বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী

প্রস্তুতি শেষ, উদযাপনের অপেক্ষায় প্যারেড গ্রাউন্ড

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৬ মার্চ ২০২১, ১৬:৪২আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২১, ১৮:০৪

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সব কার্যক্রম এরইমধ্যে সম্পন্ন করেছে উদযাপন কমিটি। ১৭ মার্চ বিকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আলোচনা ছাড়াও থাকছে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এজন্যই নিজেদের ঝালাই করে নিতে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দিনব্যাপী মঞ্চে চলে শেষ মুহূর্তের রিহার্সেল।

বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হবে প্রতিটি পরিবেশনায়। গান নাচ অভিনয়সহ নানাভাবে তুলে ধরা হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় জীবন। বঙ্গবন্ধু একজন ত্যাগী ও সাহসী নেতা ছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতে জন্মশতবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান পালন করবে সরকার। ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিরা ভার্চুয়ালি ও সশরীরে উপস্থিত থাকবেন।

চলমান করোনা মহামারি বিবেচনায় অতিথি আমন্ত্রণ সীমিত করা হয়েছে। প্রতিদিনের জন্য  ৫০০ করে অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সবাইকে করোনা পরীক্ষা করে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতে হবে।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিতে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে নানান শৈল্পিকতায়। অনুষ্ঠানস্থলে নির্মাণ করা হয়েছে—শহীদ মিনার, পদ্মা সেতু, গ্রামীণ জীবনযাপনের আবহ, জাতীয় মাছ ইলিশসহ নানা দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর বুধবার (১৬ মার্চ) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। বঙ্গবন্ধু আবেগের একটি স্থল, সেই আবেগকে ধারণ করেই এসব ধরনের কাজকর্ম পরিচালনা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানগুলোর শুরুতে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরবর্তীতে সশরীরে উপস্থিতি রেখে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাচ্ছেন আসাদুজ্জামান নূর এ অনুষ্ঠানে কী বার্তা পাবে বাংলাদেশ—এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘দীর্ঘ জীবন সংগ্রাম পার করে ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সাহসিকতায় আপসহীন নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেসব খুঁটিনাটি তথ্য তুলে ধরা হবে এসব অনুষ্ঠানে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে গণমানুষের আত্মত্যাগের বিষয়টিও দেশবাসীর কাছে তুলে ধরা হবে। দেশ স্বাধীন হয়েছে, উন্নয়নের দিকে গিয়েছে, দেশ এখন তলাবিহীন ঝুড়ি অবস্থায় নেই।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক কামাল আবু নাসের চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সময় বাড়ানো হয়েছে।’ এই সময় বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে অনেক কাজ ব্যাহত হয়েছে। বাড়তি সময় পাওয়ায় অনেক কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। চিরন্তন আলোকশিখা প্রতিপাদ্য নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর নানা আয়োজন। বাংলাদেশ স্বাধীন করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর তর্জনী দিয়ে যে বজ্রধ্বনি করেছিলেন, তাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি আপামর জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।’ নতুন প্রজন্মও তার তর্জনীর অনুপ্রেরণা পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন ভিন্নমাত্রায় অনুষ্ঠিত হবে। এ ধরনের এমন আয়োজন আগে কখনও হয়নি। বঙ্গবন্ধু স্বপ্নযাত্রার ভালোবাসার অগ্রগতির মেলবন্ধন। ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পিতা দিয়েছেন দেশ, কন্যা দিয়েছেন আবাসস্থল। বছরব্যাপী ২৯৮টি অনুষ্ঠানের মধ্যে অনেক অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি করোনার কারণে।’

চলছে শেষ মুহূর্তের মহড়া ১৭ মার্চের অনুষ্ঠানে যা থাকছে

১৭ মার্চ বিকাল সাড়ে চারটায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। শিশুশিল্পীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হবে অনুষ্ঠান। পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হবে। মুজিব চিরন্তন থিমের ওপর একটি এনিমেশন চিত্র প্রদর্শিত হবে। থিম সংয়ের মিউজিক ভিডিও প্রদর্শিত হবে। স্বাগত ভাষণ রাখবেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ভিডিওবার্তা প্রদর্শিত হবে। উপস্থিত থেকে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। অতিথিদের কাছে স্মারক হস্তান্তর করা হবে মুজিব চিরন্তনের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যা ছয়টার পর বাংলাদেশ এবং ভারতীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা ভারতীয় শিল্পী মমতা শংকর ও তার স্বামী চন্দ্রোদয় ঘোষ নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমরা গর্বিত।’ আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তারা। বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তাদের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে, বন্ধন সুদৃঢ় রয়েছে। দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সহায়ক ভূমিকা পালন করবে জানান এই শিল্পী দম্পতি।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

/আরটি/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
মুজিব বর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগের খরচ ১২৬১ কোটি
ভূমিহীনমুক্ত হচ্ছে সাতক্ষীরার ৬ উপজেলা, প্রস্তুত ৩৬৪টি ঘর
‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে’
সর্বশেষ খবর
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি