‘বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে’

উদিসা ইসলাম
০৩ মার্চ ২০২১, ০৮:০০আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ৩ মার্চের ঘটনা।)

‘পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশের মাটিতে বিচার করা হবে। এখন এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর ভারত থেকে তাদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে। আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী প্রখ্যাত আইনজ্ঞদের দ্বারা এই বিচার অনুষ্ঠিত হবে’—১৯৭৩ সালের এই দিনে একদল সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমে জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তার হেলিকপ্টারে আরোহণ করার পর এবং পরে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের পর ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন।

বাসস ও এনা পরিবেশিত এই খবরে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু বলেন, ইতিহাসের জঘন্যতম যুদ্ধাপরাধের এই বিচার অত্যাবশ্যক, কেননা, এতে শুধু ন্যায়বিচারের প্রশ্নই নয় মানব জাতির প্রতি পবিত্র দায়িত্বের প্রশ্ন জড়িত। মানবতার খাতিরে এই বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা যেসব অপরাধ করেছে, ট্রাইব্যুনালে যখন তার বিবরণ পেশ করা হবে বিশ্ববাসী শুনে স্তম্ভিত হয়ে যাবে। দখলদার পাকবাহিনী শুধু ৩০ লাখ লোককে হত্যা করেনি, বহু অক্ষম বৃদ্ধ ও শিশু দেশ ছেড়ে পালানোর সময় অসহনীয় কষ্টে মারা গেছে। দখলদার বাহিনী তাদের মৃত্যুর জন্যও দায়ী।

‘বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে’

বাংলাদেশে কোনও বিহারি নেই

এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, বাংলাদেশে কোনও বিহারি নেই। বাংলাদেশে শুধু বাঙালি আর পাকিস্তানি রয়েছে। যারা পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য অপশন দিয়েছে তারা পাকিস্তানি আর যারা দেড় লাখ লোক বাংলাদেশে থাকার জন্য অপশন দিয়েছে তারা বাংলাদেশের নাগরিক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব অস্থানীয় বাংলাদেশে থাকার জন্য অপশন দিয়েছে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তারা চাকরির সুযোগ সুবিধাসহ সব রকম অধিকার ও সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। অপর এক প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, তৎকালীন পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলাম, এখন আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি। কোনও আন্তর্জাতিক এজেন্সি দ্বারা পাকিস্তানের যদি গণভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে পাঠান, বেলুচ ও সিন্ধিরা পাকিস্তানে না থাকার পক্ষে রায় দেবে। জাতীয় সমস্যাগুলোর মধ্যে কোনটি অগ্রগণ্য একজন প্রশ্নকর্তা যা তা জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু বলেন, সমস্ত সমস্যা পরস্পর যুক্ত। সমস্যাগুলো খাদ্য, যোগাযোগ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বাসন, শিক্ষা প্রভৃতি সংক্রান্ত।

বাঙালিদের আটকে রাখার অধিকার পাকিস্তানের নেই

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানে আটকে পড়া যে ৪ লাখ বাঙালি বাংলাদেশে ফিরে আসার জন্য অপশন দিয়েছে তারা এ দেশের নাগরিক। এসব নিরীহ লোককে আটকে রাখার কোনও অধিকারই পাকিস্তানের নেই। বাংলাদেশে যারা গণহত্যা চালিয়েছে সেই পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিদের পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রেডক্রস দেখাশোনা করছে। তারা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। অথচ পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের কোনও এজেন্সি দেখাশোনা করছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এজেন্সিগুলোকে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য অপশন দেওয়া ২ লাখ ৬০ হাজার অস্থানীয়কে দেখাশোনা করার অনুমতি দিয়েছে। এসব পাকিস্তানিকে ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পাকিস্তানের। পাকিস্তানকে অবশ্যই তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের কথাবার্তা তিনি শুনে আসছেন। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে তিনি পাকিস্তানকে স্বীকার করে কিনা।

‘বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে’

বিশ্ববিবেক নীরব কেন

একজন বিদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, বাংলাদেশে যারা গণহত্যা চালালো সেসব পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিদের জন্য যেখানে এতদূর আগ্রহ দেখানো হচ্ছে সেখানে পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে বিশ্ববিবেক চুপচাপ কেন?

খাদ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা আমাদের জন্য বহু সমস্যা সৃষ্টি করে গেছে। একটি জাতিসংঘ এজেন্সির হিসাব অনুযায়ী এ বছর আমাদের খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২৫ লাখ টনের মতো। এই খাদ্য ঘাটতির ব্যাপারে তিনি উদ্বিগ্ন কিনা জিজ্ঞেস করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ এবং বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতায় আমরা সমস্ত সমস্যার বিরুদ্ধে দক্ষতার সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছি। জাতীয় সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সরকারিভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে।

 

/এমআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
মুজিব বর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগের খরচ ১২৬১ কোটি
ভূমিহীনমুক্ত হচ্ছে সাতক্ষীরার ৬ উপজেলা, প্রস্তুত ৩৬৪টি ঘর
‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে’
সর্বশেষ খবর
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী