X
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

সড়কগুলোর নাম কেউ জানে না

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৭:২২

মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা সৈনিক এবং বুদ্ধিজীবীদের নামে রাজধানীতে শতাধিক সড়কের নাম রাখা হয়েছে অনেক দিন হলো। কিন্তু এসব সড়ক নগরবাসীর কাছে পুরনো নামেই পরিচিত। সড়কগুলোর বেশিরভাগেরই নামফলক নেই। দু-চারটিতে থাকলেও সেগুলো বেহাল। কোনওটি হেলে পড়েছে। কোনওটির ওপর পোস্টার সাঁটানো। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ অনেকের।

জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের নাম রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। কিন্তু এ নিয়ে কারও কোনও মাথাব্যথা নেই। স্থানীয়রাও জানেন না সড়কটি কার নামে। সড়কের পাশে অবস্থিত বহুতল ভবনগুলোর ঠিকানাতেও লেখা আগের সড়কের নাম।

দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় অন্তত ৯০টি সড়কের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের নামে পাওয়া গেছে। কিন্তু অধিকাংশের নেই নামফলক।

নিউমার্কেট হতে ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হল পর্যন্ত সড়কটির আগের নাম ছিল গ্রিনরোড। ২০০৭ সালের ১৪ জুলাই সড়কটির নতুন নাম হয় বীর উত্তম কে এম সফিউল্লাহ সড়ক। কিন্তু এখনও সবাই এটাকে গ্রিনরোড নামেই চেনে।

সড়কটির পান্থপথ সংলগ্ন মোড়ে একটি নামফলক দেখা গেলেও সেটার লেখাটা অস্পষ্ট। নামফলক ঢেকে আছে পোস্টারে। সড়কটির দুই পাশে থাকা প্রতিটি দোকানের সাইনবোর্ডেও লেখা আছে গ্রিনরোড।

সড়কগুলোর নাম কেউ জানে না

রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডটির নাম বদলে শহীদ বুদ্ধিজীব মুনীর চৌধুরী সড়ক রাখা হয়েছিল। সেটাকে এখনও সেন্ট্রাল রোড নামেই ডাকে সবাই। একই চিত্র ধানমন্ডির বিভিন্ন এলাকারও। ধানমন্ডির আগের ১ নম্বর সড়কটির নাম ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা সড়ক, ১৫ নম্বর সড়কটি ভাষা সৈনিক বিচারপতি আব্দুর রহমান চৌধুরী সড়ক, পুরাতন ৩৩ নম্বর সড়কটি মহিউদ্দিন আহমেদ সড়ক, পুরনো ৮-এ সড়কটি মীর্জা গোলাম হাফিজ সড়ক, আগের ১০ নম্বর সড়কটি শিল্পী হামিদুর রহমান সড়ক, ৭-এ সড়কটির নাম এম আর আখতার মুকুল সড়ক, ৮ নম্বর সড়কের সেতুটি মোনেম মুন্না সেতু, ১২ নম্বর সড়কটি ভাষা সৈনিক অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ সড়ক, ১৩ নম্বর সড়কটি ভাষা সৈনিক অধ্যাপক সাফিয়া খাতুন সড়ক, ৫/এ সড়কটি ভাষা সৈনিক কামরুদ্দীন আহমদ সড়ক, ৪/এ থেকে ভাষা সৈনিক শওকত আলী সড়ক নামকরণ করা হয়। কিন্তু নতুন নামগুলো কেউ জানে না বললেই চলে। আশপাশের বাড়িগুলোর সদর দরজাতেও পুরনো সড়কের নম্বর লেখা।

একই চিত্র গুলশান ও বনানী এলাকারও। বনানী-১ নম্বর রোডটির নাম বদলে রাখা হয় বীর বিক্রম জাফর ইমাম সড়ক, গুলশান-২ এর ৫১ নম্বর রোডটি বীর প্রতীক আইনুদ্দিন সড়ক, ৫৫ নম্বর সড়কটি বীর বিক্রম ইমাম উজ-জামান সড়ক, ১০৩ নম্বর সড়কটি কর্নেল (অব.) শওকত আলী সড়ক, ৪৮ নম্বর সড়কটি বীর প্রতীক ডব্লিউএএস ওডারল্যান্ড সড়ক, ৫০ নম্বর সড়কটি বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ সড়ক নামে নামকরণ হয়। কিন্তু এসব নামে এ সড়কগুলোকে কেউ ডাকেন না বা চিনেনও না।

