকে সোচ্চার করে তুলতে হবে।’
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু হেনা বলেন, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত হলে গণতন্ত্র তার পথে চলতে পারে। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হলে গণতন্ত্র কাজ করতে পারে। সুশাসন বিরাজ করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘অতীতের তুলনায় দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্কার করা হয়েছে। এরপরও আজ আমরা কেন গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে চিন্তিত? যতই আইন করা হোক না কেন, কার্যকর করা না গেলে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।’
সম্মেলনে অংশ নেন নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কারসহ ২০ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হলে শুধু অভিযান চালালে হবে না, ব্যবস্থা বদলাতে হবে। সরকারের সব কার্যক্রম উন্মুক্ত করতে জনগণকেও সক্রিয় হতে হবে। প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে আছে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, নির্বাচন সংস্কার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।’
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের হাতিয়ার হলো নির্বাচন। কিন্তু আজকে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।’
গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘একটি মর্যাদাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকদের সক্রিয় থাকতে হয়। দেশ আজ শুধু গণতন্ত্রহীনই নয়, বরং দেশে আজ এক নতুন রাষ্ট্র কাঠামো দাঁড় হয়েছে, যার কোনও তুলনা হয় না।’
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘আজকে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ও মানুষের অধিকার প্রতিনিয়ত ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। তাই আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বস্তরে একটা আমুল সংস্কার দরকার।’
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘তিন জোটের রূপরেখার মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়। তখন রাজনৈতিক দলগুলো থেকে স্লোগান তুলেছিল ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেবো।’ আজও আমাদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন পরিচালনা করতে হচ্ছে।’’ বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখের বলেও তিনি মন্তব্য করেন।








