(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ২০ আগস্টের ঘটনা।)
তখনও পর্দার অন্তরালে তৎপরতা চলছে বলে শঙ্কা করা হয়। এর আগে ধারণা দেওয়ার প্রচেষ্টা ছিল যে বঙ্গবন্ধুর জেনেভা যাত্রা বিলম্বিত হবে কিন্তু তা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভুট্টোর বৈঠকের ব্যবস্থা করার জন্য পর্দার অন্তরালে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও বাংলাদেশ সূত্রে এটাও নিশ্চিত করা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেনেভায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি বিবৃতি দিতে পারেন।
জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশের ব্যাপারে কমিটি পর্যায়ে বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে তার উক্তির অপেক্ষা করছে সকলে। বাংলাদেশের সরকারি মহল মনে করছে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পূর্বে বঙ্গবন্ধু ভুট্টোর সঙ্গে কোনও বৈঠকে মিলিত হবেন না।
লন্ডন থেকে জেনেভা যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরের আওয়ামী লীগ নেতাদের সাক্ষাৎ দেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল সমিতির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ মহিলা সমিতি ও ছাত্র সমিতির প্রতিনিধিরাও তার সঙ্গে দেখা করেন। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি ও ছাত্র সমিতির প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন বঙ্গবন্ধু। খবরে বলা হয়, একটি চার্টার্ড বিমানযোগে জেনেভা যাবেন তিনি। বেগম মুজিব, বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত চিকিৎসক নুরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা তার সঙ্গে একই বিমানে জেনেভা যাবেন।
লন্ডনে বাংলাদেশ ভবন
লন্ডন প্রবাসী বাঙালি ছাত্রদের হোস্টেল হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ ভবন নামে একটি চারতলা দালান আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। লন্ডনের প্রবাসী বাঙালিরা এই ভবনটি দান করেন। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনার সৈয়দ আবদুস সুলতান অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে এই ভবনটি গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর চলাচল সীমিত থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। বাংলাদেশ হাইকমিশনার প্রবাসী বাঙালিদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এই উদ্যোগে এখানকার ছাত্ররা সীমাহীন সুযোগ উপভোগ করবে। তথ্য ও বেতারমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী ঘোষণা করেন, সবকিছু ঠিকমতো চললে ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ধানমন্ডিতে ছাত্রলীগ অফিস উদ্বোধনকালে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, জনগণের চাওয়ার অতিরিক্ত একটি দিনও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে চায় না। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের শিকার। শত্রুরা এখনও আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তিমূলে আঘাত হানার জন্য সমবেত হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের স্বাধীনতাবিরোধী যে শক্তিগুলো দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে, তাদের সকল ষড়যন্ত্র ও তৎপরতা সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে।
বিশ্ব সংস্থার রঙ্গমঞ্চে
জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মতভেদ অব্যাহত ছিল এদিন পর্যন্ত। নিরাপত্তা পরিষদের এই প্রশ্নে এখনই ভোটাভুটি গ্রহণ করা হবে নাকি চীনের ভেটো পরিহারের জন্য ভোটগ্রহণ মুলতবি করা হবে এই প্রশ্নেও তীব্র মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট অন্তর্ভুক্তি কমিটি এই প্রশ্ন নিয়ে পরের দিন বৈঠকে মিলিত হবার কথা। বাংলাদেশের আবেদন সম্পর্কে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কমিটি সে বিষয়ে সুপারিশ পেশ করবে। কূটনৈতিক মহল জানায় যে, অন্তত চারটি দেশ নিরাপত্তা পরিষদের অবিলম্বে বাংলাদেশ প্রশ্নে ভোটগ্রহণের পক্ষপাতী, অপর চারটি দেশ মুলতবি রাখার পক্ষপাতী। আবার অপর কয়েকটি দেশ সাময়িকভাবে মুলতবি রাখার জন্য এটি প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত করে। নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস করানোর জন্য নয়টি ভোট দরকার হতো।








