নিজেদের অসাবধানতার কারণেই ডেমরায় সিটি গ্রুপের প্লাস্টিকের গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন। আগুন লাগার খবর পেয়ে মহাপরিচালক সোমবার (৩০ মে) রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এর আগে, একইদিন ডেমরা কোনাপাড়া এলাকায় সিটি গ্রুপের প্লাস্টিক গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ৯ টা ১৮ মিনিটে আগুন লাগার পর রাত ১১ টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্লাস্টিক গোডাউনের যেখানে আগুন লাগে সেখানে ৬টি গোডাউন ছিল। দুটি গোডাউনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস শুরু থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছিল আগুন যেন আশপাশের গোডাউন গুলোতে ছড়াতে না পারে। আগুন লাগার পর প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্যাদি থাকায় আগুনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দৃঢ়তায় আগুন বেশি বাড়তে পারেনি। এছাড়া এ ঘটনায় বড় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই প্লাস্টিক গোডাউনে খাদ্যদ্রব্যের কোন কিছু ছিল না ছিল খাদ্য দ্রব্যের বিভিন্ন উচ্ছিষ্ট।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইন উদ্দিন সাংবাদিকদের আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর জন্য কোন ধরনের ইকুইপমেন্ট এই প্লাস্টিক গোডাউনে ছিল না, আমরা পাইনি। আমরা আমাদের নিজস্ব সরঞ্জামাদি দিয়েই পানি সরবরাহ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ধারণা করছি, বৈদ্যুতিক কোনো শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়নি বরং নিজেদের অসাবধানতা কিংবা গাফিলতির কারণেই আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, এ গোডাউনে প্লাস্টিক এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ছিল। কোনো খাদ্যপণ্য ছিল না, খাদ্যপণ্যের উচ্ছিষ্ট ছিল। অনেক পুরাতন জিনিসপত্র ছিল। আগুন বেশি ছড়াতে পারেনি। শুধু দুটি গোডাউনে আগুন লাগে। আর চারটি গোডাউন সুরক্ষিত রয়েছে আগুন থেকে।
আমাদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং আগুন থেকে দূরে থাকতে আরও সচেতন হতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে আমরা অনুরোধ জানাবো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের যেনো ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্ট যেন রাখা হয় এবং সেগুলো যেনো ব্যবহারের উপযোগী যেন থাকে। এতে কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেই প্রাথমিকভাবে তা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানান ওই মহাপরিচালক।









