কোনও কোনও রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন করতে পারিনি: বিদায়ী সিইসি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:৪৮আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:৫৩

নির্বাচন কমিশন শতভাগ সফল হতে পারেনি বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন ভালো হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন। দায়িত্ব পালনকালে তারা কিছু রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন করতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন। সিইসি বলেন, ‌‌‌‘শতভাগ সাফল্য কোনোদিন কেউ অর্জন করতে পারে না। আমরাও পারিনি। আইনের দৃষ্টিতে আইনের আলোকে আমরা পরিপূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্বাচন পরিচালনা করেছি। কোথাও কোথাও ব্যত্যয় হয়েছে।’

সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের লেকভিউ চত্বরে বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

কে এম নূরুল হুদা জানান, সব রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন করার জন্য তারা চেষ্টা করেছেন। তাদের প্রচুর সময় দিয়েছেন, সব কথা শুনেছেন। তিনি বলেন, ‘যেখানে যা করার করেছি। এখন অনেকে বিভিন্নভাবে বক্তব্য রাখেন, মনে হয় না তারা সন্তুষ্ট হয়েছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে এক রকম হয়, আর যদি নির্বাচনের বাইরে থেকে বলা হয় তাহলে অন্য রকম হয়। এখন দেখলাম কোনও কোনও রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন করতে পারেননি। তারা নির্বাচনে যাবে না, নির্বাচন করবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কখনও দেখিনি কে প্রার্থী। জনগণ যাকে ভোট দিয়েছে তারাই নির্বাচিত হয়েছেন।’

সিইসি জানান, চ্যালেঞ্জ ছিল সবগুলো নির্বাচন সম্পন্ন করা। করোনা পরিস্থিতির কারণে তারা শঙ্কিত ছিলেন।

ব্যর্থতা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘ব্যর্থতা এক কথায় বলা যাবে না। ইসির কাজ তিনটি সংসদ নির্বাচন করা, ভোটার তালিকা করা এবং সীমানা নির্ধারণ করা। এগুলো করা হয়েছে। ব্যর্থতা হতে পারে—অনেকগুলো প্রাণহানির ঘটনা। এই প্রাণহানির জন্য আমরা দুঃখিত। প্রাণহানিগুলো একেবারে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।’

নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করার অভিযোগ নিয়ে সিইসি বলেন, ‘মোটেই সঠিক কথা নয়। নির্বাচন কমিশন নিয়ে আগেও বিতর্ক ছিল। ভবিষ্যতে থাকবে না এটা আমরা আশা করি। আমার কাছে সিম্পল ফ্যক্টস অ্যান্ড ফিগারের বিষয়। সেটা হলো এই আমরা এতগুলো নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। এর মধ্যে কে কোন দলের আমরা দেখিনি। ভুলভ্রান্তি হতে পারে।’

৩০ ডিসেম্বর সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনের একটি। এ বিষয়ে কী বলবেন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘২০১৮ সালে নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর বিদেশি পর্যবেক্ষক, সাংবাদিকরাও সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বলেছেন নির্বাচন সুন্দর হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে যখন রেজাল্ট আসে, গেজেটে হয়ে গেলে ইসির কোনও ক্ষমতা থাকে না। তখন আদালতে যেতে হয়। আমি আহ্বান করেছি যারা সংক্ষুব্ধ তারা আদালতে যাবেন। তারা আদালতে যাননি।’

দিনের ভোট রাতে হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সিইসি জানান, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আদালতে যাওয়া উচিত ছিল। ভোটের দিন তারা কোনও অভিযোগ পাননি। অনেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। মিডিয়া বা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে তারা কোনও ধরনের অভিযোগ পাননি।

কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানান, ভোটের দিন তারা বিভিন্ন দলের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। একটি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চমৎকার নির্বাচন হয়েছে। নাম বলতে রাজি হননি। গণমাধ্যম মাঠ পর্যায়ে ছিল, পর্যবেক্ষকেরা ছিল, কেউ কোনও ধরনের অনিয়মের ইনফরমেশন দেয়নি।

শতভাগ ভোট পড়েছে অনেক কেন্দ্রে, এক প্রতীকে সব ভোট পড়েছে এ বিষয়গুলো তদন্ত করেননি—এ বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এই প্রশ্নটা পুরনো। বারবার উত্তর দিয়েছি। আবার বলি, অনেকদিন পরে এ অভিযোগ। শতভাগ ভোট অস্বাভাবিক। কিন্তু এ বিষয়ে তখন ইসির কিছু করার নেই। এটা আদালতের বিষয়। সংক্ষুব্ধ কেউ আদালতের দারস্থ হলে আদালত তখন দেখতে পারে। গেজেট হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের হাতে নেই, এটা আইন।’

তিনি বলেন, ‘আরপিও অনুযায়ী ভোটের দিন সকাল ৮টা থেকে চারটা পর্যন্ত ইসির ক্ষমতা আছে। ব্যালট বাক্সে কমিশন হাত দিতে পারে না। তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান করে সত্যতা পেলে নির্বাচন বন্ধ করা হয়।’

সিইসি বলেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন অনিয়মের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনও অভিযোগ পাননি। পেয়েছেন সংবাদ মাধ্যমে। মাহবুব তালুকদারকে বারবার বলা হয়েছে, লিখিত দেওয়ার জন্য। আমরা কিসের ভিত্তিতে নির্বাচন বন্ধ করবো। আপনি একটা লিখিত দেন। মাহবুব তালুকদার রিপোর্ট দিলে আমি বাংলায় টাইপ করেছি। তখন অলরেডি চারটা ২০ হয়ে গেছে। তখন পুরো নির্বাচন বন্ধ করার আর সুযোগ ছিল না। বরিশাল সিটি নির্বাচন খারাপ হয়েছে। কিন্তু আমরা কোনও ক্লু পাচ্ছিলাম না। লিখিত কিছু আমরা পাইনি। এ কারণে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। কোথাও কোথাও নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব কি শুধু আমার? গণতন্ত্র রক্ষা করার দায়িত্ব সবার। নির্বাচনের অংশীজন, প্রার্থী, সমর্থক, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ইসি। ব্যর্থ হয়ে থাকলে সবার ব্যর্থতা। আর সফল হয়ে থাকলে সবার সফলতা।

 

/ইএইচএস/আইএ/
সম্পর্কিত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ কী, জানালেন সিইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সিইসি দলীয় প্রতীক না থাকলেও দল থেকে মনোনয়নের ঘোষণায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে 
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গালি নতুন নয়, মনঃক্ষুণ্ন হইনি: সিইসি
সর্বশেষ খবর
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম