ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের কলঙ্ক ‘সীমান্ত হত্যাকাণ্ড’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭:৪৩আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭:৫৮

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনবাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ, কিন্তু সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের মতো নেতিবাচক কিছু উপাদানের জন্য এটি কলঙ্কিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাঝে ভার্চুয়াল আলোচনার পর সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সীমান্ত হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান না হওয়া প্রসঙ্গে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘‘আমরা বাংলাদেশি লোক, আমাদেরও হতাশ করে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে এটির সমাধান করা সম্ভব। আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি। আজকেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছেন—‘কোনও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না।’ আমরা তাদের বিশ্বাস করতে চাই। আমরা চাই না একজন লোকও সীমান্তে মারা যাক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের ঘটনা সময়ে সময়ে হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে এত সুন্দর সম্পর্ক। কিন্তু এগুলো সম্পর্কে কলঙ্ক তৈরি করে।’’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন—প্রাণঘাতী নয় (নন-লিথেল) এমন অস্ত্র ব্যবহার হবে।’

বিএসএফ ঘুষ খায় এ সম্পর্কিত অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি সাংবাদিকদের ইস্যু। আমরা শুনেছি পত্রপত্রিকার মাধ্যমে বিএসএফ ঘুষ খায় এবং এই ব্যবসায় প্ররোচিত করে। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের আরও লেখা উচিত।’

তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তুলেছি।’

তিনি বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে আগেই ভারতের সরকার রাজি হয়ে আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা বলেছি, তিস্তা ইস্যু তুলে আপনাদের লজ্জিত করতে চাই না। তবে এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে আমরা বাকি ছয়টি নদীর কথা জিজ্ঞাসা করেছি। তারা একলাইনে উত্তর দিয়েছেন।’

কী বলেছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে তারা বলেছেন, তারা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আলোচনা করছেন।’

রোহিঙ্গা নিয়ে ভারতের চিন্তা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা বলেছেন, এর দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার। কারণ, না হলে এই এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখা দিতে পারে। সেজন্য এ বিষয়ে যা যা করা দরকার, তারা আমাদের সঙ্গে মিলে করবে। এটাও বলেছে যে একমাত্র সমাধান হচ্ছে তাদের ফেরত যাওয়া।’

ট্রানজিট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নেপাল ও ভুটান পর্যন্ত কানেক্টিভিটি চাই এবং আজকে এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতীয়রা আজকে বলেছেন, তারা বাড়তি ফ্লাইট দেবে। কিন্তু আমরা বলেছি, আমাদের লোক যায় সড়ক এবং রেল দিয়ে। এগুলো আগে চলাচল শুরু করেন। তারা বলেছেন, কোভিডের জন্য এটি আটকে রেখেছি।’

ভারত কী চেয়েছে জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ভালো সম্পর্ক বলে তারাও অনেক কিছু পেয়েছে। তাদের পূর্ব সীমান্তে কোনও ঝামেলা নেই এবং এর থেকে বড় কিছু পাওয়ার আছে? কানেক্টিভিটির কারণে তাদের ও আমাদের জিনিস বিক্রি হয় এবং এটি খুব ভালো। কানাডা ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক ভালো হওয়ার কারণে ব্যবসা তুঙ্গে এবং আমরাও চেষ্টা করছি। আমাদের লোকজন সেখানে (ভারতে) স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার জন্য যায়। আবার তাদের অনেক লোক এখানে চাকরির জন্য আসে। এটি আমরা বলেছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন চাই। স্থিতিশীলতা না থাকলে সেটি অর্জন করা যাবে না। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হওয়ায় এই স্থিতিশীলতা আছে। এর ফলে আমাদের লক্ষ্যগুলো আমরা সহজে অর্জন করতে পারি। বিদেশিরা তখনই বিনিয়োগ করবে, যখন তারা দেখবেন এখানে স্থিতিশীলতা আছে।’

মন্ত্রী জানান, আজকের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড রোড নেটওয়ার্কে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কারণ, এই রোড নেটওয়ার্কটি কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে ভারতের পক্ষে ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) নতুন যে ব্যাংকটি করেছে, সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে।

/এসএসজেড/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম