X
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

করোনার চ্যালেঞ্জ ও প্রভাব মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:২৬

করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এই মহামারি পুষ্টি উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য বাধার সৃষ্টি করেছে। জনস্বাস্থ্য এবং পুষ্টির ওপর এর প্রভাবগুলোর সঙ্গে কোভিড-১৯ এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’

‘টোকিও নিউট্রিশন ফর গ্রোথ (এন ফোর জি) সামিট ২০২১’ এ ভার্চুয়াল মধ্যমে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

জাতিসংঘের পুষ্টি বিষয়ক কর্মের দশকের মাঝপথে একটি সংকটজনক সময়ে এই শীর্ষ সম্মেলনটি আসায়, তিনি অভিমত দেন যে, ‘সব ধরনের অপুষ্টির অবসান ঘটাতে একটি বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সাহসী অঙ্গীকারের সময় এসেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব নাগরিকের জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করা কঠিন কাজ। পুষ্টি নিরাপত্তায় বিনিয়োগ উচ্চ আর্থ-সামাজিক রিটার্ন তৈরি করে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে নিয়ে যায়।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

তার প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘পুষ্টি কর্মসূচিতে এর প্রভাবসহ কোভিড-১৯ এর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

দ্বিতীয়ত, তিনি উচ্চ ফলনশীল পুষ্টিকর খাবারের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গবেষণার অগ্রগতির জন্য সহযোগিতা বাড়ানোর অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। 

তৃতীয়ত, শেখ হাসিনা তার তৃতীয় প্রস্তাবে জরুরি বিপর্যয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য ব্যাংক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

চতুর্থত, প্রধানমন্ত্রী খাদ্যে পুষ্টি উপাদান বৃদ্ধির জন্য সর্বোত্তম অনুশীলন এবং দক্ষতা বিনিময়ের ওপর জোর দেন।

চূড়ান্ত প্রস্তাবে, তিনি সবাইকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জলবায়ু অভিযোজন তহবিল বিতরণ করার জন্য এবং জলবায়ুর দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এটি উন্নয়নশীল বিশ্বে খাদ্য উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ গত এক দশকে অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে অভূতপূর্ব সাফল্য এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।’

সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, তার সরকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পুষ্টি বাড়াতে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা-বেষ্টনি কর্মসূচির আওতায় দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য ভাতা, অসচ্ছল অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য নগদ ভাতা, স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজ।’

সরকারপ্রধান যোগ করেন, ‘আমরা খাদ্য নিরাপত্তা এবং উন্নত পুষ্টির লক্ষ্যে শস্য, শাকসবজি, মাছ, মাংস, ডিম এবং ফলের উৎপাদনে বৈচিত্র্য এনেছি।’

তিনি জানান, তাদের এসব কর্মকাণ্ড লভ্যাংশ দেওয়া শুরু করেছে, কারণ গত এক দশকে দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশে এ নেমে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশ শিশুর পুষ্টি অর্জনের পথে রয়েছে, কারণ অপুষ্টির হারও হ্রাস পেয়েছে এবং শিশুদের স্টান্টিং ২০০৭ সালে ৪৩ শতাংশ থেকে ২০১৭ সালে ৩১ শতাংশে এ নেমে এসেছে; যা এখন ডব্লিউওএইচও’র সমালোচনামূলক প্রান্তের নিচে। একই সময়ের মধ্যে ওয়েস্টিং ১৭ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ এবং কম ওজন ৪৩ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে এ হ্রাস পেয়েছে।‘ তিনি বলেন, ‘৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন ২ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে আঞ্চলিক হার ৫ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাপী ৬ শতাংশ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসডিজি অর্জন এবং পুষ্টির ফলাফল উন্নত করার জন্য পূর্ববর্তী পুষ্টি সম্মেলনে আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলিকে শক্তিশালী করা।’ 
 
‘আজ, আমরা ১২টি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অপুষ্টির দ্বিগুণ বোঝা মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যা এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো একটি বহু-খাতগত পদ্ধতির মাধ্যমে অর্জন করা হবে, দেশীয় ও উন্নয়ন উভয় অর্থায়নের মাধ্যমে।’

উচ্চ পর্যায়ের এই অধিবেশনে আরও বক্তৃতা করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশোদা ফুমিও, ডিআরসি প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স আন্তোইন শিসেকেদি শিলোম্বো, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশি, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস, ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ডক্টর টেড্রোস আধানম এবং ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোরসহ অন্যরা। 

এছাড়া পূর্ব তিমুরের প্রধানমন্ত্রী তাউর মাতান রুয়াক এবং এল সালভাদরের ফার্স্ট লেডি গ্যাব্রিয়েলা রদ্রিগেজের ভিডিও বার্তাও প্রচার করা হয়।

সূত্র: বাসস

 

/আইএ/
সম্পর্কিত
সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ
সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ
আসছে আরও ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
আসছে আরও ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া অনুদানের হিসাব দেননি শিল্পকলার ডিজি’
‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া অনুদানের হিসাব দেননি শিল্পকলার ডিজি’
ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি

ঢাকাকে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২২:০১

ইউক্রেন সীমান্তে সেনা সমাবেশ করছে রাশিয়া। শুধু তা-ই নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ বেলারুশেও রুশ সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে প্রয়োজনে ওই দেশ থেকেও আক্রমণ করা যায়। পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট একসঙ্গে কাজ করছে। এরকম যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে ওয়াশিংটন ও মস্কো। ইতোমধ্যে আমেরিকা তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়ে ডিমারশে লেটার দিয়েছে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ম্যানটিটস্কি পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দেখা করে তার দেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘দুপক্ষই তাদের অবস্থান জানিয়েছে।’

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কী অবস্থান নেবে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা যেকোনও সংঘাতের বিরোধী। আমরা মনে করি আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব। আমরা আশা করি সব পক্ষ সংঘাত পরিহার করে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে আসবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলটিতে রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া আগেও স্থিতিশীল ছিল না, এখনও নেই। নতুন স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিশ্বকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কম কিন্তু বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সম্পৃক্ত করার জন্য উভয়পক্ষ অনুরোধ করবে।

তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি আলোচিত হবে না। কারণ, আমেরিকা ও রাশিয়া উভয়ই ভেটো ক্ষমতার অধিকারী। সেক্ষেত্রে সাধারণ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা বেশি। যার সদস্য বাংলাদেশ। আবার জেনেভাতে মানবাধিকার কাউন্সিলে ইউক্রেন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করতে পারে। সেখানেও ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট কাউন্সিলে সদস্য হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে বাংলাদেশের কী সমস্যা হতে পারে জানতে চাইলে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়ান প্রযুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। এর কাজ অনেকটা শেষ। এক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়বে সেটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে বলা মুশকিল।

/এসএসজেড/এমআর/এমওএফ/
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ
নরেন্দ্র মোদিকে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তাসমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ
আসছে আরও ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
আসছে আরও ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া অনুদানের হিসাব দেননি শিল্পকলার ডিজি’
‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া অনুদানের হিসাব দেননি শিল্পকলার ডিজি’
টিআইর রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট: তথ্যমন্ত্রী
টিআইর রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট: তথ্যমন্ত্রী
© 2022 Bangla Tribune