১৫ বছর ধরে গুলশান এলাকায় রিকশা চালান শরীফ মিয়া। বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ সড়ক কোথায় জানতে চাওয়া হলে বলেন গুলশানে এই নামে কোনও সড়ক নেই। ৫০ নম্বর সড়কের কথা বললে চেনেন বলে জানান।

রাশেদ খান মেনন সড়কের ফলক

বাংলামোটর থেকে মগবাজার পর্যন্ত সড়কটির নাম রাশেদ খান মেনন সড়ক রাখা হয়। এই সড়কের বাংলামোটর অংশে একটি নামফলকও রয়েছে। কিন্তু ফলকটির টাইলস ভেঙে পড়েছে। লেখাও পড়া যাচ্ছে না। মৎস্যভবন মোড়ে আলহাজ অ্যাডভোকেট আহমেদ উল্যাহর ছবিযুক্ত একটি নাম ফলক দেখা গেছে। তবে সিটি করপোরেশনের নতুন নামকরণকৃত সড়কগুলোর তালিকায় সড়কটির নাম পাওয়া যায়নি। নামফলকে আহমদ উল্যাহর পরিচয়ও নেই।

ঢাকার যে মেয়র মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের নামকরণ শুরু করেন তার নামেও একটি সড়ক আছে। কিন্তু সাদেক হোসেন খোকা সড়কটিকে সবাই আর কে মিশন রোড নামেই চেনে।

অবশ্য এর ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। মৎস্যভবন হতে কাকরাইল মসজিদ হয়ে মগবাজার রেল ক্রসিং পর্যন্ত সড়কটি শহীদ এম মনসুর আলী সরণী। এর সড়কদ্বীপে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাগানবিলাস ফুল লাগানো হয়। সড়কের মৎস্যভবন সংলগ্ন অংশে একটি স্টিলের নামফলকও আছে। ফুলের বাগানে দৃষ্টিনন্দন ফলকটি নজর কাড়ে। মানুষজনও ধীরে ধীরে এটাকে মনসুর আলী রোড ডাকতে শুরু করেছে।

ওসমান গনি সরদার সড়ক

একই চিত্র এফডিসির মোড় থেকে কারওয়ানবাজার সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত। সড়কটির নাম ওসমান গনি সরদার সড়ক। এফডিসি মোড়ে দৃষ্টিনন্দন একটি নামফলকও আছে এ সড়কের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও সড়কের নতুন নামকরণ হলে নামফলক তৈরি করে দেওয়া হয়। রাস্তার মেরামত করার সময় কোনও নামফলক ক্ষতিগ্রস্ত থাকলে সেটা মেরামত করা হয়। কিন্তু অনেকেই আগের নামে ডাকে। এর জন্য দরকার প্রচারণা।’

/এফএ/
সম্পর্কিত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: পররাষ্ট্র সচিব
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: পররাষ্ট্র সচিব
ইসি গঠনের বিলে কাউকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়নি: আইনমন্ত্রী
ইসি গঠনের বিলে কাউকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়নি: আইনমন্ত্রী
একসপ্তাহে মারা যাওয়া ৭৯ জনের ৫১ জনই টিকা নেননি
একসপ্তাহে মারা যাওয়া ৭৯ জনের ৫১ জনই টিকা নেননি
নতুন খাদ্য মহাপরিচালক নিয়োগ
নতুন খাদ্য মহাপরিচালক নিয়োগ
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: পররাষ্ট্র সচিব
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: পররাষ্ট্র সচিব
ইসি গঠনের বিলে কাউকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়নি: আইনমন্ত্রী
ইসি গঠনের বিলে কাউকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়নি: আইনমন্ত্রী
একসপ্তাহে মারা যাওয়া ৭৯ জনের ৫১ জনই টিকা নেননি
একসপ্তাহে মারা যাওয়া ৭৯ জনের ৫১ জনই টিকা নেননি
নতুন খাদ্য মহাপরিচালক নিয়োগ
নতুন খাদ্য মহাপরিচালক নিয়োগ
একসপ্তাহে শনাক্ত বেড়েছে ১৮০ শতাংশ, মৃত্যু ৮৮ শতাংশ
একসপ্তাহে শনাক্ত বেড়েছে ১৮০ শতাংশ, মৃত্যু ৮৮ শতাংশ
© 2022 Bangla Tribune