যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকা সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর ট্যানারিগুলো বন্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্প মন্ত্রণালয় ইচ্ছা করে সময়ক্ষেপণ করছে বলে মনে করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ জন্য কমিটি উষ্মা প্রকাশ করেছে। কঠিন বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ট্যানারি বন্ধ রাখার জন্য আবারও সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এ ক্ষেত্রে কমিটির জিরো টলারেন্স অবস্থানের কথা জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথ না হওয়ায় সাভারের চামড়া শিল্প নগর বন্ধ করে দেওয়ার জন্য গত বছরের আগস্টে সুপারিশ করেছিল সংসদীয় কমিটি। তবে সেই সুপারিশ পুরোপুরি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, কমিটি মনে করে শিল্প মন্ত্রণালয় ইচ্ছা করে সময়ক্ষেপণ করছে। কঠিন বর্জ্য পরিশোধনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলে ট্যানারি চলতে পারে না। কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয় শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে।
বৈঠকে বায়ুদূষণ নিয়েও আলোচনা হয়। বায়ুদূষণের জন্য প্রধানত দায়ী ইটভাটা, গাড়ির জ্বালানি, নির্মাণকাজ ও শিল্প প্রতিষ্ঠান। বৈঠকে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের কোথায় কোথায় ইটভাটা আছে তার ম্যাপিং করা প্রয়োজন। অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব রয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এ কাজটি করার জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে।
সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সংরক্ষিত লাঠিটিলা বনের সাফারি পার্কে রাস্তা করা এবং উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাস্তা নির্মাণের আগে সংরক্ষিত বনের জমি পরিমাপ করা হবে। বনের জায়গায় কোনও রাস্তা হবে না। যেখানে বনের জায়গা শুরু হবে সেখানে বাউন্ডারি দিয়ে সিল মেরে দেওয়া হবে। মন্ত্রীও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন।
বৈঠকে উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে সম্পৃক্ত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও বরাদ্দ বাড়াতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ৬০-এর দশকের পর নতুন করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। এখন ১১ হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আছে। এরমধ্যে সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার বাঁধ উপকূলে, যার ৯০০ কিলোমিটারের এখন প্রায় অস্তিত্ব নেই। ১২টি জেলার প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এখন ঝুঁকিতে আছে।
সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য পরিবেশন, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, জাফর আলম, রেজাউল করিম, খোদেজা নাসরিন, আক্তার হোসেন ও শাহীন চাকলাদার বৈঠকে অংশ নেন।









