সেমিনারে বিশ্লেষকরা

যুক্তরাষ্ট্রের ‘বার্মা অ্যাক্ট’ আঞ্চলিক সংঘর্ষ বাড়াতে পারে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫:৫৭আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬:৪৬

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে গেলো বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্মা অ্যাক্ট’ পাস হয়েছে। এই আইনের কারণে ওই অঞ্চলে সংঘর্ষ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এই অবস্থায় কোনও পক্ষে শামিল না হওয়া বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বেসরকারি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আয়োজনে ‘রিস্টোরিং পিস ইন মিয়ানমার: টু ইয়ারস আফটার মিলিটারি ক্যু’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, ‘সামরিক শাসন অবসানের মাধ্যমে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে এবং এজন্য সব পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, ‘এ অঞ্চলের সাংঘর্ষিক ভূ-রাজনীতি অনেক পুরনো। এখানে ভারত চীনকে কোণঠাসা করা চেষ্টা করছে। আবার চীন ভারতকে একদিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ‘বার্মা অ্যাক্ট’ আঞ্চলিক সংঘর্ষ বাড়াতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের ‘বার্মা অ্যাক্ট’ এ অঞ্চলের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হয়তো আমাদের জন্য ভালো হবে না। এক্ষেত্রে আমার বিবেচনায় আমাদের হাতে তিনটি অপশন আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলতে পারি, এই অঞ্চলে আমরা সংঘর্ষ চাই না। তোমরা যদি সংঘর্ষ করতে চাও, নিজেদের এলাকায় করো। আমার বিবেচনায় এটি সবচেয়ে ভালো অপশন।‘

অন্য দুটি অপশনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমরা প্রতিরক্ষা-কেন্দ্রিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করার নীতি অনুসরণ করতে পারি। দ্বিতীয়ত, এই সংঘর্ষে সরাসরি অংশ নিতে পারি এবং সেক্ষেত্রে চীন অথবা ভারত–যেকোনও একটি দেশকে বেছে নিতে হবে, কারণ এখানে দুইপক্ষের সঙ্গেই থাকা যাবে না।‘

মিয়ানমারের প্রবাসী সরকারের ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জো ওয়েই সো বলেন, ‘আমি রাজনীতিবিদ নই, একজন চিকিৎসক। কিন্তু আমি এখানে এসেছি, কারণ এটি জনগণের যুদ্ধ।’

ন্যাশনাল ইউনিটি গর্ভনমেন্টের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জো ওয়েই সো

রোহিঙ্গাদের এনইউজি কীভাবে দেখে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের লোক এবং তারা আমাদের একজন।’

মিয়ানমারের ৫০ শতাংশেরও বেশি অঞ্চল এনইউজি নিয়ন্ত্রণ করে এবং এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি সামরিক সৈন্য মারা গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম এবং এখন আমরা অর্ধেক পথ অতিক্রম করেছি। বর্তমানে আমাদের সৈন্য সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি এবং আমরা অবশ্যই এই যুদ্ধে জিতবো।’

আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রতিনিধি হ্লা মিন্ট বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এখন এক হচ্ছে। কারণ আমরা বুঝতে পেরেছি, এক না থাকলে আমাদের সমস্যা হবে।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ইস্টার্ন অ্যাপ্রোচ (চীনের নীতি) অনুসরণ করছে, যা ব্যর্থ হয়েছে। এখন আমাদের পশ্চিমা নীতি (বার্মা অ্যাক্ট) অনুসরণ করা প্রয়োজন।’

/এসএসজেড/ইউএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
নাফ নদীতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব, সীমান্তে আতঙ্ক
রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিলো ফিনল্যান্ড
মোদির আমন্ত্রণে ভারত সফরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক