বাংলাদেশ-ফিলিপাইন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপনের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ম্যানিলায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ-ফিলিপাইন সম্পর্কের ৫০ বছর: অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাসমূহ’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়ান সেন্টারের জিটি-টয়োটা অডিটরিয়ামে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এফ এম বোরহান উদ্দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন অভিযাত্রা, ভবিষ্যৎ রূপকল্প ও অনন্য সাফল্যগুলো তুলে ধরেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই ফিলিপাইন সরকার ও জনগণের দেওয়া সমর্থনের কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশ-ফিলিপাইনের মধ্যে বিশেষ করে কৃষি, ওষুধ, শিক্ষা, আইসিটি, ট্যুরিজম এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমুখী সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোকপাত করেন। সেই সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কে তার অভিমত সবার সামনে তুলে ধরেন।
ক্যাম্পাস উপাচার্য অধ্যাপক ফিদেল নেমেঞ্জো স্বাগত বক্তব্যে ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে বঙ্গবন্ধুর ম্যানিলায় সংক্ষিপ্ত সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ওই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের শক্ত ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দুটি দেশ হিসেবে সামাজিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
ফিলিপাইন পররাষ্ট্র দফতরের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মারিয়া আনা লিলিয়া বলেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ-ফিলিপাইনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি এ বছর বাংলাদেশ-ফিলিপাইনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় উন্নীতকরণে আশা করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে কোভিড-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য, কৃষি, ওষুধ ও বাণিজ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান সেন্টারের ডিন অধ্যাপক হেনেলিতো সেভেলিয়া। অধ্যাপক হেনেলিতো বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে ভাষা আন্দোলনের ভূমিকার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও নিবিড় করার ওপর জোর দেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ-ফিলিপাইনের যৌথ ভূমিকা প্রয়োজনীয়তার ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করেন।
জলবায়ু ও অভিবাসনসহ আঞ্চলিক শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনকে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিনিয়োগ ও ব্যবসা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।









