X
শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৪
১৩ বৈশাখ ১৪৩১

বাংলার মাটি অনেক উর্বর, এখানে পরগাছাও জন্মে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:২০আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৪১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ দেশের মানুষের জন্য যে মানুষটার বুকভরা ভালোবাসা ছিল, যে মানুষগুলো আমাদের ঘরে বসে খেয়ে পরে গেলো, তারা কীভাবে ওই বুকে গুলি চালায়? বাংলাদেশের মাটি অনেক উর্বর। এখানে যেমন অনেক ভালো মানুষ জন্মে, তেমনি পরগাছাও জন্ম নেয়। তেমন বেইমান পরগাছাও এ দেশে ছিল। তাদের ইচ্ছা ছিল এ দেশ যেন উন্নতি করতে না পারে। এরা মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত থেকে সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা সভায় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাহাত্তরে বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পর থেকেই কিছু কিছু লোকের শুরু হলো নানা ধরনের সমালোচনা। এটা হলো না, ওটা হলো না। এই হচ্ছে না, সেই হচ্ছে না। একবারও তারা ভেবে দেখলো না, এই দেশটা ছিল পরাধীন। দুইশ বছর ব্রিটিশদের গোলামি করেছে। তারপর ২৩ বছর পাকিস্তানিদের গোলামি করতে হয়েছে। এরপর মুক্তিযুদ্ধ করতে হয়েছে। পাকিস্তানের একটি প্রদেশকে যিনি রাষ্ট্রে উন্নীত করেছেন, ধীরে ধীরে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাকে সময় দেওয়া হলো না। যারা সেই সময় এরকম কলাম লিখেছেন, আন্দোলন বা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল, তারা কী ভেবেছিল?  কী করতে চাচ্ছিলো তারা? সেটাই আমার প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর আজও পাইনি।

স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ভুট্টো নিজের চামড়া বাঁচাতে এবং বাংলাদেশে আটকে পড়া ৯৬ হাজার পাকিস্তানিকে ফেরত নিতে ও আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশে ফিরে তিনি সবার আগে ফিরে যান দেশের মানুষের কাছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের দায়িত্ব নিয়ে পরিবর্তন শুরু করেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি আদায় করে দেন। মানুষ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে এগুলো হতো না।

শেখ হাসিনা বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তান আধা ঔপনিবেশিক আমলের যে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, তা পরিবর্তন করে বাংলাদেশের গ্রামের তৃণমূলের মানুষের হাতে ক্ষমতার অধিকার দিতে চেয়েছিলেন। জনগণকে প্রজাতন্ত্রের মালিক করতে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি দিয়ে সেই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সার্বিক উন্নয়নকে কেন্দ্রীভূত না রেখে বিকেন্দ্রীকরণ করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলেন। যেন বাংলাদেশ কারও মুখাপেক্ষী না হয়। দেশের মানুষ যেন বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। যখনই তিনি ঘুণে ধরা সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ বিনির্মাণের পদক্ষেপ নেন, তখনই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

/ইএইচএস/এমআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
হাসিনা-তাভিসিন আন্তরিক বৈঠক, থাইল্যান্ডের সঙ্গে ৫ দলিল স্বাক্ষর
দেশের জন্য কাজ করতে আ.লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
বাংলাদেশ-থাইল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
প্রতিবন্ধী শিল্পীদের আয়োজনে মঞ্চস্থ হলো ‘সার্কাস সার্কাস’ নাটক
প্রতিবন্ধী শিল্পীদের আয়োজনে মঞ্চস্থ হলো ‘সার্কাস সার্কাস’ নাটক
‘শো মাস্ট গো অন’
চিকিৎসা সুরক্ষা আইন জরুরি‘শো মাস্ট গো অন’
ছাদে আম পাড়তে গিয়ে নিচে পড়ে শিশুর মৃত্যু
ছাদে আম পাড়তে গিয়ে নিচে পড়ে শিশুর মৃত্যু
বেয়ারস্টো-শশাঙ্কে হেসেখেলে ২৬২ রান করে জিতলো পাঞ্জাব
বেয়ারস্টো-শশাঙ্কে হেসেখেলে ২৬২ রান করে জিতলো পাঞ্জাব
সর্বাধিক পঠিত
সরকারি না হলেও সলিমুল্লাহ কলেজে অধ্যাপক ১৪ জন
সরকারি না হলেও সলিমুল্লাহ কলেজে অধ্যাপক ১৪ জন
মৌসুমের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়
মৌসুমের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়
পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
এগিয়েছে ‘ওমর’, চমকে দিলো ‘লিপস্টিক’!
ঈদের ছবিএগিয়েছে ‘ওমর’, চমকে দিলো ‘লিপস্টিক’!
হোটেল রুম থেকে এই ৫ জিনিস নিয়ে আসতে পারেন ব্যাগে ভরে!
হোটেল রুম থেকে এই ৫ জিনিস নিয়ে আসতে পারেন ব্যাগে ভরে!