X
রবিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১, ২৩:২৯

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর তীব্র মতভেদের মধ্যে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে সোমবার (১২ জুলাই) জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলে গৃহীত হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ ফোরামে রোহিঙ্গাবিষয়ক কোনও রেজুলেশন সবার সম্মতিতে গৃহীত হলো। এমনকি ২০১৭ সালে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নির্যাতন চলছিল তখনও রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোনও রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়নি।

গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে নিবিড় ও সুদীর্ঘ আপস-আলোচনা পর এটি সম্ভব হয়। কূটনীতির বিচারে এটি একটি বড় অর্জন। কারণ, মিয়ানমারের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে প্রথম থেকেই প্রস্তাবের বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রবল মতভেদ ছিল।

একদিকে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্র ইরান, মিশর ও অন্যান্যরা মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রেজুলেশনে কোনও কিছু অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধী ছিল। অন্যদিকে ইউরোপিয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো রাজনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ না থাকলে অ্যাবস্টেইন (ভোটদানে বিরত থাকা) করার হুমকি দেয়। এখানেই শেষ নয়; তৃতীয় পক্ষ চীন ও রাশিয়ার মতো বড় শক্তি যেকোনও ধরনের রোহিঙ্গা রেজুলেশন সবসময় বিরোধিতা করে আসছে।

জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের ৪৭তম অধিবেশনে বাংলাদেশের উদ্যোগে ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) এর সব সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক রেজুলেশনটি পেশ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সব পক্ষকে একমত করানোর জন্য প্রথম থেকেই সব স্তরে সব ধরনের চেষ্টা করেছি। অবশেষে কোনও রাষ্ট্রই এই রেজুলেশনের বিরোধিতা করেনি, যেটি বাংলাদেশের কূটনীতির একটি বড় অর্জন।’

তিনি বলেন, ‘একদিকে আমরা ওআইসি রাষ্ট্রগুলোকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, এই রেজুলেশনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাস্তবতা থাকতে হবে। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোকে মানবাধিকারের বিষয়গুলোর সঙ্গে একমত হওয়ার অনুরোধ করেছি।’

চীন ও রাশিয়া কেন রেজুলেশন মেনে নিলো জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি একাধিকবার তাদের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে দেখা করেছি। আমার অন্য সহকর্মীরা তাদের স্তরে যোগাযোগ রেখেছে। শেষ পর্যন্ত তারা কোনও বিরোধিতা করেনি।’

প্রস্তাবটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জাতিসংঘের আলোচ্য সূচিতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সক্রিয় আলোচনায় রাখা প্রয়োজন।’ কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব সম্প্রদায়ের রোহিঙ্গাদের প্রতি মনোযোগ হারানো উচিত হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে নিজেদের আবাসস্থলে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। 

কী আছে রেজুলেশনে

জেনেভা দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রস্তাবটিতে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদান করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এছাড়া, তাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া পর্যন্ত এ গুরুভার বহনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

গৃহীত এ প্রস্তাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যৌন অপরাধসহ সব প্রকার নির্যাতন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। এ প্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান বিচার প্রক্রিয়াকেও সমর্থন জানানো হয়। এছাড়া, প্রস্তাবটিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান সব প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে এ রূপ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এখতিয়ারের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

প্রস্তাবে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারকে মিয়ানমার বিষয়ক ‘নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধানী মিশন’ এর সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর মানবাধিকার পরিষদ এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া, এ প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল কারণ’ বিষয়ে মানবাধিকার পরিষদে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়। 

 

/আইএ/
সম্পর্কিত
‘পদ্মা সেতু মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছে’
‘পদ্মা সেতু মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছে’
শিল্প-সাহিত্য নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: স্পিকার 
শিল্প-সাহিত্য নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: স্পিকার 
উদ্বোধনের সাড়ে ৬ মাসেও শাহজালালে ব্যবহার হচ্ছে না ই-গেট
উদ্বোধনের সাড়ে ৬ মাসেও শাহজালালে ব্যবহার হচ্ছে না ই-গেট
২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর ৭ হাজারই ঢাকার
২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর ৭ হাজারই ঢাকার

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
‘পদ্মা সেতু মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছে’
‘পদ্মা সেতু মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছে’
শিল্প-সাহিত্য নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: স্পিকার 
শিল্প-সাহিত্য নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: স্পিকার 
উদ্বোধনের সাড়ে ৬ মাসেও শাহজালালে ব্যবহার হচ্ছে না ই-গেট
উদ্বোধনের সাড়ে ৬ মাসেও শাহজালালে ব্যবহার হচ্ছে না ই-গেট
২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর ৭ হাজারই ঢাকার
২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর ৭ হাজারই ঢাকার
ঢাকাকে বিদায় জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার
ঢাকাকে বিদায় জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার
© 2022 Bangla Tribune